শাহ সিমেন্টের বিরুদ্ধে নদী দখল ও ভরাটের অভিযোগ, আটক ১

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৪ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

শাহ সিমেন্টের বিরুদ্ধে নদী দখল ও ভরাটের অভিযোগ, আটক ১

শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় শাহ সিমেন্ট কারখানা কর্তৃক নদী ভরাট ও দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তারা ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে গেলে এহেন চিত্র দেখতে পায়। এসময় ভেকু দিয়ে মাটি ফেলে নদীর তীর ভরাট ও দখল করার কার্যক্রম চলছিল। পরে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তারা ওই ভেকু চালক ওমর ফারুককে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ধলেশ্বরী নদীর মীরকাদিম পৌরসভা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানে যায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের একটি টিম। দুপুরে শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় শাহ সিমেন্ট কারখানার সামনে থ্রী লাইট নেভিগেশন নামের একটি ভাসমান জেটিতে মাটি বোঝাই অবস্থায় ভেকু দিয়ে নদীর তীর ভরাট করতে দেখতে পায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তারা। এসময় ভেকুটির চালক ওমর ফারুককে আটক করা হলে তিনি জানান, শাহ সিমেন্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে এখানে মাটি ভরাটের নির্দেশ দিয়েছে। ১৫দিন ধরে তিনি এখানে ভেকু দিয়ে মাটি ফেলছেন। তবে নির্দেশদাতার নাম তিনি জানাতে পারেননি। পরে ভেকুটির চালক ওমর ফারুককে আটক করে উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া হয়। বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের কর্মকর্তারা শাহ সিমেন্টের সামনে গেলে আবুল খায়ের গ্রুপের (শাহ সিমেন্ট) ম্যানেজার লজিষ্টিক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে আসেন। পরে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোঃ গুলজার আলী তাদেরকে নদী ভরাট ও দখলের কারণ জানতে চান। তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নদীর ভরাটকৃত অংশ ড্রেজার দিয়ে কেটে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোঃ গুলজার আলী বলেন, শাহ সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে চলেছে। তাদেরকে আমরা আরসিসি গাইড ওয়াল বেসিন নির্মাণের অনুমতি না দিলেও তারা অনুমতি ছাড়াই সেটি নদীর মধ্যেই নির্মাণ করেছে। আবার সেই স্থান থেকে উত্তোলনকৃত মাটি নদীর তীরে ফেলে ভরাট কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরা শাহ সিমেন্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছি নদীর ভরাটকৃত অংশ ড্রেজার দিয়ে কেটে অবমুক্ত করার মুচলেকা দিলে আটককৃত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হবে। নয়তো তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আবুল খায়ের গ্রুপের (শাহ সিমেন্ট) ম্যানেজার লজিস্টিক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আরসিসি গাইড ওয়াল বেসিন নির্মাণের অনুমতি আমাদের রয়েছে। আমরা নদীর তীরে মাটি ফেলার নির্দেশ দেইনি। আমরা একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে মাটি কাটার কাজ দিয়েছিলাম। এটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভুলবশত করেছে। নদীর তীর ভরাট করার বিষয়টি আমাদের জানা ছিলনা। তারা ইতিমধ্যে ড্রেজার দিয়ে নদীর ভরাটকৃত অংশ অবমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও