নারায়ণগঞ্জে সংরক্ষণের অভাবে ৩০ ভাগ সবজি নষ্ট হচ্ছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ২৫ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে সংরক্ষণের অভাবে ৩০ ভাগ সবজি নষ্ট হচ্ছে

কাঁচা সবজি ও ফল-মূল নির্দিষ্ট সময় শেষে আর সংরক্ষণ করা যায় না। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হয় কাঁচা এ সব বস্তুর বিষয়ে। আর এই নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবস্থা নিতে না পারায় নারায়ণগঞ্জের সবজির বাজারে ৩০ ভাগ সবজি নষ্ট হয়। বর্তমানে বাজারে আসা ৬০ ধরনের সবজি সংরক্ষণ করতে না পারলে সরাসরি ক্ষতি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনি উচিত বাজার পর্যায়ে কৃষিপণ্য সংরক্ষন ও গুদামজাত করার ব্যবস্থা করা।

নারায়ণগঞ্জে শাক-সবজির দুটি বড় বাজার রয়েছে। এই দুইটি ছাড়াও জেলার অন্যান্য স্থানে বড় আরো কয়েকটি বাজার রয়েছে। যাতে প্রতিদিন কয়েক টন সবজি বেচাকেনা হয়। শহরে পাইকারী ও খুচরা সবজির বাজার দিগুবাবুর বাজার। এই বাজার থেকে কয়েক টন সবজির চাহিদা মেটায় পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা। অথচ এই বাজারেই প্রতিদিন কয়েক’শ কেজি সবজি নষ্ট হচ্ছে সংরক্ষনের অভাবে। যা সংরক্ষন করা গেলে কয়েক হাজার মানুষের সবজির যোগান মেটানো সম্ভব হতো।

কবির উদ্দিন মিয়া বলেন, প্রতিদিন কিছু সবজি অবিক্রিত অবস্থায় থেকে যায়। যা নষ্ট হয়ে যায় পরদিন ভোর হওয়ার আগেই। আর তখনি এসব সবজি ফেলে দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এমন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ফল-মূল, আর শাক-সবজি নষ্ট হয়ে থাকে। এই সবজি গুলো যদি অন্তত গরিবদের মাঝে বিলি করা যেত তাহলেও কিছু মানুষের অন্তত খাদ্যাভাব দূর করা যেত। কিন্তু দেখার কেউ নাই।

জমির আলি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের লক্ষাধিক লোকের সবজির যোগান আসে এই দিগুবাবুর বাজার থেকে। অথচ এখানে একটি হিমাগার নাই। যেখানে শাক-সবজি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষন করা যেগ। এর বাইরেতো সচেতনতার অভাবতো রয়েছেই। শাক-সবজি লোড আনলোডে সময় যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে নষ্ট হয় প্রায় ২০ ভাগ সবজি। দূর -দুরান্তের এই সবজি আনতে যেমন এক দিকে যাতায়াত ভাড়া গুণতে হয় ঠিক তেমনি এসব সবজি ফেলতেও গুণতে হয় টাকা। না হলে একদিনেই ময়লার পাহার হয়ে যেত দিগুবাবুর বাজার।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে উৎপাদিত শাক, সবজি ও ফলমূলের ৩১ ভাগ নষ্ট হচ্ছে সংরক্ষণের অভাবে ও সঠিক সময়ে বিক্রয় করতে না পারার কারণে। উৎপাদন-সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে অব্যবস্থাপনার কারণে শাক সবজি ও ফল মূলের বিরাট একটা অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের কাঁচা বাজার এলাকার সড়কে-গলিতে-ফুটপাতে বছরজুড়েই পড়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের পচা-আধাপচা সবজি। খাদ্য ব্যবস্থাপনার দুরবস্থার কারণে দেশে প্রতি বছর কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট হচ্ছে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, উৎপাদন-সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে অব্যবস্থাপনার কারণে উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফলমূলের প্রায় ৩১ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। দেশের পুষ্টি পরিস্থিতিতে যেমন এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে, তেমনি খাদ্য মূল্য বৃদ্ধিতেও তা ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য কিছু কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই এ অপচয় অন্তত ১০ ভাগে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য কৃষক-খামারি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করার বিকল্প নেই।

বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ী ও কৃষকদের অভিযোগ, সবজিতে সামান্য আঘাতের চিহ্ন থাকলেও দাম কমাতে তৎপর হয়ে উঠেন আড়ৎদাররা। তাই থেতলে যাওয়া অনেক সবজি তাদের ফেলে দিতে হয়। আর দাগ পড়া সবজি অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি করতে হয়।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও