মৃত্যুর গুজবে ‘চৈতী নীট গার্মেন্টে’ শ্রমিকদের বিক্ষোভ সংঘর্ষ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৫ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মৃত্যুর গুজবে ‘চৈতী নীট গার্মেন্টে’ শ্রমিকদের বিক্ষোভ সংঘর্ষ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক মৃত্যুর গুজবে বিক্ষোভ করেছে ওই কারখানার শ্রমিকেরা। এসময় তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়ক অবরোধ করে কয়েক গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সহ অন্ত্যত ১০জন আহত হয়েছে।

২১ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ত্রিপুরদী এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের পাশে চৈত্রী গ্রুপের ‘চৈতী নীট কম্পোজিট লিমিটেড’ নামে কারখানায় ওই ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের উভয় পাশে ৫ কিলোমিটার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল ৩টায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও শ্রমিক সূত্র জানান, বেলা সাড়ে ১২টায় কারখানার সুইং সেকশনের শ্রমিক রিনা আক্তার (৩৫) বাথরুমে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরে। এসময় তাকে দেখতে গিয়ে শেফালী বেগম (২৬) ও নাজমা আক্তার (২৫) নামে আরো দুই শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে মালিকপক্ষের লোকজন তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর মধ্যে কারখানায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে তিন শ্রমিক মারা গেছে। এ খবর পেয়ে শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিত শান্ত করতে কারখানা ছুটি দিয়ে দেয় মালিক পক্ষ। কিন্তু কারখানা থেকে বের হয়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকেরা বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও ৫ থেকে ৬টি যানবাহন ভাঙচুর করে।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও শিল্পপুলিশ ঘণ্টাস্থলে গিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এতে শ্রমিক পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কায়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুঁড়তে থাকে। সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ১০জন শ্রমিক আহত হয়।

আহতরা হলো নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলম, সোনারগাঁও থানা পরিদর্শক আলমগীর হোসেন, উপ-পরিদর্শক তানভীর হাসান, আব্দুল হাসান, নাজমুল হাসান, মাসুদ রানা, হাসান সহ শিল্প পুলিশের কনস্টেবল রুবেল ও জুলহাস। আর শ্রমিকদের তাৎক্ষনিক কোন নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদেরকে কারখানার ভেতর ও স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আহত তিন নারী শ্রমিকে সোনারগাঁয়ের আল বারাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

কারখানার শ্রমিক হাসান জানান, রিনা আক্তারে হাত পা ওড়না দিয়ে বাধা অবস্থায় বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয়। এ দৃশ্য দেখে বমি শুরু করে আরো দুই শ্রমিক। এক পর্যায়ে তারাও অজ্ঞান হয়ে পরে যায়। তখন শ্রমিকদের কিছু না বলে তিনজনকে কারখানা থেকে বের করে নিয়ে যেতে চেষ্টা করা হয়। এতেই শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ ও গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। এতে ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিক আহত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলম বলেন, অতিরিক্ত গরমে তিন নারী শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন শ্রমিকদের কাছে খবর যায় ওই তিন নারী শ্রমিক মারা গেছে। এতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ৫টি গাড়ি ভাঙচুর ও ১টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকাগুলি ও কয়েকটি টিয়ারশেল ছুড়া হয়। এতে ৬জন পুলিশ আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

‘চৈতী নীট কম্পোজিট লিমিটেড’ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান জানান, তিন নারী শ্রমিক মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষনিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। একজন ডায়াবেটিকের কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অন্য দুইজন ওই নারীকে দেখে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিন নারী শ্রমিককে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন সুস্থ্য আছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও