নির্দেশনা অমান্য করে খোলা ছিল অনেক গার্মেন্টস

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৮ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২০ শনিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ সহ সারা দেশের সকল নীট গার্মেন্টস বন্ধ রাখার নির্দেশ নিয়েছিলেন বিকেএমইএ এর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করে খোলা রাখা হয়েছে শিল্পাঞ্চল বিসিকে একাধিক গার্মেন্টস। যেখানে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক শ্রমিক।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট কারখানা নিট কনসার্ন ও ফকির নিটওয়্যারের একটি সেক্টর খোলা ছিল।

২৮ মার্চ শনিবার একাধিক শ্রমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় নীট গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠন বিকেএমইএ এর নির্দেশ অমান্য করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভয়াবহ বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে বিসিকের বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস মালিক। প্রতিবেদকের কাছে একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন যে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে গার্মেন্টে আসতে না চাইলেও চাকরি থেকে ছাটাই এবং বেতন না দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁদেরকে কাজে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে।

গত ২৭ মার্চ বিবৃতিতে বিকেএমইএ এর আওতাভুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি ও সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। এর আগের গত ২৫ মার্চ নীট গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ এর পক্ষ থেকে সকল সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি অনুরোধ রেখেছিলেন তিনি। তার একদিন পর ২৬ মার্চ আরএমজি সেক্টরের আরেক বৃহৎ সংগঠন বিজিএমইএ এর সভাপতি ড. রোবানা হকও সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠান গুলোকে একই অনুরোধ করে ছিলেন।

বিকেএমইএ এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, সরকার জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছেন। রাস্তায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একত্রে ২জন অধিক ব্যক্তি এক সাথে রাস্তায় চলাফেরা করতে নিষেধ করেছেন। গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। সেই সাথে হোটেল রেস্তোরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনদের যাতায়াত এবং খাওয়া দাওয়ায় ভীষন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের মাঝে কেউ করোনা রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা নিজেরাও চাচ্ছি আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের কারখানাগুলো বন্ধ থাকুক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস অতিসংক্রমিত একটি ভাইরাস। যে ভাইরাসটি বয়স্ক এবং তুলনামূলক দুর্বল মানুষদের বেশি সহজে আক্রমণ করতে পারে। তবে ভাইরাসটি শুধুমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ ছাড়া আর ভাইরাসটি ছড়াতে পারে না। যে কারণে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেশ তৎপর সরকার। যে কারণে ইতোমধ্যে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি অফিস, পর্যটন কেন্দ্র, সভা সমাবেশ সহ জনসমাবেশ হয় এ ধরণের কাজ ও জায়গা বন্ধ করে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিসিক শিল্প নগরীকে কয়েক হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত আছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। এছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই মধ্য বয়সি থেকে উর্ধ্ব বয়সের শ্রমিক। যাদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমন হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি।

তবে সরকারের পাশাপাশি নীট গার্মেন্টস শিল্পের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএ এর সভাপতি দ্বয় গার্মেন্টস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো অনেক গার্মেন্টস মালিক সেই নির্দেশ মানছেন না। যে কারণে গার্মেন্টসগুলো থেকে সংক্রমিত হলে মুহূর্তেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা তৈরী হচ্ছে। এমতাবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি সারা দেশে মরণঘাতি করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে গার্মেন্টস বন্ধের কোনো বিকল্প দেখছেন না সচেতন মহল। প্রয়োজনে গার্মেন্টস বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও