৭ কারখানাকে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫৬ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

৭ কারখানাকে ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ

ইটিপি প্লান্ট বাস্তবায়ন না করে কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলে নদী দূষণ ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের ৭টি কারখানাকে পৃথকভাবে প্রায় সোয়া ৩কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ইউনিট ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন।

অভিযানে সকাল এগারোটায় নগরীর ফতুল্লার লামাপাড়া কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত রুপসী নীট ওয়্যার অ্যান্ড ওভেন ডাইং কারখানায় ইটিপি প্লান্ট থাকার কারণে বর্জ্য মিশ্রিত পানি শোধন না করে সরাসরি ডিএনডির খালে ফেলা এবং পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন না করায় ও মাত্রাতিরিক্ত শব্দের দুষণের অভিযোগে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে রুপসী নীট ওয়্যারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। কিন্তু তাকে র‌্যাবের গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করলে সে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তিতে লিপ্ত হয়।

এছাড়া মেসার্স ফজর আলী ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিংকে ৭০ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪০ টাকা, জিএম ডাইং এন্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং প্রাইভেট লিমিটেডকে ২৪ লাখ ৪০ হাজার  ৯৬ টাকা, বরকত ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিংকে ২ লাখ ১ হাজার ৪৪০ টাকা, মেসার্স আল ফাত্তাহ টেক্সটাইলকে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৯ টাকা, আল ফাত্তাহ ডাইংকে ১ লাখ ৯০ হাজার ২৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। এছাড়াও পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন আল হামিদ রি-রোলিং মিল কে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়।

পরিবেশ অধিদফতরের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের পরিচালক রুবিনা ফেরদৌসি জানান, অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ইটিপি প্লান্ট স্থাপন না করে বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি খাল বিল, নালায় ফেলছে। যে সব বর্জ্য মিশ্রিত পানি সরকারি বিভিন্ন খালের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদীতে গিয়ে মিশে নদীর পানিকে দূষন করছে। নদী যে জীবন্ত সত্তা তাকে মেরে ফেলছে। হাইকোটের নির্দেশে ঢাকার চারপাশের নদীর দূষন রোধে অভিযান চলছে। ওই সব দূষণকারি ৬টি ডাইং কারখানা ও একটি রি রোলিং মিলকে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ করার অভিযোগে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নদী ও পরিবেশ দূষন রোধে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহিৃত করে অভিযান চালানো হবে।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার জানান, নারায়ণগঞ্জে যে শিল্প প্রতিষ্ঠান তরল বর্জ্য ফেলে নদী ও আশেপাশের খাল বিল পানি দূষন করছে, পরিবেশ অধিদফতর থেকে কয়েক দফা সময় নিয়ে ইটিপি প্লান্ট নির্মাণ বা স্থাপন করেনি।  আবার অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ইটিপি প্লান্ট স্থাপন করলে খরচ বেশী হবে এই অজুহাতে বর্জ্য মিশ্রিত পানি শোধন না করে সরাসরি ফেলছেন । সেই সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে চিহিৃত করে আমাদের  অভিযান অব্যহত থাকবে। পরিবেশ দূষণকারি কোন প্রতিষ্ঠানকে কোন ছাড় দেয়া হবে-না।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের পরিচালক রুবিনা ফেরদৌসী ও উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার, র‌্যাব ১১ কালিরবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ (এএসপি ) মোস্তাফিজুর রহমানসহ পবিরেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের পরিচালক রুবিনা ফেরদৌসী জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে নদী রক্ষার জন্য। ইতোমধ্যে এনফোর্সমেন্ট ঢাকার ভেতরেও অনেক অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জেও বৃহস্পতিবার অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযান নিয়মিত থাকবে। যেসব বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে এতে মারাত্মক দূষণ হচ্ছে। বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ইটিপি প্লান্ট বাধ্যতামূলক হলেও সেটা ব্যবহার করছে না অনেকে। এতে আমাদের নদীগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও