মোবাইল কোর্ট আসছে দোকান বন্ধ করে পালাও

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ২৩ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মোবাইল কোর্ট আসছে দোকান বন্ধ করে পালাও

রোদেলা দিন। কোথাও কোন মেঘের দেখা নেই। এমনকি সপ্তাহের ছুটির দিনও না। তার মধ্যে দুপুরে বেলায় হঠাৎ সব দোকান বন্ধ হতে শুরু করেছে। একটি দোকানের সঙ্গে সঙ্গে অন্য সব দোকানও বন্ধ করে চলে যাচ্ছেন বিক্রেতারা। এ রমজানে যেখানে বেচাকেনা করে বিক্রেতারা বিশ্রাম করার সুযোগ পায় না সেখানে দোকান বন্ধ করে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন,‘কথা বালার সময় নাই, মোবাইল কোর্ট আসতেছে’।

২৩ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১নং রেল গেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এ দৃশ্য। প্রায় ঘন্টার বেশি ওইভাবে সব দোকান বন্ধ ছিল। যার বেশির ভাগই মুদির সদাইয়ের দোকান।

জানা গেছে, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় বাজের দ্রব্য মূল্যের দাম, ভেজাল পণ্য বিক্রি, হাইকোর্ট থেকে নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি সহ বিভিন্ন বিষয়ে তদারকির জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয় রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই। এরপর থেকে বিভিন্ন খাবার হোটেল, ইফতার, মুদির দোকান, মাংসের দোকান, স্টেশনারী সহ পাইকারী দোকানেও অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেল, মুদির দোকান, স্টেশনারী দোকান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিপুল পরিমান জরিমানা করা সহ শাস্তি প্রদান করেন। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের পণ্য জব্ধ করে ধ্বংস করা হয়। এর পর থেকে মোবাইল কোর্টে আসার নাম শুনলেই আতঙ্কে থাকে ব্যবসায়ীরা। ফলে জরিমানা কিংবা শাস্তির ভয়ে সবাই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

দোকান ও নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১নং রেল গেট এলাকার ব্যবসায়ী বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটরা দোকানে ঢুকলেই জরিমানা করেন। কোন সময় পণ্যের মেয়াদ নাই বলে। আবার কখনো কোন পণ্য বিক্রি করছি বলে। আবার কখনো ব্যবসার লাইসেন্স সহ বিভিন্ন কাগজপত্রের অজুহাতে। সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। এক মাসের মধ্যে কয়েক বারে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিয়েছি। কিন্তু এ একমাসে লাভও হবে না ১০ হাজার টাকা। কারণ এবার ব্যবসার অনেক খারাপ। বেচাকেনা নেই। শেষ সময়ে যদি বেচাকেনা হয় তাহলে বেঁচে যাবো না হলে মরতে হবে।

পাশের দোকানদার তিনিও নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট যেসব জরিমানা করে তাতে কোন পন্য বিক্রি করা যাবে না। মূলত তারা দোকানে ঢুকেছে সেহেতু জরিমানা করবেই। তার জন্য কোন একটা অজুহাত খুঁজবে। অনেকে পণ্যে মেয়াদ চলে যায় সেটা আমরাও জানি। কিন্তু কোম্পানি ফেরত নিবে সেজন্য দোকানে রেখে দিতে হয়। এখন যদি সেটা মোবাইল কোর্ট পেয়ে যায় তাহলে জরিমানা দিতে হবে। অন্যথায় জেল দিয়ে দিবে। কিন্তু এ পণ্যটা বাইরে ফেলে দিলে আমার ব্যবসার ক্ষতি হবে। এখন কি করার বলেন। তাই দোকানদার সবাই জরিমানা ও শাস্তির ভয়ে পালিয়ে যায়।

বাজারে আসা রমিজ উদ্দিন বলেন, এসকল ব্যবসায়ী সবাই দুর্নীতিবাজ। আর তাই তারা দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যাচ্ছে। এটাই তার প্রমাণ। প্রশাসনের উচিত এসব দোকানগুলোতে রোজ অভিযান পরিচালনা করা। আর শুধু রোজার মাস নয় সারা বছর এ অভিযান চালিয়ে যাওয়া। তাহলেই আমরা সাধারণ মানুষ কোন বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হবে। ভেজাল কিংবা মেয়াদ উর্ত্তিণ পণ্য কিনতে হবে না। এ অভিযান ধারাবাহিক ভাবে করা হোক।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর