মার্কেট বন্ধের ঘোষণায় ফের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার শঙ্কা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৭ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২০ সোমবার

মার্কেট বন্ধের ঘোষণায় ফের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার শঙ্কা

করোনাভাইরাস আতঙ্কে আগামী ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশের ওষুধের দোকান, নিত্যপণ্যের দোকান ও কাঁচাবাজারের দোকান ছাড়া সব ধরণের মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে করে আতঙ্কিত জনতা ফের বাজারমুখী হয়ে পড়েছে। আর তাতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ফের বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এর আগে সব কিছু বন্ধ করে দেয়ার গুজবে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলা হয়। এবার মার্কেট বন্ধের ঘোষণার মধ্য দিয়ে নতুন করে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার নানা দৃশ্যপট তৈরি হতে পারে। আর তাতে করে পণ্যের দাম ফের বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

জানাগেছে, ২২ মার্চ সন্ধ্যায় মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে জানানো হয়, ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে সুপারশপ সহ সব মার্কেট বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র ওষুধের দোকান, নিত্যপণ্যের দোকান ও কাঁচাবাজারের দোকান খোলা থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র মার্কেট বন্ধের ঘোষণা দেয়া হলেও এই আতঙ্ক খাদ্য সংকটের দিকে ইঙ্গিত দিবে যা জনগণের মনে বেশ দাগ কাটবে। তাছাড়া একে একে প্রায় সবকিছু বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রথম দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সব সিনেমা হল বন্ধ করা হয়। এরপর কয়েকটি উপজেলা লক ডাউন করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে জনসমাগম ঠেকিয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে র‌্যাব। সবকিছু স্বাভাবিক থাকতে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর এখন বর্তমান পেক্ষাপটে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়াটা বেশ স্বাভাবিক।

এদিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে একদল মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা বাজারে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের ফলে দোকানপাঠ সহ সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হবে। এর ফলে খাদ্য সংকট দেখা দিবে। এমন গুজবে ক্রেতাদের মধ্যে হুলূস্থ’ূল কান্ড দেখা দেয়। সবাই যার যার সাধ্যমত নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য মজুত করা শুরু করে। অন্যদিকে সরবরাহের তুলনায় বেশি চাহিদা থাকায় চাল, পেঁয়াজ, আলু সহ অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

জানা গেছে, পাইকারী ও খোলা বাজারে চালের দাম বেড়েছে। বস্তা প্রতি ৬শ টাকা বৃদ্ধিতে খোলা বাজারে কেজি প্রতি মোটা চালের দাম বেড়েছে ৮-১০ টাকা। পরশমনি রাইস এজেন্সিতে মিনিকেট চাল বস্তা প্রতি ২৭শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে পূর্বমূল্য ছিল ২৩-২৪শ টাকা। আর নাজির চাল ২৯শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যার পূর্বমূল্য ছিল ২৪-২৫শ টাকা। এছাড়া কাদেরিয়া ট্রেডার্সে মিনিকেট চাল বস্তা প্রতি সাড়ে ২৭শ টাকা এবং নাজির চাল ২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আশেপাশের দোকানগুলোতে ঠিক একইভাবে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

আলু কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা বৃদ্ধিতে ২২-২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর পাল্লা প্রতি (৫ কেজি) ৩০ টাকা বৃদ্ধিতে ১শ টকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০-৭০ টাকা হয়েছে। পাল্লা প্রতি পেঁয়াজ ১শ থেকে ১২০ টাকা বৃদ্ধিতে ৩শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে অধিক মূল্য ঠেকাতে ভ্রাম্যমান আদলত বিভিন্ন বাজারগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হচ্ছেনা। নিতাইগঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে জেলা জরিমানা করা হয়। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হচ্ছেনা। একদিকে অভিযান সম্পন্ন হচ্ছে অন্যদিকে সেই আগের চিত্র দেখঅ যাচ্ছে। এর আগে নিতাইগঞ্জের বাজারে কয়েকটি দোকানকে জেলা জরিমানা করা হলেও মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আগের চিত্র দেখা গেছে।

নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এমনিতে সুযোগ খুঁজছে। আর তারা অবশ্যই করোনা আতঙ্কের এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইবে। কারণ সাধারণ জনগণের মধ্যে করোনাকে কেন্দ্র করে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই বিষয়টি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এই কয়েকদিনে বেশ ভালভাবে বুঝতে পেরেছে। এবারো তারা এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইবে। যদিনা সাধারণ জনগণ ফের আতঙ্কিত হয়ে ফের বাজার মুখি হয়ে পড়ে। তবে প্রশাসন যদি তৎপর থাকে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা তাদের হীন পরিকল্পনায় সফল হবেনা।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও