কথা রাখেননি প্যারাডাইস ক্যাবলস চেয়ারম্যান মোশারফ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ১ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার

কথা রাখেননি প্যারাডাইস ক্যাবলস চেয়ারম্যান মোশারফ

গত কোরবানির ঈদের পূর্বে শ্রমিকদের সাথে বসে চুক্তিপত্র সই করে কথা দিয়েছিলেন শ্রমিকদের পাওয়া ৭মাসের বেতন পরিশোধ করবেন। প্রথমে ২মাসের বেতন এর পর ধীরে ধীরে সব বকেয়া পরিশোধ করার কথা দেন তিনি। কিন্তু সেই কথা রাখেননি পারেননি প্যারাডাইস ক্যাবলসের চেয়ারম্যান মোশারফ - এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী শ্রমিকদের।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের মধ্যে ঈদের পূবেই ২মাসের বেতন পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ঈদের পূর্বে অর্ধেকের বেতন পরিশোধ করে অন্যদের বেতন দিতে অস্বীকৃতি জানান। শ্রমিকেরা সেই চক্তিপত্র নিয়ে গেলে আবারো সময় চেয়ে সবার বেতন পরিশোধের জন্য কথা দেন তিনি। কিন্তু এবারও কথা রাখেননি মোশারফ। ফলে আবারো আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে প্রায় ৯মাস ধরে বেতন না পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির খেটে খাওয়া শ্রমিকেরা।

১ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন সহ প্যারাডাইস ক্যাবল্সের শতাধিক শ্রমিক।

শ্রমিকদের মাধ্যমে জানা যায়, প্যারাডাইস ক্যাবলস লিঃ এ কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা হচ্ছে ৪১৫জন। যাদের সবাই দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। সবার ৭-৯ মাসের বকেয়া বেতন আটকে আছে।

শ্রমিকদের সাথে কথা হলে তাঁরা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, গত কোরবানির ঈদের পূর্বে প্যারাডাইস ক্যাবলসের শ্রমিকদের সাথে প্যারাডাইস টাওয়ারে বসেন প্যারাডাইস ক্যাবলস লিঃ এর বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন। সেখানে চুক্তি হয় যে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সকল শ্রমিকের ২মাসের বকেয়া বেতন ঈদের পূর্বেই পরিশোধ করা হবে। সেই চুক্তি অনুযায়ী আমরা যুক্তিপত্রে সই করি। কিন্তু ঈদের পূর্বে ৮ আগস্ট মোট শ্রমিকের মধ্যে ২৬০জনকে ২মাসের করে বেতন দেয়। বাকি ১৫৫জন শ্রমিকের কোনো বেতন দেওয়া হয় নাই।

শ্রমিকেরা জানান, ঈদের পরে আমরা আবার মালিকের কাছে গিয়ে বলি যে চুক্তি অনুযায়ি সবার ২মাসের বেতন দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনি ১৫৫জন শ্রমিকের বেতন কেন দিলেন না। তখন তিনি বললেন যে এই শ্রমিকগুলোকে নাকি তিনি ছাঁটাই করেছেন। কিন্তু ছাঁটাই করলেওতো পাওনা পরিশোধ করতে হবে। তখন তিনি বলে যে এই শ্রমিকেরা তাঁর প্রতিষ্ঠানের না। এরা সবাই নাকি বাইরে কাজ করে। কিন্তু আমরা ঈদের ছুটির আগেও যে এখানে কাজ করেছি তার কার্ড দেখাই। পরে তিনি বলে যে এত শ্রমিকের বেতন দেওয়া সম্ভব না। আমাকে একটু সময় দেন আমি সবার বেতন দিয়ে দিব।

এর মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর যে ২৬০জন শ্রমিককে বেতন দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৯ জনকে আবার ১মাসের করে বেতন দেওয়া হয়। অন্য শ্রমিকরা কোনো বেতন পায় নাই।

শ্রমিকেরা বলছেন, বছরের পর বছর আমরা রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন করতে পারবো না। আমাদের পাওনা না দিলে আমাদের আন্দোলন ছাড়া কিছু করার থাকে না। যে কারণে আমরা আবারো আন্দোলনে নামছি। কিন্তু আমার আর আন্দোলন চাই না। আমরা আর এখানে কাজও করতে চাই না। আমাদের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া হোক। আমরা অন্য কোথাও কাজ করবো।

এসময় শ্রমিক নেতা ইকবাল হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা আর কারো কাছে ধর্না দিব না। আমরা এখন কঠোর আন্দোলনে যাবো। আমরা আবার রাস্তা অবরোধ করবো। ২ অক্টোবর আমরা আবার রাস্তায় নামবো। এবার এর একটা বিহীত করে ছাড়বো। হয় বেতন দিয়ে শ্রমিকদেরকে রাখবে নয়তো ছেড়ে দিবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক সৌমের বড়ুয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, প্যারাডাইসের মালিক মোশারফ আমাদের ফোন নাম্বার ব্লক করে রেখেছে। যেহেতু তিনি শর্ত ভঙ্গ করেছে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তাঁরা আমাদের যে নির্দেশনা দিবেন আামরা সে অনুযায়ী কাজ করব।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও