নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল ও প্রতারক চক্র সক্রিয়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৪ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দালাল ও প্রতারক চক্র সক্রিয়

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে তৎপর রয়েছে দালালচক্র। সাধারণ গ্রাহকরা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কিংবা লাইসেন্স সংগ্রহ করতে গেলেই পড়ছেন দালাল চক্রের খপ্পড়ে। প্রতারক দালাল চক্রের খপ্পড়ে পড়ে অনেকেই অর্থ খোয়াচ্ছেন অনেকেই আবার নকল লাইসেন্স পেয়ে পড়ছেন ভোগান্তিতে। আবার কার্ড স্বল্পতার কারণে লাইসেন্স প্রদানের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেও প্রতারক চক্র সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন।

মঙ্গলবার ২৯ অক্টোবর দুপুরে প্রতারণার শিকার এক যুবক বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) এর দ্বারস্থ হলে নকল লাইসেন্স তৈরীর বিষয়টি জানা যায়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে দালাল চক্র। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্সকে কেন্দ্র করে দালাল চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ঘুষ না দিলে কিংবা দালাল ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রাহকদের।

লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড (মাঠ) টেস্ট পরীক্ষায় পাস করার পর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সরাসরি ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেয়ার সিরিয়াল পেতেও দিতে হয় বাড়তি টাকা। সরকার নির্ধারিত পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ১৬৭৯ টাকা এবং রেফারেন্স বাবদ ৩৪৫ টাকা মোট ২০২৪ টাকা ও অপেশাদারদের ক্ষেত্রে ২৫৪২ এবং রেফারেন্স ৫১৮ টাকা মোট ৩০৬০ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে প্রতিটি পদে পদেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়। এছাড়াও বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরীর চক্রও।

এদিকে প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়ে অনেকেই আবার নকল লাইসেন্স পেয়ে নানাবিধ হয়রানিরও সম্মুখীন হচ্ছেন। ২৯ অক্টোবর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল এলাকা থেকে মো: দুলাল মিয়ার পুত্র মো: আতিকুর রহমান লাইসেন্সের আবেদনের একটি কাগজ নিয়ে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) এর কক্ষে যান। এসময় তিনি তার সঙ্গে থাকা কাগজটি সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী হাতে তুলে দেন। সৈয়দ আইনুল হুদা কাগজটি হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন আবেদনের কাগজটি নকল। এটি স্ক্যান করে তৈরী করা হয়েছে। এতে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে নকল সীল মারা হয়েছে।

তখন প্রশ্নের উত্তরে যুবক আতিকুর রহমান জানান, দুই বছর পূর্বে বাবুরাইল বেপারীপাড়া এলাকার স্বপন ও লিটনের মাধ্যমে তিনি মোটর সাইকেল চালানোর জন্য একটি লাইসেন্স করেছিলেন। সেই লাইসেন্সটি কিছুদিন পূর্বে হারানো গেছে। পরে তিনি লাইসেন্সটি তোলার জন্য আবারো স্বপনের দ্বারস্থ হন। তখন স্বপন থানায় একটি জিডি করে তাকে একটি আবেদনের স্লিপ ধরিয়ে দেয়। এরপর স্বপন তাকে বলে বিআরটিএ কার্যালয়ে কর্মরত নগর খানপুরের বাসিন্দা বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি তাকে লাইসেন্সটি বুঝিয়ে দিবেন।

কিন্তু এরপর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও তাকে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছিলনা। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি স্বপনের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাচ্ছেন। যে কারনে তিনি নিজেই বিআরটিএ কার্যালয়ে এসেছেন। এরপরে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) ওই কাগজে থাকা যুবকের নাম অনলাইনে সার্চ দিয়ে দেখতে পান যুবকের নামে ইতিপূর্বে কোন লাইসেন্স নেয়া হয়নি। যুবকের নামে লাইসেন্স হারানোর যে জিডি দায়ের করা হয়েছিল তাতে উল্লেখিত লাইসেন্স নম্বরটিও একজন নারীর নামে নেয়া।

বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) সৈয়দ আইনুল হুদা চৌধুরী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমাদের কার্যালয়ের সামনে কোন দালাল চক্র ভিড়তে পারেনা। আমার দরজা গ্রাহকদের জন্য সবসময়ই খোলা থাকে। কিন্তু ওই যুবকটি নিজ এলাকায় প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়েছেন। আমি যুবকটিকে কৌশল খাটিয়ে ওই প্রতারক চক্রের সদস্যদেরকে আটক করতে বলেছি। যদি তাদেরকে আটকাতে পারে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

বর্তমানে লাইসেন্সের কার্র্ড সঙ্কটের কথা স্বীকার করে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, সারাদেশেই লাইসেন্সের কার্ড সঙ্কট। যে কারণে আগে স্বাভাবিকভাবে যেখানে লাইসেন্স পেতে দেড় মাসের মতো সময় লাগতো সেখানে এখন দ্বিগুনেরও বেশী সময় লাগছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও