চামড়ার বাজারে ধস, বিপাকে বিক্রেতারা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:২০ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

চামড়ার বাজারে ধস, বিপাকে বিক্রেতারা

‘গরু কিনেছি ১লাখ ২০হাজার টাকা দিয়ে। কিন্তু গরুর চামড়া বিক্রি করতে এসে দেখি দাম বলছে মাত্র ৫০০ টাকা। অনেকেতো আরো কম বলেছে। প্রায় দেড় দুই ঘণ্টা দামাদামি করে এখন ৫৫০ টাকায় বিক্রি করালাম।’

১৩ আগস্ট ঈদের দ্বিতীয় দিন গরুর চামড়া বিক্রি করতে এসে প্রত্যাশিত মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে একথা বলেন ওমর আলী। বিভিন্ন মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে ওমর আলীর মত বিপাকে পরেছেন আরো অসংখ্য মানুষ। লবনযুক্ত চামড়ার সরকারি ভাবে দাম নির্ধারণ করা থাকলেও লবন ছাড়া চামড়ার দাম নির্ধারণ করা না থাকায় দালাল চক্র নিজেদের খামখেয়ালি মত দাম চাইছে। এতে করে লোকশানে পড়ছে বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করা ক্ষুদ্র মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, বড় আকারের একটি হরুর চামড়া প্রায় ৩৫ বর্গফুট পর্যন্ত হতে পারে। ছোট আকারের একটি গরুর চামড়ার আকার হতে পারে ১৬-১৮ বর্গফুট। এই চামড়াগুলো লবনযুক্ত করে বিভিন্ন ট্যানারিতে বিক্রি করা হবে বড় আকারের ৩৫ বর্গফুটের চামড়া ১৭০০ টাকা করে এবং ছোট আকারের ১৬-১৮ বর্গফুটের ৯০০টাকা করে। কিন্তু চামড়াগুলো একেবারে প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০টাকা দরে। এতে করে লোকশান গুনতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।

এ প্রসঙ্গে আমলাপাড়া মাদ্রাসার হুজুর আবু তালেব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এতিমখানাগুলো চলে চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে। কিন্তু আমরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছি না। এরকম চলতে থাকলে এতিমখানা বন্ধ হয়ে যাবে। গত বছরেও চামড়ার কোনো দাম পাই নাই। এই বছরেও চামড়ার দাম দিচ্ছে না। গত বছর শেষ সময়ে অনেক চামড়া নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছে তাই এবার বেশি দামাদামি করে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না। মোটামুটি যদি দাম মিলে যায় তাহলেই ছেড়ে দিব।

কিছু লাভের আশায় নিজ মহল্লা থেকে ৫টি চামড়া কিনে এনে চাষাঢ়ায় বাড়তি দামে বিক্রি করার জন্য এসেছিলেন আমিনুল হক। চামড়া সংগ্রহ ও পরিষ্কার করে চাষাঢ়ায় নিয়ে আসতে যা খরচ হয়েছে এখন সেই দামও পাচ্ছেন না তিনি। প্রতিটিতে ৫০০ টাকা খরচ হলেও এখানে বিক্রি করতে এসে ক্রেতারা দাম বলছেন মাত্র ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। যে কারণে এখন লাভের অংশের বদলে খরচের টাকা তুলতেই হিমিশিম খাচ্ছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, যে বাসায় থাকি সেই বাসার মালিকের চামড়াটি প্রথমে কিনেছি। তার গরুর দাম ছিল ১ লাখ টাকা। ভেবেছিলাম অনায়াসে ৪শ থেকে ১ হাজার টাকা পাবো। কিন্তু তাঁরা যে দাম বলছে আগে জানলে চামড়াই কিনতাম না।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি পরিবহণ খরচ সহ আনুসাঙ্গিক বিভিন্ন খরচ অনেক বেড়েছে। যে কারণে চামড়ার দাম কমিয়ে রাখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কোনো ব্যবসায়ী সরাসরি কিছু বলতে রাজি হয়নি।

এক ব্যবসায়ীর সহযোগী রাজু নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, চামড়া শুধু কিনলেই হয় না। আমাদের আবার বিক্রি করতে হয়। ট্যানারি মালিকরা আগের মত চামড়া কিনতে চায় না। এছাড়া খরচ যা ছিল সব বেড়েছে। তাই দাম বেশি দিলে আমাদের লাভ থাকে না। বাধ্য হয়ে দাম কমাতে হচ্ছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও