মীর জুমলা সড়কে মুরগি জবাই ও নাড়িভুড়ি রক্ত, দুর্গন্ধে ভোগান্তি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪১ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

মীর জুমলা সড়কে মুরগি জবাই ও নাড়িভুড়ি রক্ত, দুর্গন্ধে ভোগান্তি

‘‘সিরাজউদ্দৌলা সড়ক থেকে দিগু বাবুর বাজারে ভেতরে মীর জুমলা সড়কের প্রবেশ করে একটু ভেতরে যেতেই নাকে ভেসে আসে উঠকো দুর্গন্ধ। এদিক সেদিক তাকিয়ে কিছু খুঁজে না পেয়ে ভেতরে যেতেই দেখা যায় রাস্তার উপর মুরগি জবাই ও সেখানেই পরিষ্কার করা হচ্ছে। নাড়িভুড়ি, রক্তসহ অবশিষ্ট উচ্ছিষ্ট দিনভর সেখানেই ফেলে রাখা হচ্ছে। এসব পঁচেই পুরো বাজারে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।’’

জানা যায়, নগরবাসীর অবাধ চলাচলের জন্য গত ২৭ জুন রাত ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে মীর জুমলা সড়কে উচ্ছেদ অভিযান চলে। ওসি জানান, মূলত পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ উচ্ছেদ হয়েছে।

কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে সড়কটি আবারো দখলে নিয়েছে মুরগি ব্যবসায়ীরা। সড়কের উপর মুরগি জবাই করে সেখানেই নাড়িভুড়ি, রক্ত ফেলা হচ্ছে। এসব ময়লা সামান্য বৃষ্টিতেই পানির সাথে ধুয়ে সড়কের উপর ছড়িয়ে পরছে। সঠিকভাবে পরিষ্কার না করায় এগুলো পঁচে ভয়ংকর দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাজার করতে আসা নগরবাসীর।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। সড়কের এই অংশে ছোট খাটো একটি মুরগির হাট বসানো হয়। এছাড়া হাতে করে নিয়েও মুরগি বিক্রি করেন অনেক বিক্রেতা। দৈনিক চাঁদার ভিত্তিতে তাঁরা এখানে ব্যবসা করেন। এছাড়া রাস্তার উপরেই বসে মুরগি জবাই করে প্রয়োজন মত কেটে দেয় তাঁরা। এ জন্য প্রতি হালি মুরগি কাটতে খরচ পরে ৩০টাকা। হাতের কাছে মুরগি পাওয়ায় অনেকে বাজারের ভেতরে যায় না।

দিগুবাবুর বাজারের স্টেশনারী সড়কে রয়েছে বড় মুরগির বাজার। সেখানে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রয়েছে মুরগি জবাই ও কাটার জন্য নির্ধারিত জায়গা। ক্রেতাদের বড় একটি অংশ মীর জুমলা সড়ক থেকে মুরগি কেনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নাসিককে ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরা। এতে করে ক্ষতির পাশাপাশি সড়কের উপর মুরগি জবাই ও নাড়িভুড়ি, রক্ত ফেলার কারণে চরম ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ ক্রেতার।

মেহেদী হাসান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, মুরগি কেনা বেঁচার জন্য নির্দিষ্ট স্থান আছে তার পরেও অবৈধভাবে এখানে বসছে। মুরগি জবাই করে ময়লাগুলো সড়কের উপরেই ফেলে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানির সাথে এগুলো পুরো সড়কে ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধে হাটা যায় না। আর কিছু ক্রেতা একটু কষ্ট করে ভেতরে গিয়ে না কিনে তাদেরকে উৎসাহিত করছি। আমাদের উচিৎ তাদের থেকে না কিনে তাদেরকে উৎসাহিত না করা।

তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে সিটি কর্পোরশেনকে উদ্যোগ নিতে হবে। আমি যতটুকু দেখেছি সিটি কর্পোরেশন পানি দিয়ে সড়ক ধোয় না। ফলে রক্ত ও মুরগির বিষ্টা রাস্তার উপরেই পরে থাকে। যে কারণে দুর্গনন্ধ ছড়ায়। এখানে ব্যবসায় যেহেতু অবৈধ তাই সিটি কর্পোরেশনের কাছে অনুরোধ জানাবো যাতে দ্রুত তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরণের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও