অবৈধ অটোরিকশা থেকে পুলিশের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫১ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার

অবৈধ অটোরিকশা থেকে পুলিশের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ শহরে অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে পুলিশ প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। পুলিশের সেই চাঁদাবাজির চিত্র গোপন ক্যামেরায় উঠে আসে। আর তাতে করে পুলিশের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

সম্প্রতি নিউজ নারায়ণগঞ্জের অনুসন্ধানে এরুপ ভয়াবহ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

অবৈধ অটোরিকশা শহরের প্রধান সড়কের প্রবেশের নেপথ্যে অনুসন্ধান শুরু হতেই নিউজ নারায়ণগঞ্জের ক্যামেরায় ধরা পড়ে পুলিশের চাঁদাবাজির দৃশ্য। ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১ টা নাগাদ আমাদের অনুসন্ধান শুরু হয়। প্রথমেই নারায়ণগঞ্জের সিরাজউদ্দৌলা সড়কের কালির বাজার এলাকায় অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ডের দিকে চোখ রাখি। খানিকটা দূরে কদম আলী মাজারের পাশে হাবিব নামে এক ট্রাফিকের কনস্টেবলকে দেখা যায় অটোরিকশার চলকের পাশে চড়ে বসতে। তখনই আমাদের গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ে চালকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চিত্র। পরবর্তীতে আমাদের অনুসরণ করার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততা পালনের অজুহাতে এড়িয়ে যান।

অটোরিকশা চালকেরা বলছেন, এই পথে অটোরিকশা চালাতে হলে প্রতিদিন পুলিশের কিছু দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিদিন ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় পুলিশকে। নতুবা গাড়ি চলাচল করতে দেয়না।

এরপর সিরাজউদ্দৌলা সড়ক অতিক্রম করে মেট্রোহল হয়ে খানপুর হাসপাতালের সামনের সড়কে প্রবেশ করতেই চাঁদাবাজির আরো ভয়াবহ অবস্থা দেখা যায়। কারণ সেখানে জনি নামের এক পুলিশ কনস্টেবল কর্তা বাবুর মত একটি অটোরিকশায় বসে থেকে অন্যদের দিয়ে অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করছেন। কৌশলী এই কর্মকর্তা অন্য চালকদের দিয়ে চাঁদাবাজি করিয়ে নিজের পকেটে ঢুকান। নিউজ নারায়ণগঞ্জের ক্যামেরায় এমন চিত্র উঠে।

এ বিষয়ে জানতে পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি ক্যামেরা দেখেই পালিয়ে যান। আমরা অনেকদূর অনুসরণ করলেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি। তিনি ততক্ষণে অনেকদূর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

পুলিশ কনস্টেবল জনিকে সহযোগিতাকরী শামীম এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জনি নামের পুলিশ তাকে দিয়ে অবৈধ অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করছেন। চাঁদা আদায়ের পরে সেই টাকা জনিকে দেয়া হয়। প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন বলে জানান।

এই রুটে চলাচলকারী অটো চালকরা বলছেন, প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে ১শ টাকা করে চাঁদা আদায় করে থাকেন পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যরা। পুলিশ সদস্যরা দুই শিফটে দুজন করে মোট ৪জন এই সড়কে টাকা আদায় করে থাকেন বলে জানা গেছে।

যাত্রীরা বলছেন, অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজির কারণে ভাড়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। আর সেই টাকা মূলত যাত্রীদের পকেট থেকে খসানো হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে পুরো ডিপার্টমেন্টের সম্মান নষ্ট হচ্ছে। যেখানে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন চাঁদাবাজি সহ অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে বেশ প্রশংসিত হয়ে আসছে। সেখানে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কতিপয় অসাধুদের কারণে তাদের অর্জিত সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও