সমবায় সমিতির নামে টাকা খোয়াচ্ছে সাধারণ মানুষ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৯ শনিবার

সমবায় সমিতির নামে টাকা খোয়াচ্ছে সাধারণ মানুষ

টাকা উপার্জনের জন্য মানুষজন অনেক উপায়ই অবলম্বন করে থাকে। আর এ উপায় অবলম্বন করতে গিয়ে এক শ্রেণীর প্রতারক মানুষের ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সমবায় সমিতির নামে তাদেরকে নানা রকম লোভ লালসা দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়ে হঠাৎ করে উধাও  হয়ে এসকল প্রতারক শ্রেণী। প্রশাসন কোন কোন সময় তাদেরকে আইনে আওতায় আনতে পারলেও বেশিরভাগ সময়ই প্রতারক শ্রেণী থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আর এতে করে সমবায় সমিতির নামে কোটি কোটি টাকা খোয়াচ্ছে সাধারণ মানুষজন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইটি ঘটনায় নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ নামে বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্যদের প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে হাশেম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা গত ১৯ জুলাই রাত ৮টায় ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের পাশে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকায় হাশেমের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়।

বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা জানান, ফতুল্লার কাশিপুর দেওয়ান বাড়ি এলাকার হাসেম মিয়া টার্নিং পয়েন্ট নামে বহুমুখী সমবায় সমিতি খুলে কাশিপুর এলাকার নারী পুরুষ ৬/৭শ সদস্য তৈরি করে তাদের নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। নিরীহ গ্রাহকরা যখন তাদের টাকা চায় তখন প্রতারক হাসেমসহ তার শ্বশুর ও তার বাড়ির লোকজন নানা ভাবে তালবাহানা করতে থাকে। গত এক বছর আগে প্রতারক হাসেম মানুষের টাকা হাতিয়ে মালয়েশিয়া চলে গিয়েছিল। তখন লোকজন বিক্ষোভ করলে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেয়। ওই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার রাতে আবারো বিক্ষোভ হয়।

এর আগে গত ১১ জুলাই সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান ২নং রেলগেইট এলাকার বাসিন্দা সওদাগর। সওদাগর শীতলক্ষ্যা এলাকার ড্রীম সমবায় সমিতির কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় কয়েক কোটি টাকা জমা নেন। তার সমবায় সমিতির গ্রাহক সংখ্যা হচ্ছে ৩’শ। তারা প্রত্যেকেই সওদাগরের কাছে টাকা মোটা অংকের পাবেন। যার সূত্র ধরে এদিন রাতে গ্রাহকরা তার বাসায় গিয়ে দেখেন সওদাগর বাসায় নেই। এসময় পাওনাদাররা বাসায় গিয়ে হট্টগোল শুরু করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতির শান্ত করেন।

পাওনাদার হরনাথ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, তার সারা জীবনের সম্বল ছিল ২০ লাখ টাকা। সওদাগর ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে এই ২০ লাখ টাকা নিয়ে আসে। প্রথম ৩ মাস মুনাফা দিয়ে গেলেও পরবর্তীতে সে আর মুনাফা দেয়নি এবং টাকাও দিচ্ছে না। আজ, কাল কিংবা পরশু বলে সময়ক্ষেপন করে আসছে। সর্বশেষ তার বাসায় দেখি সে এখন বাসায় নেই। বাসার লোকেরা বলছে সওদার ও তার ছেলে সানী নাকি বিদেশ চলে গেছে। টাকার অভাবে তাদেরকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

আরেক পাওনাদার পারুল আক্তার বলেছিলেন, সমিতির কথা বলে সওদাগর আমাদের টাকা নিয়ে কয়েকদিন পর পরই দেশ বিদেশ ঘুরতে যেত। আর টাকার কথা বলতে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে মন ভুলিয়ে দিত। সর্বশেষ তাদেরকে বলে, তার বাড়ি বিক্রি করে টাকা দিয়ে দিবে। কিন্তু তার বাসায় গিয়ে দেখেন সে বাসায় নেই। সওদাগর তার ছেলেসহ পালিয়ে গেছে।

সূত্র বলছে, সমবায় সমতির নামে এভাবেই প্রতারকরা সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা নিয়ে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। প্রথমে মানুষজনের সাথে সাথে মিষ্টি কথা বলে ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা জমা নেন। সেই সাথে গ্রাহকরা লোভের ফাঁদে পরে অল্পতেই বিশ্বাস করে জীবনের সকল উপার্জন প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। অতি বিশ্বাসের কারণে গ্রাহকরা উপযুক্ত প্রমাণ রাখারও প্রয়োজন মনে করে না তারা। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তারা রুপ পাল্টাতে শুরু করেন সমবায় সমিতি খ্যাত প্রতারক শ্রেণী। গ্রাহকদের সাথে তারা নানা টালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে হঠাৎ করেই গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে যান ওই প্রতারক শ্রেণী।

এদিকে উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় এসকল প্রতারকদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনও কোন অ্যাকশনে যেতে পারেন না। কোন কোন সময় অ্যাকশনে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এর আগেই প্রতারক শ্রেণী পুলিশের নাগালের বাইরে চলে না।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও