পাইকারী বাজারে হ্যান্ডওয়াশ নাই, ননব্র্যান্ডের পণ্যে সয়লাব

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০০ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২০ শনিবার

পাইকারী বাজারে হ্যান্ডওয়াশ নাই, ননব্র্যান্ডের পণ্যে সয়লাব

করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারা বাংলাদেশের জনগণ বেশ আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। এর মধ্যে সকল মার্কেট বন্ধ সহ সাধারণ ছুটি ঘোষণার ফলে আগে ভাগেই প্রয়োজনীয় সবকিছু যোগাড় করেছে। তবে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি ক্রয় করার রীতিমত সংকট তৈরি হয়েছে বাজারে। নিত্যপণ্যের বাজারগুলোর দিকে নজর দিলে তার প্রমাণ মিলে। করোনা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হ্যান্ডওয়াশ এখন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। খোলা বাজারে এসব পণ্য একেবারে নেই।

তবে পাইকারী বাজারে ঢু মারলে হাতে গুনা কয়েকটি দোকানে এই সোনার হরিণের সন্ধান মেলে, তবে সেসব কোম্পানী একেবারে অপরিচিত। বিদেশি নানা কোম্পানীর কথা বলে সেসব হ্যান্ড ওয়াশ বিক্রি করা হচ্ছে তাও আবার মূল্য তালিকার পৃথক লেভেল ব্যবহার করে।

২৮ মার্চ শনিবার দুপুরে শহরের অন্যতম পাইকারী মার্কেট দিগু বাবুর বাজার ও ফলপট্টির মোড় ঘুরে নানা তথ্য পাওযা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফলপট্টি এলাকায় নিত্যপণ্যের পাইকারী দোকানগুলোর গুটি কয়েক দোকানে হ্যান্ড ওয়াশ রয়েছে। তবে সেগুলো দেশি কোন ব্রান্ডের হ্যান্ড ওয়াশ নয়, অপরিচিত নানা কোম্পানীর নামে বিক্রি হচ্ছে। ডক্টরস ক্লিন হ্যান্ড ওয়াশটি ১৫০ টাকা, মি. ম্যাজিক ১৮০ টাকা, পারর্স ২৮০ টাকা সহ বিভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব হ্যান্ড ওয়াশ। তবে এসব হ্যান্ড ওয়াশের গায়ে স্থায়ীভাবে কোন মূল্য লেখা নেই। মূল্যের আলগা লেভেল লাগিয়ে বিভিন্ন দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে। অবশেষে একটি দোকানে স্যাভলন হ্যান্ড ওয়াশ ৯০ টাকা ও তার রিফিল ৫৫ টাকায় পাওয়া গেল।

স্যাভলন হ্যান্ড ওয়াশ বিক্রয়কারী বললেন, বাজারে আর কোন দোকানে স্যাভলন হ্যান্ড ওয়াশ পাবেননা। দরকার থাকলে এখনি নিয়ে যান। পরে বিক্রি হয়ে গেলে পাবেননা। সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী এক সপ্তাহ এসব পণ্যের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছেনা।

অন্য দোকানিরা বলছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে হ্যান্ড ওয়াশ সহ পরিষ্কার করার প্রায় সকল পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। আরো প্রায় এক সপ্তাহ আগে এসব পণ্য শেষ হয়ে গেছে। এর সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কোম্পানী বাজারে পণ্য সরবরাহ করলে আমরা বিক্রি করবো। তাই এসব পণ্যের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, হ্যান্ড ওয়াশ আছে কিন্তু কেউ বিক্রি করতে চাইছেনা। করোনা আতঙ্কে ক্রেতাদের ভিড় দেখে আগে থেকেই ক্রেতারা এসব পণ্য সরিয়ে ফেলেছে। যাতে করে সংকটের মুখে বেশি দরে বিক্রি করা যায়।

উল্লেখ্য, করোনভাইরাস অতি মাত্রায় ছোঁয়াচে যেকারণে এই রোগে আক্রান্ত রোগী ও তার আশেপাশের বস্তুও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। একারণে সরকারী ও বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এবং ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। সকল প্রকার মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। মূলত অতিমাত্রায় ছোয়াচে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু এরপরও জনসমাগম যেন না ঘটে সেজন্য পুলিশ প্রশাসন সহ র‌্যাব ও সেনাবাহিনী নামানো হয়। এতে করে আগে ভাগে সবাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার নানা উপকরণও মজুত করে। যেকারণে বাজারে হ্যান্ড ওয়াশের মত নানা পণ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে একদল অতিমুনাফাভোগী ব্যবসায়ীরা কৃত্তিম সংকট তৈরি করছে।

জানাগেছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ জন। আর সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুবরণে করেছে ২৪ হাজারের অধিক। যেকারণে বাংলাদেশের আক্রান্ত অনেক উপজেলা লকডাউন সহ সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও