নিতাইগঞ্জে ফের জঞ্জাল, টাকায় ঢুকে ট্রাক!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

নিতাইগঞ্জে ফের জঞ্জাল, টাকায় ঢুকে ট্রাক!

নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার রাস্তা দখল করে আবারও লোড আনলোড শুরু হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে লোড আনলোড। শুধু লোড আনলোড না; দিনের পর দিন ট্রাক পার্কিং করে রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়। ফলে প্রতিনিয়িত যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। যানজট হয় নিতাইগঞ্জ গোল চত্ত্বর এলাকায়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষের। এ বিষয়ে নেই প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ। আর প্রতি গাড়ি থেকে তোলা হয় চাঁদাও।

২৪ আগস্ট শনিবার দুপুরে সরেজমিনে নিতাইগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখে গেছে, রাস্তার দুই পাশে ট্রাকগুলো সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আর ওইসব ট্রাকের কয়েকটিতে মালামাল লোড আনলোডের কাজ চলছে। আবার কিছু খালি দাঁড়িয়ে আছে। আবার কয়েকটি মাল লোড করেও দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। রাতের আগে ট্রাক চলবে না তাই। শুধু বড় ট্রাক নয় এ মধ্যে মিনি কাভার্ডভ্যান, ঠেলাগাড়িও আছে। এর গাড়িগুলো রাস্তার অর্ধেকের বেশি দখল করে নিয়েছে। ফলে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। একাধিক গাড়ি এক সঙ্গে চলাচল করতে গেলেই সৃষ্টি হয় যানজট। এছাড়াও রাস্তার পাশে ফুটপাতও দখল করে নিয়েছেন হকারা।

জানা গেছে, গত বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাজেট অধিবেশনে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমানের কাছে আহবান জানান যাতে নিতাইগঞ্জ থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়ে অন্যত্র নেয়া হয়। ওই আহবানের একদিন পরই নিতাইগঞ্জ থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়ে নেয়া হয়। ফলে ফাঁকা হয়ে যায় ট্রাকের জঞ্জালের এলাকা হিসেবে পরিচিত নিতাইগঞ্জ।

শুধু ট্রাক সরিয়ে নেওয়া নয় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের ট্রাক প্রবেশ নিষেধও করা হয়। ফলে নগরীর যানজটও কমে আসে। পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ৪০টি ট্রাকের টোকেন পদ্ধতি চালু করা হয়। যার জন্য ট্রাক প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেয়া হতো। কয়েক মাস এ ধরাবাহিকতা থাকালেও সম্প্রতি এ চিত্র বদলে পুরানো রূপে ফিরে গেছে।

ট্রাক চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিতাইগঞ্জে ট্রাক প্রবেশের জন্য টোকেন পদ্ধতি চালু করা হয়। আর এসব টোকেন দেয়া হয় বিভিন্ন জায়গা থেকে। চাষাঢ়া কিংবা মেট্রো হল থেকে টোকেনগুলো দেয়া হয়। আর টোকের বিনিময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকাও প্রতি ট্রাক চালকের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এছাড়াও ট্রাক পার্কিং করে লোড আনলোড করতে চাইলেও স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের চাঁদা দিতে হয়। এছাড়াও দুস্থ ও অসহায় শ্রমিকদের কল্যানে চাঁদা বলে প্রতি ট্রাক থেকে সর্বনিম্ন ২০ টাকা সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। তবে এ টাকা কবে কোন শ্রমিককে দেওয়া হয়েছে সেটা কারো কাছে কোন হিসেব নেই।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক নগর ভবন সংলগ্ন একটি কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন নিতাইগঞ্জ এলাকার ট্রাকের জঞ্জাল ছিল না। মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পেরেছে। এখানকার পরিবেশটাও বদলে গিয়েছিল। কিন্তু এখানকার চাঁদাবাজ শ্রমিক নেতাদের ভাগ্যেরও বদলে যায়। তাদের চাঁদা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তারা যখন যে গাড়ি নিতাইগঞ্জ প্রবেশ করে সে হিসেবে সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকাও আদায় করতে শুরু করে। এছাড়াও করিয়ার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গাড়ির জন্য এককালিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকাও দাবি করে। যা অনেকেই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় রফাদফা করেছে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কেউ মুখ খোলবে না। কারণ এখানকার শ্রমিক নেতারা প্রভাবশালী এমপি ও লোকদের নাম বিক্রি করেই চলে।’’

তিনি বলেন, শুধু যে কুরিয়ার গাড়ি নয়। যেকোন ট্রাক বা মিনি কাভার্ড ভ্যান আসুক সবাইকে বাধ্যতামূলক টাকা দিতে হবে। কিন্তু ট্রাকের জন্য একটি ইজারা আছে। কিন্তু মিনি কাভার্ডভ্যান বা পিকআপ ভ্যানের ক্ষেত্রে এগুলো নেই। এখন সব গাড়িই দিতে হয়। এগুলো সম্পর্কে পুলিশও অবজ্ঞত আছে। না হলে এরা এ জুলুম কিভাবে করে। অনেক গাড়ি চালক তাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে এখানে আসতেও চায় না।

পিকআপ ভ্যান চালক তাইজুল ইসলাম বলেন, আমরা খুব বেশি দূরে যাই না। আর গাড়ি ছোট বেশি মালামালও টানতে পারি না। তাই কম ভাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় যাই। কিন্তু নিতাইগঞ্জ যেতে হলে ২০০ টাকার টোকেন নিতে হয়। এরপর শ্রমিকের চাঁদা, গাড়ি লোড আনলোড করলে চাঁদা, এ ট্যাক্স ওই ট্যাক্স বলে শুধু টাকা নেয়। ৫০০ টাকার উপরে খরচই পড়ে যায়। যার জন্য আসতে ইচ্ছা করেনা।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ট্রাক স্ট্যান্ড উঠিয়ে দিলে ব্যবসায়ীদের চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে এখানকার শ্রমিক নেতাদের। তারা চাঁদা পাবে না। তাই তারা এখানে ট্রাক দাঁড়াতে দেয়। আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও