টানবাজারে কেমিক্যাল দাহ্য পদার্থ : ১০দিনে নোটিশও পায়নি ব্যবসায়ীরা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৩ পিএম, ৭ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

টানবাজারে কেমিক্যাল দাহ্য পদার্থ : ১০দিনে নোটিশও পায়নি ব্যবসায়ীরা

চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রায় ৭০ জন নিহতের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে জনবসতি এলাকায় কোনো ধরণের দাহ্য পদার্থের গোডাউন না রাখা হয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নারায়ণঞ্জের টানবাজারে দাহ্য কেমিক্যাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন। অভিযান শেষে টানবাজারের কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির অনুরোধে ১০ দিনের সময় দিয়েছিলেন অভিযান পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট যাতে টানবাজার থেকে সব ধরনের দাহ্য পদার্থ সরিয়ে ফেলা হয়। তবে দশ দিন পূর্ণ হলেও এখনো পর্যন্ত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।

বৃহস্পতিবার ৭ মার্চ ১০ দিন সময়ের শেষ দিনে টান বাজারের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় এমন তথ্য। ব্যবসায়ীদের দাবি এখনো কোন নোটিশ তাদের দেওয়া হয়নি। বা কোন কোন কেমিক্যাল তাঁরা রাখতে পারবে না এরকম কোনো নির্দেশনাও তাদের দেওয়া হয়নি। যে কারণে এখনো অধিকাংশ দোকানেই কেমিক্যাল বোঝাই ড্রাম দেখা গেছে। ফলে জেলা প্রশাসনের করা অভিযানের কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন কেমিক্যাল ব্যবসায়ী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমাদের যে সংগঠন আছে তারা এখনো আমাদেরকে কোনো নোটিশ দেয়নি। কয়েকজনের থেকে শুনেছি যে দোকানে দাহ্য কেমিক্যাল না রাখার জন্য বলেছেন। ব্যবসায়ীদের সাথে নাকি তাঁরা বসবে এমনটাও শুনেছি। কিন্তু কবে বসবেন তা জানি না।

এসময় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, এখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একদিনের না। যুগ যুগ ধরেই এখানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আছে। হুট করে এখান থেকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা সম্ভব না। নারায়ণগঞ্জে আর জায়গাও নেই। এখান থেকে সরিয়ে নিলে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য থাকবে না। সেই দিক বিবেচনায এখান থেকে আবাসন ভবনগুলা সরিয়ে নিলে ভালো হয়। আর এর থেকেও বড় কথা আগুন যে কোনো জায়গায় লাগতে পারে। তাই সমস্যাগুলো ধরিয়ে দেয়া।

এসময় তাঁরা আরো বলেন, কয়েক দিন আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করেছেন। যদিও আমাদের ভুলের কারণেই জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু জরিমানা করলে এর সমাধান হবে না। আমাদের সচেতনতার অভাব আছে। আবার অনেক বিষয় আছে যেগুলো আমরা জানি না। সমস্যার গভীরে যেতে হবে। এখানে কোন কেমিক্যাল কি পরিমান রাখা হবে তা অনেক ব্যবসায়ী জানে না। এগুলো থেকে কি পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে তা সম্পর্কেও অনেকে জানে না। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের সচেতন করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। মাঝে মাঝে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মানুষ যখন ক্ষতি সম্পর্কে জানবে, তখন নিজেই সচেতন হবে। আর এরকম কাজ করবে না। জরিমানা করারও প্রয়োজন পরবে না।

ইয়ান মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলায়মানের সাথে যোগাযোগ করা হলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, ‘এখানে যত রকম কেমিক্যাল আছে তা দাহ্য পদার্থ না। যদি কোন প্রতিষ্ঠানে দাহ্য পদার্থ থেকে থাকে তাহলে তা সরিয়ে ফেলার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি জানান, কয়েক দিন আগে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আমরা তখন সময় চেয়েছিলাম এবং ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের ১০ দিনের সময় দিয়েছিলেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করেছি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে যাতে কোনো দাহ্য পদার্থ না রাখা হয়। যদি কেউ রাখে তাহলে তার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় আমরা নেব না। কারণ আমরাও চাই যাতে এখানে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও