রোজার শুরুতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কড়াকড়ি শেষে ম্লান

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৬ পিএম, ২ জুন ২০১৯ রবিবার

গত ২৩ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে দোকানদাররা দুপুরেই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
গত ২৩ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়ে দোকানদাররা দুপুরেই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এতেই শেষ হচ্ছে রহমতের রমজান মাস। আর রহমতের মাস দিন শেষ হচ্ছে ততই দুষ্কৃতিকারী ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। ফলে নকল পণ্য, নিম্ন মানের পণ্য, অতিরিক্ত দাম, বিক্রি নিষিদ্ধ পন্য সহ ভেজাল পণ্যের রমরমা ব্যবসা করছে তাঁরা। যারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নাম শুনে দোকনে তালা দিয়ে পালিয়ে যেতো তারাই এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। তাই ক্রেতাদের দাবি, শুধু মাত্র রমজান মাস কিংবা রমজানের শুরুতেই অভিযান করলে হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান প্রতি মাসে চালিয়ে যেতে হবে।

জানা গেছে, রমজানের শুরু থেকেই ভেজাল পণ্য দ্রব্য বিক্রি, অতিরিক্ত দাম, বিক্রি নিষিদ্ধ পণ্য সহ মানহীন পণ্য বিক্রির উপর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের ফলে নিম্ন মানের খেজুর, মশলা, মাছ-মাংস, রঙ-কেমিক্যাল মেশানো জুস, ভেজাল সস সহ বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। এছাড়াও এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের ফলে মেগাশপ স্বপ্ন, সুগন্ধা প্লাস, মাউরা হোটেল, মাংসের দোকান, মুদির দোকান, মিষ্টির দোকান সহ বিভিন্ন নামী দামী দোকানকে জরিমানা করা হয়। এরপর থেকে অভিযান শুরু সংবাদ শুনলেই দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যেতো ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এ অভিযানের ফলে উপকৃত হতো সাধারণ মানুষ।

দিগুবাবু বাজারের ক্রেতা ফয়সাল জানান, রোজার শুরুতে মোবাইল কোর্ট থাকায় আমাদের জন্য ভালো ছিল। কারণ আমরা ভেজাল ও নিম্ন মানের পরিবর্তে ভালো পণ্য কিনতে পেরেছি। এজন্য অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়নি। কিন্তু যেই রোজা শেষ হয়ে আসছে আবার নিম্ন মানের পণ্য বিক্রি, ভেজাল পণ্য বিক্রি, অতিরিক্ত দাম নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এগুলো দেখার জন্য এখন আর মোবাইল কোট নেই।

হাসিনা বেগম বলেন, মোবাইল কোর্টের অভিযানে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু ঈদ না আসতেই আবারও মাংসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও ভেজাল মাংস বিক্রি করছে।

খসরু বলেন, রোজার শুরু থেকেই সব দোকানদার সাবধান হয়ে গিয়েছিল। ভেজাল তেল কিংবা পোড়া তেল দিয়ে ইফতার তৈরি করতো না। কিন্তু শেষ সময় এসে এ দু নাম্বারী কাজ শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রশাসনের কোন অভিযান নেই।

তিনি আরো বলেন, অভিযান শুধু রমজান মাসের জন্য নয়। সারা বছর মানুষ খাবার কিনে খায়। তাই অভিযান প্রতি মাসে থাকতে হবে।

কালীরবাজার যাওয়া ক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, অভিযানের সময় দেখা যেতো ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যেতো কিন্তু তারাই এখন রাত দিন ব্যবসা করছে। তাতেই বুঝা যায় এ ব্যবসায় সবাই দুনীর্তি করতো। এখন মোবাইল কোর্ট না থাকায় তাদের সুবিধা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও