৪ মাসের ব্যবধানে গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৪ পিএম, ৬ মে ২০১৯ সোমবার

৪ মাসের ব্যবধানে গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা

মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে একশ টাকা। নতুন বছরের শুরুতে যেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ছিল ৫০০ টাকা সেখানে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকা দরে। সোমবার ৬ মে শহরের অন্যতম বৃহৎ দ্বিগুবাবুর বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে গরুর মাংসের দাম বাড়তে থাকে। ৪৫০ টাকার এক কেজি গরুর মাংস প্রথমে ৪৮০ টাকা। কিছুদিন পর ৫০০ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে হয়ে যায় ৫২৫ টাকা। এরপর মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে এক লাফে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করতে থাকেন মাংস ব্যবসায়ীরা। তবে রমজান মাস উপলক্ষে গরুর মাংসের দাম সরকার ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করলেও এর মধ্য দিয়ে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৫ টাকা বাড়িয়ে নিয়েছেন মাংস বিক্রেতারা। সোমবার কোনো কোনো জায়গায় প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

জানা গেছে, সোমবার রাজধানীতে রমজান মাসে দেশি গরুর মাংস ৫২৫, বোল্ডার (বিদেশি) গরুর মাংস ৫০০, মহিষ ৪৮০, ছাগল ও ভেড়ার মাংস ৬৫০ এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের রোজায় গরুর মাংসের মূল্য ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গত বছর নির্ধারিত মূল্য ছিল বোল্ডার গরুর মাংস ৪২০, খাসি ৭২০ টাকা। তবে ভেড়া বা ছাগলের মাংস গতবারের মতো এবারও প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা করা হয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সীমান্তে চাঁদাবাজি এবং গাবতলী পশুর হাটে ইজারাদার গরু প্রতি ১০০ টাকা খাজনার বদলে জোর করে ৮০০০ টাকা আদায় করছেন। তাই বাড়তি দামে গরুসহ গবাদিপশুর মাংস বিক্রি করা ছাড়া তাঁদের উপায় নেই। চাঁদাবাজি বন্ধ করা হলে গরুর মাংস ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান মাংস ব্যবসায়ীরা। 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের রমজান মাসের আগে প্রতি কেজি গরুর মাংস ছিল ২৫০ টাকা। একইভাবে ২০১৪ সালের রমজানে ২৮০ টাকা, ২০১৫ সালের শুরুতে ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হতো। কিন্তু ভারতের বিজেপি সরকার সীমান্ত দিয়ে গরু আনা বন্ধ করে দিয়েছে এই কারণ দেখিয়ে গরুর মাংসের দাম উঠে যায় ৩৭০ টাকায়। এরপরই দেশে অসংখ্য গবাদিপশুর খামার গড়ে ওঠে।

ভারত থেকে গরু আসা বন্ধের কারণ দেখিয়ে ২০১৭ সালে রমজান মাসে গরুর মাংসের দাম আরও কয়েক দফা বাড়ান মাংস বিক্রেতারা। ওই বছর রমজানে রাজধানীতে গরুর মাংসে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪২০ টাকা।

সবশেষ ২০১৮ সালের রমজানের আগে গরুর মাংসের দাম ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি করেন মাংস বিক্রেতারা। কিন্তু এবছর রোজার আগেই দাম বেড়ে দাড়িয়েছে ৬০০ টাকা।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও