নারায়ণগঞ্জে পেঁয়াজের দামে কমে গেছে মুরগী বিক্রি!

নাহিন মোজতাবা সোহান || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

নারায়ণগঞ্জে পেঁয়াজের দামে কমে গেছে মুরগী বিক্রি!

পেঁয়াজ, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই ভোগ্য পন্যটির দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে যাওয়ার কারণে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বাজারে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। তবুও বেশি বা কম পরিমাণন হোক অনেকটা বাধ্য হয়েই পেঁয়াজ ক্রয় করছে ক্রেতারা। লাগামহীন পেয়াজের দাম নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন থেকে মনিটরিং এর জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি সে রকম ভাবে। সাধারণ মানুষজন এখন আশায় রয়েছে বাজারে নতুন পেয়াজ ঢুকার সাথে সাথেই পেয়াজের দাম কমতে শুরু করবে।

১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম বাজারের একটি দিগুবাবুর বাজারে ঘুরে দেখা যায় দেশি পেঁয়াজ এর দর কেজি প্রতি ১৬০ টাকা। গত দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৪০ থেকে ৫০টাকা কমলেও এখনো তা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরেই রয়েছে।

বাজার থেকে যেখানে এক মাস আগেও ২৫০ টাকায় এক পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ক্রয় করা যেত সেখানে এখন শুধু এক কেজি পেঁয়াজই ১৬০ টাকা। তাই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য তা ক্রয় করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। দিগুবাবুর বাজারে পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে ঘুরে দেখা যায় সেখানে পিঁয়াজের ক্রেতা একেবারে নেই বললেই চলে। খুচরা দোকন গুলো থেকে হাতে গোনা দু-একজন পেঁয়াজ ক্রয় করছেন তাও আবার আধা কেজি বা এক কেজি’র বেশি না।

বাজারে এক ক্রেতা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ১৮০ টাকা দিয়ে এক কেজি পেঁয়াজ কিনলাম। আগে এক পাল্লা ক্রয় করতাম ২৫০ টাকায় এখন এক কেজিরই মূল্য ১৮০ টাকা। এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ যারা অল্প বেতনে চাকরি করে তাদের জন্য এক কেজি ক্রয় কারাই কষ্ট সাধ্য। আগের থেকে পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে ফেলেছি। তাও কিনতে হয়, পেয়াজ ছাড়া তো আর রান্না চলে না।

আরেকজন ক্রেতা বলেন, আগে সপ্তাহে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ লাগতো এখন আধা কেজি নেই। আমাদের যে পরিস্থিতি যে রোজগার সেই রোজগারে আমাদের মতো মানুষের পেঁয়াজ খাওয়ার মতো ক্ষমতা নাই। আমরা রোজ কাজ করি তিনশ টাকা আর এখন পেঁয়াজের কেজিই তিনশ টাকা বলেন আমরা কি ভাবে খাবো। আমি তো এখন পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। এখন হালি হিসেবে পেঁয়াজ কিনি, দুই দিন পূর্বেও এক হালি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় কিনলাম।

একজন বয়স্ক ক্রেতা জানান, আমাদের দেশের ৮০ ভাগ মানুষ গরীব, আমরা মেহনতি, শ্রমজীবী, কর্মজীবী মানুষ। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম যদি ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে তাহলে আমরা খুশি হবো। এক সময় কেজি বা পাল্লা হিসেব পেঁয়াজ কিনতাম, এখন জিজ্ঞেস করি হলি কত ভাই? কখন যে দাম উঠবে কখন নামবে সেটা জানা নাই, বাজারের কোন স্থিতিশীলতা নেই। তাই এক হালি করেই ক্রয় করছি পেঁয়াজ। চিন্তা করছি আস্তে আস্তে পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিব, ম্যাডাম তো বলছেন পিঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দেন।

বাজারে ফেরি করে পান সিগারেট বিক্রি করেন তিনি বলেন, ‘‘পেঁয়াজ আগে কিনছি ৬০ টাকা কেজি এখন কিনতাসি ২৫০ টাকা দিয়ে। এভাবে তো আমাদের চলে না, দিনমজুর খাই পান সিগারেট ফেরি করি। এখন এক পা পেয়াজ দোকানে নিতে গেলে দেয় না। এখন কিভাবে চলি বলেন আমরা। সারা দিনে তিন চারশ টাকা কামাই পেঁয়াজ আনতে গেলে সব টাকা শেষ। পেঁয়াজের দাম কমলে আমাদের জন্য ভালো হতো।’’

বাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় ফেরি করে মুরগি বিক্রি করেন তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘যেখানেই যাই পেঁয়াজের জন্য আমাদের মুরগি কিনে না। সবাই বলে পোঁজের দাম বেশি আমরা মুরগি কেমনে খামু। যারা মুরগি কিনবো তারা কয়, “যদি এক হলি মুরগি কিনি পেঁয়াজ লাগবো এক কেজি আমরা এত দামে পেঁয়াজ কেমনে কিনমু। আমাদের মুরগি বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। পেঁয়াজের জন্য মানুষ তরকারি খাওয়া বন্ধ করে দিসে।’’

অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম মুহূর্তে মুহূর্তে উঠা নামা করার জন্য পাইকারি বিক্রেতারাও আতঙ্কে থাকেন। দাম স্থিতিশীল না থাকার কারণে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের বিক্রি নেই বললেই চলে। হঠাৎ করে কেজি প্রতি ৫০টাকা কমে যাওয়ায় তারাও আছেন বিপদে। বাজার দর বেশি থাকতে যে পিঁয়াজ তারা বেশি দামে ক্রয় করে খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য আনেন দর কমে যাওয়ায় এখন তাদের লোকসান দিয়েই পিঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।

দিগুবাবুর বাজারের একজন পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা জুলহাস তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমরা পেঁয়াজ পায়কারি বিক্রি করি যেমন ২০৫ টাকায় কিনি ৫ টাকা লাভে ২১০ টাকায় বিক্রি করে দেই। একদিন হঠাৎ যদি কেজি প্রতি ৪০-৫০ টাকা কমে যায় তাহলে আমাদের লাভের থেকে লোকসান বেশি হচ্ছে। লাভ করলে ৫ টাকা আর এখন দাম কমার কারণে ৩০-৪০ টাকা লোকসান করছি। আমার দোকানে যে পেঁয়াজের বস্তা দেখছেন তা ২০০ টাকা কেজি দরে কেনা কিন্তু দাম কমে যাওয়ার কারণে খুচরা বাজারে আমরা তা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করে দিচ্ছি। এ বছর লাভ করেছি ঠিক কিন্তু লাভের চেয়ে আমাদের লোকসানের পাল্লাটা বেশি। পেঁয়াজের দাম উঠা নামা করলে আমাদের ব্যবসায় লাভের থেকে লোকসান বেশি। বাজারটা যদি স্থিতিশীল থাকে আমরা ব্যবসা করে শান্তি পাবো আর ক্রেতারাও শান্তিতে থাকবে। দর এক টাকা বা দুই টাকা উঠা নামা করলে সেটা স্বাভাবিক কিন্তু হঠাৎ যদি ৫০ টাকা ১০০ টাকা দাম উঠা নামা করে তাহলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার জন্যই এটা আতঙ্কের বিষয়। তুলনামূলক ভাবে পেঁয়াজের বিক্রি আগের থেকে অনেক কম হচ্ছে। আগে দাম স্বাভাবিক থাকতে দৈনিক ৫০ বস্তা পেঁয়াজ বিক্রি করতাম আর এখন ১০ বস্তাও বিক্রি করতে পারি না।

উল্লেখ্য, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর নারায়ণগঞ্জের পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বেড়েছিল। মাঝে এর দাম কমে প্রায় আগের পর্যায়ে ফিরে এলেও হটাৎ আবার নারায়ণগঞ্জের বাজারে এই পণ্যের দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে উঠা নামা করছে। পেঁয়াজের দর উঠা নামার কারনে এখন ক্রেতা বিক্রেতা দুই পক্ষই আতঙ্কে আছেন।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও