মেঘনায় গুড়িয়ে দেয়া হলো আমান গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৬ পিএম, ২৩ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মেঘনায় গুড়িয়ে দেয়া হলো আমান গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকায় মেঘনা নদী ভরাট  করে গড়ে তোলা আমান গ্রুপের আমান ইকোনোমিক জোনের নির্মানাধীন ফুড এন্ড বেভারেজ কোম্পানির অবৈধ স্থাপনা ও বাঁশের পাইলিং উচ্ছেদ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে নদীর কয়েক হাজার বর্গফুট ভরাটকৃত জায়গার বালু নিলামে ৯৬ লাখ ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়। অপরদিকে চররমজান মৌজা এলাকায় বসন্ধুরা গ্রুপের ২টি পাকা সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া নদী ভরাটের কাজে ব্যবহৃত ৪টি ড্রেজার পাইপসহ ও ২টি বাঁশের জেটি গুড়িয়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার ২৩ মে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩ টা অবধি বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এবং নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী ও উপ পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহর তত্বাবধায়নে তত্ত্বাবধানে চতুর্থ দিনের মতো এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এসময় দু’টি এক্সাভেটর (ভেকু), দু’টি উচ্ছেদকারী জাহাজ, একটি টাগবোট, বিপুল সংখ্যক পুলিশ আনসার ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিআইডব্লিউটিএ`র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক জানান, নদীর তীরে পণ্য লোড আনলোডের অনুমতি থাকলেও শিল্প প্রতিষ্ঠান দু’টি নদীর জায়গা ভরাট ও দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ৬ দিন ব্যাপী চলবে। যার মধ্যে গত ৪ দিনে আমরা আল মোস্তফা গ্রুপের পলিমার ইন্ড্রাষ্ট্রিজের একটি ৪ তলা ভবন ও একটি ২ তলা ভবন, ১৫টি পাকা দোকান, ইউনিক গ্রুপ, ফ্রেশ গ্রুপ, আব্দুল মোনেম গ্রুপ, খান ব্রাদার্সের জাহাজ নির্মান প্রতিষ্ঠানের ৬শ’ ফুট প্রশস্ত সীমনা প্রাচীর স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছি। ১ম দিনে জব্দকৃত বালু, পাথরসহ মালামাল নিলামে তুলে ৫ লাখ ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। ৩য় দিনে ইউনিক গ্রুপের প্রায় ৯ লক্ষ ঘনফুট ভরাটকৃত বালু জব্দ করে নিলামে ২৯ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। চতুর্থ দিনে আমান গ্রুপের ভরাটকৃত জায়গার বালু নিলামে ৯৬ লাখ ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়। এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপেরও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ`র নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদীর নির্ধারিত সসীমানার অভ্যন্তরে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে নদী দখল করেছে, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মেঘনা নদীতে আরো দুই দিন অভিযান চালিয়ে ছয়দিন ব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযান সমাপ্ত করা হবে। (শব্দ-৩২৪) (ছবি আছে)


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর