বহিরাগত অপরাধীদের কারণে কাঁচপুর বিসিক অরক্ষিত

সোনারগাঁ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৩ পিএম, ২ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

বহিরাগত অপরাধীদের কারণে কাঁচপুর বিসিক অরক্ষিত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বিসিক শিল্প এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবী ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক চুরি, ছিনতাই, ভেতরে দোকানপাট নির্মাণ করে ওই এলাকাকে অরক্ষিত করে রাখে।

শিল্প এলাকার শ্রমিকদের বেতন দেয়ার দিন শ্রমিকদের মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। রাতের বেলায় শিল্প এলাকায় বহিরাগত ও মাদক সেবিদের আড্ডায়খানায় পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক শিল্প মালিক। মাদক ব্যবসায়ী ও বহিরাগতদের প্রভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে শিল্প মালিকেরা।

বিসিক শিল্প কমিটির বিষয়টি নজরে এলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে অবগত করেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচলনা করে বিসিক শিল্প এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকান পাট উচ্ছেদ করে। এছাড়াও টেলকম ডাইং লিমিটেডের পাশের গেইটটি তালাবন্ধ করে সিলগালা করে দেন। গত এক মাস সীলগালা থাকলেও বিসিকের সভাপতি আব্দুস সবুর খাঁন প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে গেইটটি খুলে দেন। ফলে আবারো বহিরাগত ও মাদকসেবীরা বিসিক শিল্প এলাকাটি রাতের বেলায় মাদকের আড্ডায় পরিণত করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) দারিদ্র বিমোচনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাঁচপুর বিসিক শিল্প এলাকা গড়ে উঠে। ওই শিল্প এলাকায় ১৩৬টি শিল্প কারখানা রয়েছে। এ শিল্প কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা মাদক সেবী ও স্থানীয় যুবকদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করে ফল পায়নি শিল্প মালিকরা।

কাঁচপুর বিসিক শিল্প মালিকেরা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিসিক শিল্প এলাকায় স্থানীয় লোকজন বিসিকের ভেতরে দোকানপাট নির্মাণ করে জায়গা দখল করে রাখে। ফলে ওই এলাকায় বগিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাছাড়া রাতের বেলায় মাদক ব্যবসায়ীরা দেদারছে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বিসিকে কর্মরত শ্রমিকদের মারধর করে ওই মাদকসেবী ও বহিরাগতরা তাদের টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়।

গত ৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন মিয়া বিসিক শিল্প এলাকায় পরিদর্শনে আসলে এ বিষয়টি তাকে জানানো হয়। পরদিন জেলা প্রশাসন বিসিক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোকানপাট উচ্ছেদ করে। পরে কুতুবপুর গ্রামের পাশর্^বর্তী ট্যালকম ডাংইয়ের পাশের ফটকটি তালা ঝুলিয়ে সিলগালা করে দেন। গত বৃহস্পতিবার বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সবুর খাঁন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তালা খুলে দেয়ায় আবারও মাদক সেবীরা মাদকের হাটে পরিণত করেছেন।

বিসিক শিল্প নগরীর হাবিব ডাইংয়ের মালিক জাফর লোদী জানান, আমাদের শিল্প মালিকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই প্রশাসন বিতর্কিত গেইটটি বন্ধ করে দেন। শুনেছি সবুর খাঁন তার এলাকার দাবীর প্রেক্ষিতে এ গেইটটি প্রশাসনকে না জানিয়ে খুলে দিয়েছেন। গেইটটি খুলে দেয়ায় আমাদের নিরাপত্তা ব্যাঘাত হচ্ছে। এতে করে আমাদের নিরাপত্তায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ গেইটি বন্ধ রাখা উচিত।

ফরচুন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক ও বিসিক শিল্প মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক কমল মিয়া জানান, নিরাপত্তার জন্যই এ গেইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের কেউ না। তবে কেন তিনি গেইটটি খুলে দিলেন আমি বুঝতে পারছি না। গেইটটি খেলা থাকলেই দোকানপাট বসে আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটায়। আমাদের মালপত্র লোড আনলোড করতে পারি না। কিছু বললেই আমাদের হুমকি দেয়া হয়। তাছাড়া রাতে মাদকসেবীদের আড্ডার স্থানে পরিণত হয়। দ্রুত পুনরায় গেইটটি বন্ধ করে দেয়া উচিত।

কাঁচপুর বিসিক শিল্প নগরী কর্মকর্তা কাজী নেয়ামতউল্লাহ জানান, শিল্প নগরীর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন গেইটটি বন্ধ করা হয়েছিল। আমি অফিস শেষে চলে আসার পর বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি কার অনুমতি নিয়ে খুলেছেন বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অফিসে গিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাঁচপুর বিসিক শিল্প নগরী মালিক সমিতির সভাপতি অভিযুক্ত আব্দুস সবুর খাঁনের সাথে ০১৭১১৫৬১৭৭৯ ও ০১৯১২৯০২৮২১ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, নিরাপত্তা ব্যাঘাত হয় এমন সমস্যা হলে গেইটটি বন্ধ রাখা উচিত। জেলা প্রশাসন এ গেইটটি বন্ধ করেছিল। খোঁজ নিয়ে পুনরায় বন্ধের ব্যবস্থা করা হবে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও