বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, করোনার সুযোগে সিন্ডিকেটের বাণিজ্য

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:২৭ পিএম, ২০ মার্চ ২০২০ শুক্রবার

বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, করোনার সুযোগে সিন্ডিকেটের বাণিজ্য

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্কে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বেশ প্রভাব পড়েছে। করোনার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এরুপ আশঙ্কায় ভোক্তারা বাজারগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। এই সুযোগে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবুও করোনা আতঙ্কে ভোক্তাদের কেনাকাটা থেকে নেই। বেশি দামেই বিভিন্ন পণ্য মজুত করছে যা ব্যবসায়ীদের জন্য সংকটের অজুহাতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে।

শহরের দিগু বাবুর বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ঘুরে জানা গেছে, একদিনের ব্যবধানে চালের দাম কেজি প্রতি ৪-৮ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৭-৮ টাকা বৃদ্ধিতে ৫৯-৬০ টাকা, নাজির চাল কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বৃদ্ধিতে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে লতা চাল ৪০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বস্তা প্রতি ৩শ থেকে ৬শ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তা প্রতি ৬শ টাকা বৃদ্ধিতে চালের বাজারে আগুন ঝরছে।

খোলা বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারী বাজারে চড়া মূল্যে চাল কিনতে হচ্ছে তাই বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে পাইকারী বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯ মার্চ আড়াইহাজার উপজেলার সর্বত্র করোনা ভাইরাস আতংকে চালের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ খবরের ভিত্তিতে বিকালে ম্যাজিস্ট্রেট মো. উজ্জল হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আড়াইহাজার সদর বাজারের ৩ ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: উজ্জল হোসেন জানান, আমাদের নিকট অভিযোগ আসছে বাজারে প্রতি বস্তা চালের দাম ৩ থেকে ৪শ টাকা বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

এ খবরের ফলে বৃহস্পতিবার বিকালে নিতাইগঞ্জে মদিনা রইস এজেন্সির ২০ হাজার টাকা, মা রাইস এজেন্সির ২০ হাজার ও এ রহমানের চালের দোকানে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো জানান, একজন ক্রেতার নিকট থেকে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ায় তাৎক্ষনিক তার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ১৫ মার্চ ১৭২০ টাকা যে বস্তা চাল বিক্রি হয়েছে। সেই বস্তা বৃহস্পতিবার ১৯৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জ শহর সহ জেলার সব স্থানে একই দশা দেখা যাচ্ছে। সিন্ডিকেট করে কয়েকগুণ দাম বাড়ি দিচ্ছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। এতে করে কয়েকগুণ বেশি দাম দিয়ে ক্রেতারা পণ্য ক্রয় করছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ছে। আর তাতে করে সবাই কয়েক মাসের খাবার মজুত করছে। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আলু কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বৃদ্ধিতে ২২-২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর পাল্লা প্রতি (৫ কেজি) ৩০ টাকা বৃদ্ধিতে ১শ টকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০-৭০ টাকা হয়েছে। পাল্লা প্রতি পেঁয়াজ ১শ থেকে ১২০ টাকা বৃদ্ধিতে ৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

খোলা বাজারের বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ার ফলে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় দশগুণ বেচাবিক্রি বেড়েছে। মাল সরবরাহ করে কুল কিনারা পাওয়া যাচ্ছেনা। ক্রেতারা সবাই বিভিন্ন পণ্য মজুদ করছে। এই সুযোগে দাম বেড়েই চলেছে। কারণ এতে করে বাজারে কৃত্রিম সংকটে অজুহাত অনায়াসে দেখানো যাচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং টিমের সবার আগে প্রয়োজন। করোনা আতঙ্ক সবার মাঝে বিরাজ করছে। কোন কারণে এ জেলা লক ডাউন করে দেয়া হলে পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাছাড়া সেসময় সব ধরণের পণ্য নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই জনগণকে সচেতন করার আগে প্রশাসনের উচিত মুনাফালোভী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এতে করে দাম সহসশীল অবস্থায় থাকবে। তাতে করে সবকুল রক্ষা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের ১৭ জনের মধ্যে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছে। নারায়ণগঞ্জের অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ক্রমশ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা বাড়ছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও