পরিবেশ দূষণ অকপটে স্বীকার করলেন মডেল গ্রুপের চাকরিজীবী মনির

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৬ পিএম, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার

পরিবেশ দূষণ অকপটে স্বীকার করলেন মডেল গ্রুপের চাকরিজীবী মনির

নারায়ণগঞ্জের খানপুর বরফকল এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ এর জায়গায় ইজারা নিয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে টাইলস ও সিমেন্টের কাঁচামাল পরিবহন করায় একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র তলব করেছিল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

১ সেপ্টেম্বর রোববার সেই কাগজপত্র জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কাগজপত্র গ্রহণ করে সেটি পর্যালোচনা ও যাচাই বাছাই শেষে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

মূলত টাইলস ও সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল বাতাসে উড়লে যেমন মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে তেমনি এগুলো সড়কে পড়লেও সেই সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তবে এ ঘটনা সবার জানা থাকলেও প্রকাশ্যেই বিআইডব্লিউটিএ এর থেকে জায়গাটি ইজারা নিয়ে সেখানে এই কাঁচামাল পরিবহন করা হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার সতর্ক করেও বন্ধ করা যায়নি এই পরিবেশ বিপর্যয়। বরং অভিযানের পরদিন থেকেই প্রকাশ্যেই আবারো একই কায়দায় কাঁচামাল আনা নেয়া করতে দেখা যায় পরিবহনগুলোকে।

সরেজমিনে সেখানে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানোর একদিন পরেই দেখা যায় আবারো সেই দাপট দেখিয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কাঁচামাল লোড আনলোড ও পরবর্তীতে সেগুলো ত্রিপল দিয়ে না ঢেকেই পরিবহন করতে।

বৃহস্পতিবার ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে ধরা পড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের এ ভয়াবহ চিত্র। ওই সময়ে তাঁরা এসব মালামাল আনলোডের জন্য নদীর তীরের জায়গা লিজ দেওয়ার কারণে বিআইডব্লিউটিএ’র কড়া সমালোচনাও করেন।

অভিযানের সময়ে একজনকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। নারায়ণগগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরে খানপুর বরফকল ঘাট এলাকাতে নদীর তীরের জায়গা লিজ নেন পিংকি ট্রেডার্সের মনির হোসেন নামের একজন। তিন বছর ধরে ওই জায়গা লিজ নিয়ে সেখানে তিনি টাইলস, সিমেন্টের কাঁচামাল বিভিন্ন জাহাজ থেকে আনলোড করে গন্তব্যস্থলে পৌছে দেন। বরফকলের সামনে সিরাজউদ্দৌলা সড়ক দিয়ে ট্রাকে করে এসব মালামাল বিভিন্ন স্থানে পৌছানোর সময়ে সড়কে যেমন পড়ে যায় তেমনি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে না রাখায় বাতাসে উড়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটায়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, রোববার কাগজপত্র নিয়ে আজ তাদের আসার কথা ছিল। তারা কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। সেগুলো আমরা যাচাই বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ওই ইজারাদার নিজেকে পিংকি ট্রেডার্সের মালিক পরিচয় দেন। তবে স্থানীয়রা জানান, এ মনির হোসেন মূলত তল্লা এলাকাতে অবস্থিত মডেল গ্রুপের গার্মেন্ট সেক্টর দেখভাল করে থাকেন। বৃহস্পতিবার অভিযানের সময়ে মনির হোসেন মডেল গ্রুপে চাকরি করেন না বা সম্পৃক্ত না বার বার দাবী করলেও সে বক্তব্য থেকে তিনি সরে এসেছেন।

রোববার মনির হোসেন জানান, ‘‘আমাদের কাগজপত্র আমরা সকল কিছু জমা দিয়েছি। আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি সেখানে। তাদেরকে আমরা জানিয়েছি আমরা তো শুধু জায়গাটুকু ইজারা নিয়েছি আনা নেয়ার ক্ষেত্রে এখানে ট্রান্সপোর্টের লোকদের গাফিলতিতে অনেক সময় পরিবেশের এই বিপর্যয় হয়। তবে এখানে আমাদের লোক আছে, বিআইডব্লিউটিএর লোকও রয়েছে। তারাও বলে দেয় ড্রাইভারদের যেন মালামাল সঠিকভাবে ঢেকে আনা নেয়া করা হয়।’’

তিনি জানান, অনেক সময় রাস্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই তল্লাশি করে এই ত্রিপল খুলে দেখা হয়। পরবর্তীতে তা খোলা থাকে এমনটাই ড্রাইভারদের অভিযোগ। এখানে যেন ওভারলোড না হয় সেজন্য তো বিআইডব্লিউটিএ এর একটি দল এখানে দিতে পারে তারা। যারা মালামাল সঠিকভাবে লোড আনলোড হচ্ছে কিনা, ওভারলোড হচ্ছে কিনা কিংবা মালামাল ঢেকে আনা নেয়া করা হচ্ছে কিনা দেখতে পারে। আমরা তো তাদের কাছ থেকে টাকা দিয়েই ইজারা নিয়েছি, তাদেরও তো দায়িত্ব রয়েছে। হয়তো আমি এখান থেকে ব্যবসা বন্ধ করে চলে গেলাম কিন্তু আমার জায়গায় তো আরেকজন আসবে। আমিও চাই পরিবেশের কোন ক্ষতি না হোক কারণ আমার ছেলে সন্তান, ভাই বোন, আত্মীয় স্বজনরা তো এখান দিয়েই যাতায়াত করে। তার উপর পাশেই হাসপাতাল রয়েছে।

মডেল গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তিনি জানান, আমি মডেলে চাকরি করি সেটা আমার অন্য পরিচয়। আমি একজন ঠিকাদার আমি আমার পরিচয়ে এখানে ইজারা নিয়েছি। আমার পরিচয়ের সাথে আমার চাকরির স্থান মডেল গ্রুপের নাম জড়ানোটা আমার এবং মডেল গ্রুপ দুটোর জন্যই বিব্রতকর।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও