নারায়ণগঞ্জের ইটভাটাগুলোতে অভিযানে বন্ধ হচ্ছে না দূষণ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৬ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জে প্রায়শই অভিযান পরিচালনা করে আসছে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শুরু করে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার পরও ভাটাগুলোর কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। পরিবেশবিদরা ইটভাটা নিয়ে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এক কথায় ইটভাটাগুলো যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে দিন দিন। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় বাংলাদেশের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম উঠে এসেছে। এই তালিকায় রাজধানী ঢাকাকে টপকে গেছে নারায়ণগঞ্জ।

সবশেষ সদর উপজেলার ফতুল্লায় অনিয়মের অভিযোগে ১২টি ইটভাটাকে সাড়ে ৪১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৭ এপ্রিল দুপুর হতে সন্ধা পর্যন্ত ফতুল্লার বক্তাবলীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) প্রকৌশলী কাজী তামজীদ আহম্মেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে গত ১২ মার্চ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ২৫ ইটভাটাকে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিয়ম না মেনে ইটভাটা পরিচালনা করায় এ জরিমানার পাশাপাশি একটি ইটভাটার ইট ভেকু দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইট ভাটা ফতুল্লা এবং রূপগঞ্জে। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ার বিষাক্ত গ্যাসে অস্থির হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীরা জানান, ফতুল্লার পাগলা, ধর্মগঞ্জ, বক্তাবলী ও আলীরটেক এলাকায় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রনে চলছে প্রায় শতাধিক ইটভাটা। এসব ইট ভাটায় সরাসরি কাঠ ও কয়লা পুড়ানো হয়। যার ফলে ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পশু পাঁখি গাছপালাসহ মানব দেহের মারাত্মক ক্ষতি করছে। গাছে ফুল ধরে ঝড়ে পড়ে। এছাড়া ধোঁয়া যখন নাকে মুখে প্রবেশ করে তখন বুক গলায় ঝালাযন্ত্রনা হয়। হাঁচি কাশি বেড়ে যায়। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠে।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক নয়ন মিয়া জানান, নারায়ণগঞ্জের সাড়ে তিনশ ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টি ইটভাটা নিয়ম মেনে চলছে। আর ১২৮ টি ইটভাটা আদালতে রিট করে পরিচালনা করছে। এছাড়া বাকী সব ইটভাটাই অবৈধভাবে চলছে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের বায়ু দুষণের মূলে রয়েছে এসব ইটভাটা। ইটভাটাগুলোতে ১২০ এফসি ফিক্সড চিমিনি ব্যবহার করার কারণে পরিবেশ দূষণ মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করেছে। যার কারণে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কাবর্নমনোঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, এসপিএমসহ মিশে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করছে। ফলে ইটভাটাগুলোর আশপাশের সাধারণ মানুষ কিডনি ও শ্বাসকষ্ট সহ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের সব ইটভাটাকেই নিয়মের আওতায় আনা হবে।

বক্তাবলী ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, অবৈধ ভাবে ইটভাটা পরিচালনা করবে এটা আমি প্রত্যাশা করি না। সরকারের নিয়ম কানুন মেনে সকল মালিকরা যেন ইটভাটার ব্যবসার পরিচালনা করেন সেই জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও