করোনা : সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানছেনা রেস্টুরেন্টগুলো

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২০ শনিবার

করোনা : সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানছেনা রেস্টুরেন্টগুলো

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও ১০ দিনের ছুটির দ্বিতীয় দিন চলছে। সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, চাইনিজ সেন্টার ও ফাস্টফুডের বেশীরভাগই বন্ধ রয়েছে। তবে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানেনি সুগন্ধার প্রতিষ্ঠানগুলো। সুগন্ধা প্লাস রেস্টুরেন্টের চাষাঢ়া ও বঙ্গবন্ধু সড়কের শাখা এবং সুগন্ধা ফাস্টফুড ও সুগন্ধা বেকারীতে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনাকে মানা হচ্ছেনা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুধুমাত্র পার্সেল বিক্রি করতে পারবে এমন নির্দেশনা থাকলেও সেটা মানেনি সুগন্ধার মালিকপক্ষ। তবে শুধু সুগন্ধার মালিকপক্ষ নয় সুমাইয়া, প্রিন্স, শাহজালাল ক্যাফেসহ বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুডেও একই অবস্থা। এমনকি ফার্মেসী ও বেকারী পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোতেও মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে সারাদেশেই ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে রাস্তায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে র‌্যাব ও পুলিশ। এছাড়া সেনাবাহিনীও মাঠে রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে রাস্তায় থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেউ বের হলে তাঁকে র‌্যাব পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ১০ দিনের ছুটি সরকারি ও বেসরকারি অফিস এবং আদালতের জন্য প্রযোজ্য। সড়কে কোনো গণপরিবহন চলবে না। তবে পণ্যবাহী যানবাহন এর আওতার বাইরে। ইতিমধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথমদিনে শহরের চাষাঢ়ায় এলাকায় র‌্যাব-১১ এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারী এলাকায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ মাস্ক ছাড়া ও অহেতুক ঘোরাঘুরি করার কারণে কিছু যুবককে কান ধরে ওঠবস করায়। এছাড়াও শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে লাঠিপেটা করারও খবর পাওয়া গেছে। এরপর থেকে মূলত শহর অনেকটাই ফাঁকা। খুবই প্রয়োজন না হলে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে প্রধান সড়কে আসছেনা। শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা হলেও পাড়া মহল্লাতে ঠিকই দলবেঁধে আড্ডা দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না তারা।

এদিকে ১০ দিনের ছুটির কারণে শহরের শতাধিক রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড ও চাইনিজ রেস্টুরেন্টের প্রায় সবকটিই বন্ধ রয়েছে। কারণ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করতে রেস্টুরেন্ট তথা খাবার বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র পার্সেল বিক্রি করতে পারবে। তারা ক্রেতাকে বসিয়ে খাওয়াতে পারবেনা। কিন্তু গত দুইদিন ধরে সুগন্ধা প্লাস রেস্তোরা, সুগন্ধা ফাস্টফুড ছাড়াও সুমাইয়া রেস্টুরেন্ট, প্রিন্স বিফ বিরিয়ানী হাউস, শাহজালাল ক্যাফে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টগুলোতেও মানা হচ্ছেনা সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা। এমনকি ফার্মেসী ও বেকারী পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই নেই। কোন রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড, ফার্মেসী ও নিত্যপণ্যের দোকানে পণ্য ক্রয় করার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্বে দাড়াতে হবে। কিন্তু শহরে ক্রেতাদের কেউ মানতে সেটা মানছেনা। বিক্রেতারাও এ বিষয়ে উদাসীন। বরং রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডে বসিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। শহরতলীতে ও পাড়া মহল্লায় চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডার মহোৎসব চলছে। আর এসকল বিষয়গুলো প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব আরো বাড়াবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও