পেয়াজ ও চালের বাজার অস্থির

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪০ পিএম, ২০ মার্চ ২০২০ শুক্রবার

পেয়াজ ও চালের বাজার অস্থির

করোনাভাইরাস আতঙ্কে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন ঝরছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চাল, পেঁয়াজ, আলু সহ নিত্যপণ্যের দাম। প্রাণঘাতি করোনার আতঙ্ক বাসা বেধেছে জনমনে, যেকারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতে যথেষ্ট পরিমাণ পণ্য মজুদ করে নিচ্ছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাইকারী বাজার থেকে শুরু করে খোলা বাজারে বিভিন্ন পণ্য কেজি প্রতি ১৫-৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্রাম্যমানও আদালতও যথেষ্ট পরিমাণ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। হাতেগোনা দু-একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও স্থায়ী কোন সমাধার পথ খুঁজে পাচ্ছেনা। এতে করে নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির লাগাম কিছুতেই টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা।

নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, কে বা কারা ভোক্তাদের কাছে গুজব ছড়িয়েছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কে সব কিছু বন্ধ করে দেয়া হবে তখন খাবার সংকট দেখা দেবে-এমন গুজবে পণ্যের বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। দামের তোয়াক্কা না করে ভোক্তারা পণ্য মজুদ করে যাচ্ছে। এতে করে মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীদের গুজব বস্তুত অর্থে কাজে এসেছে। আর তাতে করে পণ্যের দাম দফায় দফায় বেড়ে চলেছে।

শুক্রবার ২০ মার্চ শহরের দিগু বাবুর বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ঘুরে জানাগেছে, সকল পণ্যের দাম বেড়েছে। তবুও দীর্ঘ লাইন ধরে ক্রেতারা বেশি দরে পণ্য কিনছে। দেখে মনে হচ্ছে, বিনামূল্যে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে, টাকা দিয়ে বেশি মূল্যে জনগণ লাইন ধরে পণ্য ক্রয় করছে। সত্যিই অবিশ্বাস্য !

জানা গেছে, তিন দিনের ব্যবধানে চালের দাম কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বৃদ্ধিতে ৬০-৬২ টাকা, নাজির চাল কেজি প্রতি ৭-৮ টাকা বৃদ্ধিতে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে লতা চাল ৪০ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বস্তা প্রতি ৬শ থেকে ৭শ টাকা বৃদ্ধিতে চালের বাজারে আগুন ঝরছে। খোলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারী বাজারে দাম বাড়লে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। তাছাড়া দাম বাড়লেও জনগণতো চাল মজুদ করা কমাচ্ছেনা। উল্টো দাম যত বাড়ছে ভোক্তারা তত বেশি ক্রয় করছে। এতে করে দাম আরো বাড়ছে।

পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৩০ টাকা বৃদ্ধিতে এখন ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত তিন দিনের ব্যবধানে এই মূল্য বৃদ্ধির চিত্র দেখা যায়। এর আগে পেঁয়াজের দাম কমতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার করোনা আতঙ্কে উল্টো মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইকারী বাজারে পাল্লা প্রতি (৫ কেজি ) ১৪০ টাকা বৃদ্ধিতে ৩২০ টাকা হয়েছে।

আলু কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা বৃদ্ধিতে ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে ১৬-১৭ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হয়েছে। তবে কয়েকদিনের ব্যবধানে এবার পাল্লা প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধিতে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পাইকারী বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়ে তা একেবারে অপ্রতুল। কারণ দু-একটি দোকানে জরিমানা করলেও দিনের বাকি সময় সেই একই দৃশ্য দেখা যায়। ভ্রাম্যমান আদালত চলে যাওয়ার পর সেই অনিয়মের চিত্র দেখা যায়।

গত ১৯ মার্চ আড়াইহাজার উপজেলার সর্বত্র করোনা ভাইরাস আতংকে চালের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ খবরের ভিত্তিতে বিকালে ম্যাজিস্ট্রেট মো. উজ্জল হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আড়াইহাজার সদর বাজারের ৩ ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

তবে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শেষ হতেই ফের বেশি মূল্য আদায়ের মহোৎসবে মেতে উঠে ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া ভ্রাম্যমান আদালত গুটি কয়েক দোকানে অভিযান পরিচালনা করলেও বাকি দোকানিরা রয়েছে বহাল তবিয়তে। মূল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সহ সকলকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছেনা। এতে করে পণ্য দ্রব্যের উর্ধ্বগতি কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছেনা।

ভোক্তারা বলছেন, করোনা আতঙ্ক সবার মাঝে বিরাজ করছে। এর ফলে দাম বৃদ্ধির কথা প্রথম দিকে বিশ্বাস করিনি। তবে দিন যাচ্ছে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে। যেকারণে বাধ্য হয়ে পণ্যের বাজারে ছুটতে হচ্ছে। বর্তমান বাজারের চড়া মূল্যে সব পণ্য কিনতে হচ্ছে। দিনে দিনে দাম বাড়ছে। যেকারণে পণ্য মজুদ না করে উপায় নেই। আর পুলিশ প্রশাসনও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। তাই তো দাম শুরু বেড়েই যাচ্ছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও