উৎসব ট্রান্সপোর্ট অবৈধ! ১৪ বছরে ৬০ কোটি লোপাট

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৭ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার

উৎসব ট্রান্সপোর্ট অবৈধ! ১৪ বছরে ৬০ কোটি লোপাট

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা উৎসব পরিবহন চালু হয়েছিল ২০০২ সালে। ওই সময়ে এর চেয়ারম্যান ছিলেন কামাল মৃধা। ২০০৫ সালে তিনি আমেরিকাতে চলে যাবার পর এর পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে। তবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে উৎসব পরিবহনের নাম পরিবর্তন করে করা হয় উৎসব ট্রান্সপোর্ট। ফলে প্রশ্ন উঠেছে এ ১৪ বছর তাহলে কিভাবে পরিচালিত হয়েছে উৎসব পরিবহন। কামাল মৃধার দাবী, এ ১৪ বছরে ৬০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে উৎসব থেকে। ওই সময়টাতে শহীদুল্লাহ ও কাজল সহ অন্যরা মিলে এ টাকাগুলো লোপাট করেছে।

এ অবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বর সোমবার জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছেন উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান কামাল মৃধা। এতে তিনি অভিযোগ করেছেন উৎসব ট্রান্সপোর্টের কোন অনুমোদন নাই। এটা অবৈধ। বিআরটিএর কোন অনুমোদন নাই। বরং উৎসব পরিবহনের পারমিট করা ৩৮টি গাড়ি এখন উৎসব ট্রান্সপোর্টের নামে চলছে।

উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা কামাল মৃধা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘২০০২ সালে জুলাইতে উৎসব কোম্পানীটি চালু হয়। তখনি ভাড়া দুই টাকা কমিয়ে ১০ টাকায় পরিচালনা করেছি। এর পর থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন মামলা। যখন মামলা একের পর এক হতে থাকে তখনি আমি আর সামলিয়ে উঠতে পারি নাই। বাধ্য হয়ে বিদেশ চলে যাই। বিভিন্ন মামলায় ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ২০০৫ সালে আমার ভাগিনা কাজল মৃধাকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নিউইয়র্ক চলে যাই। বিদেশে থাকা অবস্থায় সকল মামলা শেষে দেশে ফিরে এসে কাজল মৃধাকে ব্যবসার হিসাব চাইলে সে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে ভয় দেখায় এবং আমার ব্যবসার আয় থেকে দোকান, গাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি আমার নামে ক্রয় না করে নিজের নামে ক্রয় করে। পরবর্তীতে দেশে এসে দেখি আমার কোম্পানি দখল হয়ে গেছে।’’

তিনি আরো বলেন, কাজল মৃধা বর্তমানে নিজেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সিন্ডিকেট সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে। ফলে প্রকৃত বাস মালিকরা তেমন কোন লভ্যাংশ পাচ্ছেনা। এছাড়া উৎসব পরিবহন যেখানে সরকারি ভাড়ার ৮০ শতাংশ নেয়ার কথা সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া ৩৬ টাকা আদায় করছে।

তিনি দাবি করে আরো বলেন, যেকারণে জনস্বার্থে উক্ত উৎসব পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রোড ব্যবস্থাপনার দখলমুক্ত ও ভাড়া ৩৬ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা বাস্তবায়নের জন্য আবেদন জানিয়েছি। ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁকে বুঝানো ও প্রমাণ করা হয়েছে যে বর্তমান পরিষদ অবৈধ।

উৎসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এখন অনেক এগিয়ে গেছি আমরা। তাই বর্তমান উৎসবকে ঢেলে সাজাতে হবে। সিট, কালার এবং ডিজাইন আপগ্রেড করা হবে। ১৭ বছর হয়ে গেছে গাড়িগুলোর। বিআরটিএর অনুমতি নিয়েই সব কিছু করা হবে। তবে সামনে ইলেক্ট্রিক গাড়ি নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আমার সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়।’’

তিনি বলেন, উৎসব কাউকে চাঁদা দেয় না এবং লাভ করার জন্য তৈরী হয়নি। আমি চলে যাওয়ার পরই তা মালিক সমিতির মাধ্যেমে পরিচালিত হয়।

তবে এই উৎসবকে সামনের উৎসবের সঙ্গে কল্পনা করা যাবে না বলে মত দেন তিনি।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও