করোনা আতঙ্কে গুজবে বাজারে ভীড়, বেড়েছে বিক্রি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:১৬ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২০ বুধবার

করোনা আতঙ্কে গুজবে বাজারে ভীড়, বেড়েছে বিক্রি

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। করোনা আতঙ্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। যেকারণে শিঘ্রই অন্য সব প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন গুজবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে। প্রকৃতঅর্থে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না পেলেও করোনা আতঙ্ক পুঁজি করে একদল মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আতঙ্কিত জনতা অনেকটা হুজুগে পড়ে বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ করছে।

১৮ মার্চ বুধবার শহরের কয়েকটি বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ঘুরে জানা গেছে, চালের দাম কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট চাল ৫০-৫২ টাকা, নাজির ৫৪-৫৫ টাকা কেজিতে এবং লতা চাল ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বস্তা প্রতি ১শ থেকে ৩শ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশাখ মাসে নতুন ধান আরোহন করা হবে। এই শেষ মাসে ধানের মোকামগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে-এমন অজুহাতে পাইকারী বাজারে দাম কিছুটা বাড়লেও খোলা বাজারে এর সাথে করোনা আতঙ্ক যোগ হয়েছে। তবে খোলা বাজারের বিক্রেতারা এ নিয়ে মুখ খুলছেনা।

ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, চালের বাজারে দাম কিছু বাড়লেও করোনার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। একদল মুনাফাভোগী চক্র গুজব ছড়িয়ে ফয়দা লুটে নিচ্ছে।

এছাড়া মুশুরীর ডাল দেশি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, হাইব্রিড ৭০ টাকা এবং নিম্নমানের মোটা ডাল ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, ডালের দাম এখন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়নি। এখন দাম আরো কমার কথা। তবে এভাবে গুজব ছড়াতে থাকলে ও সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে অচিরেই দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

সোয়াবিন তেল প্রতি ৫ লিটার রুপচাঁদা ৫শ টাকা ও তীর ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে প্রতি কেজি সোয়াবিন তেল ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সোয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পায়নি। তবে তেল কোম্পানীগুলোর প্রতিনিধিরা দাম বাড়িয়ে বিক্রির কথা বলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। যার ফলে পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে।

পেঁয়াজ প্রতি পাল্লায় ৩০-৪০ টাকা বৃদ্ধিতে ২১০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে ৫-১০ টাকা বৃদ্ধিতে ৪৫-৫০টাকায় প্রত্যেক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে চাল ও ডালের পর পেঁয়াজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এসব পণ্যের পাশাপাশি প্রায় সকল নিত্যপণ্যের দাম কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সুযোগ পেলেই মুনাফালোভী ক্রেতারা দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কালীরবাজারের পাইকারী দোকানি শান্ত জানায়, কোন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। শুধুমাত্র চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। সামনে বৈশাখে চালের দাম করে যাবে। তবে করোনা আতঙ্কে বেচা বিক্রি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় দশগুণ বিক্রি বেড়েছে।

খোলা বাজারের দোকানীরা বলছেন, করোনা আতঙ্কে গত দুদিন যাবত বিক্রি বেড়েছে। সবার দোকান খালি হয়ে গেছে। ক্রেতাদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাংলাদেশেও দিনদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিনদিন কোয়ারেন্টাইন ও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা সন্দেহভাজনের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রোগী শনাক্তের আগেই মাস্কের দাম বেড়ে যাওয়ার এখন নিত্যপন্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই আগে থাকতেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে মজুদ করতে চাইছেন।

উল্লেখ্য, যত দিন যাচ্ছে ততই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে করোন ভাইরাস। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হয়ে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১৫৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতি ভাইরাসটি। চীন, ইতালি, ইরানের মত জায়গায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরলেও এখনো ব্যাপক আকার ধারণে করেনি বাংলাদেশে। বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭হাজার জন। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২লাখ। এদের মধ্যে প্রায় ৮০হাজার সুস্থ হয়ে উছেছেন।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও