চালের বস্তায় বাড়লো ৬০০ টাকা, জরিমানাতেও লাগামহীন বাজার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৪ পিএম, ২১ মার্চ ২০২০ শনিবার

চালের বস্তায় বাড়লো ৬০০ টাকা, জরিমানাতেও লাগামহীন বাজার

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে নিত্যপণ্যের বাজারগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে চালের বাজার সবচেয়ে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। পাইকারী বাজার থেকে শুরু করে খোলা বাজারে চলছে হরিলুট। খোলা বাজারে কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারী বাজরে ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ৬শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেও কোন কাজ হচ্ছেনা। অভিযানের পর পরই আগের চিত্রে ফিরে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত করোনা আতঙ্কে গত কয়েকদিন ধরে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। চালের বাজারে বেশ কয়েকদিন যাবত মুনাফালোভী সিন্ডিকেট বেশ টাকা আদায় করছে। এর প্রেক্ষিতে ১৯ মার্চ ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ বাজারের ৪ চালের আড়তকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। অভিযানে চালের দাম বেশি রাখায় মেসার্স আনোয়ার ট্রেডার্স ৪০ হাজার, মেসার্স পরশ মনি রাইস এজেন্সিকে ২০ হাজার ও মেসার্স সবুজ ট্রেডিংকে ৫ হাজার এবং মেসার্স আল আমিন ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় নিতাইগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি আবদুল কাদিরকে (জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি) সতর্ক করে দেয়া হয়।

২১ মার্চ নিতাইগঞ্জ বাজার ও খোলা বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নিতাইগঞ্জের অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ী ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের ভিড় থাকায় তারা বেশি দাম হাকাচ্ছেন। পরশমনি রাইস এজেন্সিতে মিনিকেট চাল বস্তা প্রতি ২৭শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে পূর্বমূল্য ছিল ২৩-২৪শ টাকা। আর নাজির চাল ২৯শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যার পূর্বমূল্য ছিল ২৪-২৫শ টাকা। এছাড়া কাদেরিয়া ট্রেডার্সে মিনিকেট চাল বস্তা প্রতি সাড়ে ২৭শ টাকা এবং নাজির চাল ২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আশেপাশের দোকানগুলোতে ঠিক একইভাবে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে ন্যাশনাল রাইস এজেন্সি ও আরব রাইস এজেন্সিতের বিক্রেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মিনিকেট চাল ২৪শ থেকে ২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর নাজির চাল ২৪শ থেকে সাড়ে ২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বৈশাখের আগে ধানের সংকটের কারণে দাম কিছুটা বাড়বে স্বাভাবিকভাবে। তবে বস্তাপ্রতি ৫-৬শ টাকা বৃদ্ধি এটা নিতান্তই কারসাজি। এরুপ অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীদের সম্মান ক্ষুন্ন হয়।

ব্যবসায়ী সূত্রে জানাগেছে, মিনিকেট চাল কিছুদিন আগেও ২২শ থেকে ২৫শ টাকায় প্রতি বস্তা বিক্রি হতো। আর নাজির চাল ২৪-২৫ টাকায় বিক্রি হতো। কিন্তু এখন সেই চাল বস্তা প্রতি ৫-৬শ টাকা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লতা চাল বর্তমানে সাড়ে ১৮শ থেকে ২হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কিছুদিন পূর্বেও এই চাল ১৬শ থেকে ১৮শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর স্বর্ণা চাল এখনো বাজারে একেবারে নেই।

নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, কে বা কারা ভোক্তাদের কাছে গুজব ছড়িয়েছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কে সব কিছু বন্ধ করে দেয়া হবে তখন খাবার সংকট দেখা দেবে-এমন গুজবে পণ্যের বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। দামের তোয়াক্কা না করে ভোক্তারা পণ্য মজুদ করে যাচ্ছে। এতে করে মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীদের গুজব বস্তুত অর্থে কাজে এসেছে। আর তাতে করে পণ্যের দাম দফায় দফায় বেড়ে চলেছে।

জানাগেছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে। যদিও এখনো বাজার স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যে দোকানগুলোকে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও আগের মত সেই হুড়োহুড়ি নেই। এতে করে বিক্রেতারাও দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছেন। যদিও অনেক বিক্রেতারা আগের বাড়তি মূল্যেই পণ্য বিক্রি করছেন। তবে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের লাগাম কিছুতেই টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। কারণ প্রশাসনের অভিযান শেষ হতেই ফের বাড়তি টাকা আদায়ের মহোৎসবে মেতে উঠে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী সূত্র বলছে, পর্যাপ্ত পরিমানে চাল গোডাউনে মজুত আছে। কিন্তু এরপর কি কারণে ক্রেতারা এতো ভিড় করছে বুঝিনা। করোনা আতঙ্কের ফলে একজনে যদি ৫ বা ১০ বস্তা করে চাল ক্রয় করে সেই সুযোগতো মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীরা নিবেই। এই সংকট মূলত সাধারণ জনগণের জন্য তৈরি হয়েছে। আর সেই সংকটকে পুঁজি করে মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীরা আখের গুছিয়ে নিচ্ছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও