নারায়ণগঞ্জে পেঁয়াজের ডাবল সেঞ্চুরি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৯ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জে পেঁয়াজের ডাবল সেঞ্চুরি

নারায়ণগঞ্জের পেঁয়াজের ঊর্ধ্বগতিতে বাড়তে বাড়তে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছে। হঠাৎ করেই লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজের মূল্য বেড়ে চলেছে। ১৪ নভেম্বর সকাল থেকে বাজারে পেঁয়াজের এই চড়া দামের ফলে ভোক্তাদের চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে। কারণ কিছুদিন আগেও ৫ কেজির এক পাল্লা পেঁয়াজ দেড়শ টাকায় বিক্রি হতো এখন সেখানে এক কেজি পেঁয়াজ ২শ টাকার অধিক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজার ঘুরে নানা চিত্র দেখা যায়। এক দিনের ব্যবধানে পাইকারী ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে ২শ থেকে ২শ ৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ।

ক্রেতা রহিম মিয়া বলছেন, সকালে মোদি দোকানে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দাম শুনে অনেকটা স্তব্ধ হয়ে গেছি। কয়েকদিন আগেও ১৫০-১৬০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনেছি। কিন্তু আজকে সকালে দেখি দাম ২শ ছাড়িয়েছে। অহেতুক দাম বৃদ্ধির বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।

পাইকারী বাজারগুলোতে ক্রেতারা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি করছে। তবে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম দেশি পেঁয়াজের তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে। তবে দেশি পেঁয়াজের ঊর্ধ্বগতির কারণে অন্যান্য পেঁয়াজের দামও বেড়েছে।

পাইকারী বাজারে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে রীতিমত বিপাকে পড়েছেন এক ক্রেতা। কারণ আগে পেঁয়াজ পাল্লা প্রতি বিক্রি করা হত তাই দামও সেই অনুপাতে হাকানো হতো। কিন্তু এখন দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে কেজি প্রতি দাম হাকানো হচ্ছে। শহরের দিগু বাবুর বাজারে পেঁয়াজের দাম জানতে চাইলে বিক্রেতা ১৮০ টাকা দাম জানায়। পেঁয়াজের দাম এক রাতে কমেছে ভেবে ক্রেতাও সম্মতি দিলে বিক্রেতা পেঁয়াজ পরিমাপ করা শুরু করে। তবে এক পাল্লা নয় এক কেজি পরিমাপ করে। পরবর্তীতে ক্রেতা এ বিষয়ে অবগত হন।

বিক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। তাই দাম বেড়ে গেছে। বাজার দর যা থাকবে আমাদেরকেও সে অনুপাতে বিক্রি করতে হবে। তাই দাম কম বা বিক্রির সাথে এখানকার ব্যবসায়ীদের কোন যোগসাজস্য নেই। এটা জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মোকামগুলো দাম কমালে আমরাও কমিয়ে দিব।

এখানে উল্লেখ্য, দু সপ্তাহ আগে ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দিলে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। তবে এরপর ধারাবাহিকভাবে মায়ানমার সহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা শুরু করে। কিন্তু তাতেও পেঁয়াজের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। দফায় দফায় লাফিয়ে লাফিয়ে পেঁয়াজের দাম বেড়ে চলেছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার পেঁয়াজের ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে।

জানাগেছে, ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধের আগে পাইকারী বাজারে ১৫০-১৮০ টাকা পাল্লায় বিক্রি হতো। আর খোলা বাজারে ৪০-৪২ টাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো। এরপর থেকে দফায় দফায় বেড়ে চলেছে পেঁয়াজের দাম। সর্বশেষ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়ে দাড়িয়েছে ২শ টাকা।

ভোক্তারা বলছেন, পেঁয়াজের বাজার অবশ্যই সিন্ডিকেট করা হয়েছে। তেমনটি না হলে এক রাতে কিভাবে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকা দাম বেড়ে যায়। এই প্রশ্নের উত্তরে সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কোন উত্তর পাওয়া যাবেনা। তাছাড়া নতুন করে পেঁয়াজ ইস্যুতে কোন ঘটনাও ঘটেনি। তাহলে এক রাতে দাম কেন বেড়ে গেল। মনিটরিং করে দাম বৃদ্ধির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো সম্ভব।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও