ভাঙা দোকান আঁকড়ে ধরে আছে থান কাপড় ব্যবসায়ীরা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫২ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

ভাঙা দোকান আঁকড়ে ধরে আছে থান কাপড় ব্যবসায়ীরা

‘এখানে ব্যবসা শুরু করার পর থেকেই দালালকে টাকা দিতে হচ্ছে। সবশেষ উচ্ছেদের সময়ও আমাদের থেকে টাকা খেয়েছে। আমরা ব্যবসায় করে আয় করব তাঁর একটা অংশ সরকার নিবে এতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু সরকারের অবহেলার কারণে আমরা পথে বসতে বসেছি। এখন সরকারের একটা সিদ্ধান্তের আশায় ভাঙা দোকান আঁকড়ে ধরে বসে আছি যে, অবশিষ্ট জায়গায় আমাদেরকে ব্যবসা করার অনুমতি দিবে। কোনো দালালকে সুযোগ না দিয়ে যাতে সরকার নিজেই এই কাজটা করে। তাহলে আমরা নিজেদের জন্য এবং দেশের জন্যও কিছু করতে পারব।’

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ২নং রেল গেইটস্থ এলাকায় গেলে প্রতিবেদকের কাছে কথাগুলো বলছিলেন থানকাপড় ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন।

সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল পথে ডাবল রেল লাইন প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেল লাইনের উভয় পাশে ৪০ফুট করে জায়গা দখলমুক্ত করে। এ উচ্ছেদ অভিযানে ইকবালের দোকানের অর্ধেকটা ভাঙ্গা পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২নং রেল গেইট থেকে গলাচিপা মোড় পর্যন্ত রেল লাইনের উভয় পাশে থান কাপড় মার্কেটের দোকানগুলো গুড়িয়ে দেওয়া দোকানের ভাঙ্গা অংশটুকু আকড়ে ধরে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। অর্ধেক ভাঙ্গা দোকানে প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে এবং থান কাপড় দিয়ে বেড়া দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায় কার্যক্রম। সকলের প্রত্যাশা প্রয়োজনীয় জায়গাটুকু সরকার নিয়ে বাকি জায়গা সরকারি ভাবে লিজের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিবে।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী মিলন হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এই জায়গাটুকুর মধ্যেই প্রতিদিন কোটি টাকার ব্যবসা হয়। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ হোসিয়ারির জন্য প্রয়োজনীয় কাপড় এখান থেকে সংগ্রহ করা হয়। যে কারণে ব্যবসায়ী ছাড়াও আরো শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে এই জায়গা। তাই আমাদেরকে উচ্ছেদ করলে কয়েক হাজার পরিবার রাস্তায় বসে যাবে। এতদিন ধরে আমরা দালালদের টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন আর দারালদের টাকা দিতে চাই না। আমরা চাই সরকার যাতে সরাসরি এই মার্কেটটি তত্ত¡াবধান করে। তাহলে এখান থেকে সরকার বছরে কোটি টাকা আয় করতে পারবে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদেরকে উচ্ছেদ না করে অবশিষ্ট জায়গায় যাতে আমাদেরকে ব্যবসায় করার সুযোগ দেওয়া হয়।

জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রথমে কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন এলাকায়, পরে ২নং রেল গেট থেকে গলাচিপা পর্যন্তা উভয় পাশে ও সব শেষ চাষাঢ়া এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ওই অভিযান থান কাপড় ব্যবসায়ীদের মার্কেট, উকিলপাড়া হোসিয়ারী মার্কেট, টঙ দোকান, হোটেল সহ ছোট বড় অনেক দোকান ঘর ভেঙে ফেলা হয়। ওই অভিযানের আগে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিলেও লাখ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে দোকান ভাড়া নেওয়ার টাকা তুলতে পারেনি কেউ।

এসব কারণে থানকাপড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করে আন্দোলন করছে। প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন সহ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১২ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত থান কাপড় ব্যবসায়ীরা সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সাথে আলোচনায় বসেছিলেন। প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক উপস্থিত ছিলেন। এসময় তিনি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করে তা নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কাছে জমা দেওয়ার আহবান করেছিলেন। যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কছে আবেদন করার কথা বলেছিলেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেন। যারা ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা করছেন তাদের একটি তালিকা। যারা শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন কিন্তু কোন ব্যাংল লোন নেই তাদের একটি তালিকা এবং যাদের কোন বৈধ কাগজপত্র কিছুই নাই তাদের একটি পৃথক তালিকা তৈরি করে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর কাছে জমা দেন। আমি সেই তালিকা নিয়ে রেলমন্ত্রীর কাছে যাবো। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। তাদের কাছে এসকল ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের অনুরোধ করবো। প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। সরকারী ভাবে জমিও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা তাদেরকে সেখানে পুনর্বাসনের অনুরোধ রাখবো।

তবে শেষ পর্যন্ত কি হবে এ দুশ্চিন্তা নিয়েই দিন পার করছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন করে আবার শুরু করার পর যঙদি আবারো উচ্ছেদের শিকার হতে হয় সেই ভয়েও অনেকে নতুন করে মালামাল তুলছেন না। যে কারণে অনেক শ্রমিক এখনো বেকার ঘুড়ে বেরাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। প্রত্যেকের দাবি যাতে দ্রুত এই জায়গাটি তাঁদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় অথবা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও