এবার আদালতে উৎসব বাস

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৪৫ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার

এবার আদালতে উৎসব বাস

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী উৎসব পরিবহন লিমিটেডের বাসের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আদালতে করা রিটের প্রেক্ষিতে বর্তমান মালিক দাবীদারদের জবাবদিহিতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারীতে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকোর্টের রিটের প্রেক্ষিতে আদালত উৎসব বাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশনা দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উৎসব পরিবহন দ্বন্দ্ব নিরসনে হাইকোর্টের দরাস্ত হন ‘উৎসব পরিবহনের পরিচালনক ও মালিক পরিচয়দানকারী কামাল উদ্দিন মৃধা। প্রথমেই তিনি বিষয়টি নজরে আনেন জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর। বিগত ২৩ ডিসেম্বর জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর কাছে লিখিত অভিযোগ করলে উক্ত কর্তৃপক্ষ ২৪ ডিসেম্বর ‘উৎসব পরিবহন লিঃ’ কে তাদের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে পত্র ইস্যু করেন। কিন্তু উৎসব পরিবহন নির্লিপ্ত থাকে। অতপর কামাল উদ্দিন মৃধা গত ৭ জানুয়ারীতে বিআরটিএ এর নিকট উৎসব পরিবহন লিঃ এর নামে বাস চলাচল বন্ধ রাখার আবেদন করেন। কিন্তু বিআরটিএ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় কামাল উদ্দিন মৃধা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। তিনি হাইকোর্টে বিভাগে রীট পিটিশন নং ৫০৫/২০২০ দায়ের পূর্বক ‘উৎসব পরিবহন লিঃ এর অসৎ উদ্দেশ্যে ও কর্মকা-ের প্রতিকার প্রার্থনা করে। উক্ত রীটের শুনানীতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারীতে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারপতি এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এক রুল জারি করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ মার্চ অথবা তার পূর্বে জবাব দিতে বলেন।

আরো বলা হয়, এর পাশাপাশি উক্ত দ্বৈত বেঞ্চ বিআরটিএ কে আগামী ৬০ দিন অর্থাৎ ২ মাসের মধ্যে কামাল মৃধার দায়েরকৃত উৎসব পরিবহন লিঃ কর্তৃক পরিচালিত বাস সমূহ বন্ধের আবেদনটি নিস্পত্তি করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, এরই মধ্যে কামাল মৃধা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস চালু করেছেন।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারীতে উৎসব পরিবহনের নতুন বাস সার্ভিস চালু করা হয়। এর আগে উৎসব পরিবহনের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে উৎসব পরিবহন নাম পাল্টে উৎসব ট্রান্সপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে মারামারির ঘটনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে উৎসবের বাস বন্ধ করে দেয়। পরে উৎসব পরিবহনের সকল বাস উৎসব ট্রান্সপোর্টের নামে চলাচল শুরু করে। এ নিয়ে উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান কামাল মৃধার অভিযোগের প্রেক্ষিতে উৎসব ট্রান্সপোর্টের সকল বাস গত ১৬ অক্টোবর বন্ধ করে দেয়া হয়।

উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা কামাল মৃধা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘১৬ অক্টোবর থেকে উৎসবের বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ উৎসব পরিবহনের চেয়ারম্যান আমি। কিন্তু একটি পক্ষ পরিবহনের নাম বদলে ট্রান্সপোর্ট নামকরণে করে বাস চালাচ্ছিল। গত ১৬ অক্টোবর সেটা বন্ধের পর থেকে আমাদের লোকজন নিয়মিত কাউন্টারে গিয়ে বসছিল। উৎসব ট্রান্সপোর্টের শহীদউল্লাহর ছোট ভাই আহসানউল্লাহ সহ আরো কয়েকজন মিলে রাসেলকে মারধর করে ঢালু মুন্সীকে অপহরণ করে বন্দরের নবীগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করে ১৭শ টাকা লুটে নেয়। পরে পুলিশ তৎপর হলে অপহরণকারীরা ঢালু মুন্সীকে ছেড়ে দেয়।

কামাল মৃধা আরো জানান, ‘উৎসব পরিবহনের প্রকৃত মালিক আমি। কিন্তু এত বছর আমার নামে বাস চালিয়ে কোটি কোটি লোপাট করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘২০০২ সালে জুলাইতে উৎসব কোম্পানীটি চালু হয়। তখনি ভাড়া দুই টাকা কমিয়ে ১০ টাকায় পরিচালনা করেছি। এর পর থেকেই শুরু বিভিন্ন মামলা। যখন মামলা একের পর এক হতে থাকে তখনি আমি আর সামলিয়ে উঠতে পারি নাই। বাধ্য হয়ে বিদেশ চলে যাই। বিভিন্ন মামলায় ও ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ২০০৫ সালে আমার ভাগিনা কাজল মৃধাকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নিউইয়র্ক চলে যাই। বিদেশে থাকা অবস্থায় সকল মামলা শেষে দেশে ফিরে এসে কাজল মৃধাকে ব্যবসার হিসাব চাইলে সে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে ভয় দেখায় এবং আমার ব্যবসার আয় থেকে দোকান, গাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি আমার নামে ক্রয় না করে নিজের নামে ক্রয় করে। পরবর্তীতে দেশে এসে দেখি আমার কোম্পানি দখল হয়ে গেছে।’


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও