কারা গার্মেন্ট জামদানী কারখানায় উপার্জিত অর্থ পাঠাচ্ছেন পরিবারে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৫ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

কারা গার্মেন্ট জামদানী কারখানায় উপার্জিত অর্থ পাঠাচ্ছেন পরিবারে

নারায়ণগঞ্জে কারা গার্মেন্ট ও জামদানী কারখানায় কাজ করে উপার্জিত অর্থ অনেকেই পাঠাচ্ছেন পরিবারের কাছে। কারা অভ্যন্তরে কাজ শিখে অনেকেই আবার প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন। কারা গার্মেন্টে কাজ করে তাদের মনেই হচ্ছেনা তারা জেলখানায় বন্দী রয়েছেন।

সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ডে কেয়ার সেন্টার, প্রিজন জেন্টস পার্লার ও স্টুডিও এবং বন্দী প্রশিক্ষণ ও পুর্নবাসন কেন্দ্র, বন্দী ব্যারাকের উধ্বর্মুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা কারা গার্মেন্টস রিজিলিয়ান্স ও জামদানি তৈরীর কারখানায় কর্মরতদের সঙ্গে আলাপকালে এমন অভিব্যক্তি তুলে ধরেন বন্দীরা।

জামদানী কারখানায় কর্মরত বন্দী সুমন কারা মহাপরিদর্শককে জানান, তিনি রূপগঞ্জে জামদানী শিল্পে কাজ করেছিলেন। ১০ বছর ধরে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। তিনি ১৫ থেকে ২০ জনকে জামদানী তৈরীর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে মিলন ও শহীদুল্লাহ কারামুক্ত হয়ে বর্তমানে জামদানী তৈরীর কাজ করছে। কারা মহাপরিদর্শক তখন জানতে চান, উৎপাদিন পণ্যের বিক্রয়লব্ধের লভ্যাংশের ৫০ ভাগ কর্মরত বন্দীরা পাবে। এখানে কর্মরতরা এই অর্থ পান কিনা। তখন বন্দীরা জানান, তারা লভ্যাংশের ৫০ ভাগ পেয়ে থাকেন। সেই অর্থ তারা পরিবারের কাছেও পাঠিয়ে থাকেন।

কারা গার্মেন্ট রিজিলিয়ান্সে কর্মরত নারায়ণ কারা মহাপরিদর্শককে জানান, গার্মেন্টে কাজ করার সময় তার নিজেকে আর বন্দী বলে মনে হয়না। তখন কারা মহাপরিদর্শক কর্মরতদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য। যাতে বন্দীদের কাছে জেলে রয়েছে এমনটি মনে না হয়। কারা গার্মেন্ট রিজিলিয়ান্সে কর্মরত মানিক কারা মহাপরিদর্শককে জানান, তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত কাজ থাকলে ভালই উপার্জন হয়। যখন পরিপূর্ণ কাজ থাকে তখন মাসে ২০ হাজার টাকাও উপার্জন করেন। তিনি প্রতিমাসেই পরিবারের কাছে উপার্জিত অর্থ পাঠাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, কারা অভ্যন্তরে ৫ হাজার বর্গফুটের মিনি গার্মেন্টটি কারা অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। এতে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ৫৭টি মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। মেশিনগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইং, ওভারলক, এমব্রয়ডারী। মিনি গার্মেন্টটিতে দুই শিফটে অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ কারাবন্দী কাজ করছে। জামদানী ও বিছানার চাদর তৈরীতে অর্ধশত জন কারাবন্দী কাজ করছে। এছাড়াও এমব্রয়ডারী, নকশী কাথা, ব্লক বাটিক, মোম, নানা ধরনের শোপিশ, নারীদের পার্টস (ব্যাগ), শপিংব্যাগসহ নানা ধরনের কারুপন্য তৈরী করছে কারাবন্দীরা। জামাকাপড় তৈরীর জন্য একটি টেইলারিং সেন্টারও রয়েছে। তিনি আরো জানান, যেসকল কারাবন্দী এই গার্মেন্ট ও জামদানী কারখানায় কাজ করছে তাদের নামে পৃথক একাউন্টে লভ্যাংশের ৫০ ভাগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ জমা করা হচ্ছে। সেই জমাকৃত অর্থ তারা বাড়িতেও পাঠাতে পারছেন নয়তো জেল থেকে বের হওয়ার সময় এককালীন সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও