৪ এপ্রিলের পর গার্মেন্ট কারখানা খোলা নিয়ে বিকেএমইএ সভাপতির চিঠি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৫ পিএম, ২ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার

৪ এপ্রিলের পর গার্মেন্ট কারখানা খোলা নিয়ে বিকেএমইএ সভাপতির চিঠি

গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম সাক্ষরিত বলা হয়েছে, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে সাদৃশ্য রেখে তথা শ্রমিকদের জমায়েত হ্রাস ও তাদের যাতায়াতের অসুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে বিকেএমইএ’র সদস্যভুক্ত সকল নীট পোশাক কারখানা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। এর আলোকে আপনি উক্ত নির্দেশনাটি মেনে চলায় বিকেএইএ’র পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

৪ এপ্রিলের পর কারখানাগুলোর জন্য পরবর্তী নির্দেশনাসমূহ নি¤œরূপ-

আপনি নিশ্চয় ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছেন যে, সরকার উক্ত সাধারণ ছুটি ৯এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। ১০ এপ্রিল শুক্রবার ও ১১ এপ্রিল ব্যাংক ও সরকারি কার্যালয় ছুটি হওয়ায় সকল প্রতিষ্ঠানসমূহ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকছে।

এমতাবস্থায় ৪ এপ্রিলের পর থেকে আপনি আপনার কারখানাটি পরিচালনা করবেন কিনা তা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

যদি কারখানা পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তবে সেক্ষেত্রে কারখানা পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে আপনার শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে কারখানা পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিকের সকল দায়-দায়িত্ব আপনার নিজস্ব রিক্স এন্ড রেসপন্সিবিলিটিতে থাকবে।

যদি কাজের অর্ডার/ক্রয়াদেশ থাকে সেক্ষেত্রে কারখানা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা নেই। অর্থাৎ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার যে নির্দেশনা বিকেএমইএ থেকে প্রদান করা হয়েছিল, ৪ এপ্রিলে পর থেকে সে ধরনের আর কোনো বিধি নিষেধ থাকছে না।

তবে কারখানা পরিচালনার বিষয়টি অবশ্যই আপনার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হবে। কারখানা পরিচালনাকালীন সময়ে যেমনভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে, ঠিক তেমনি ভাবে ছুটির পরে ফ্যাক্টরি খোলার সময় অবশ্যই শ্রমিক/কর্মকর্তাসহ সকলের মেডিক্যাল চেকআপ করে কোনো রোগ না থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়ে তবেই তাদের (শ্রমিক/কর্মকর্তা) আপনার ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করান। পাশাপাশি সকল শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। যেমন- সকল শ্রমিকদের মাক্স/ হ্যান্ড গ্লোবস্ পরিধান করা, বারবার সাবান বা হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করা এবং বর্তমান ঝুকি (করোনা ভাইরাস) সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

কারখানা খোলা বা বন্ধ যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুননা কেন, সকল শ্রমিকদের মার্চের বেতন অবশ্যই সময়মত প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে আপনার ব্যাংকের সাথে অগ্রিম যোগাযোগ করে ব্যাংক সহায়তা গ্রহণ করবেন। কোনো অবস্থাতেই মার্চ মাসের বেতন প্রদানের বিষয়ে কোনোরূপ ব্যাত্যয় ঘটানো যাবে না। কোনো অবস্থাতেই শ্রমিক অসন্তোষ যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

যদি কারখানা বন্ধ রাখতে চান তবে ছুটিকালীন সময়ে আপনার কারখানার শ্রমিকরা যে যেখানে অবস্থান করছে সে যেন সেখানেই অবস্থান করে তা পুনরায় নিশ্চিত করতে হবে। তারদেরকে বুঝাতে হবে, এটা কোনো ঈদ বা উৎসবের ছুটি নয়। তাই যে যেখানে অবস্থান করে, তাকে সেখানেই থাকতে হবে।

আপনি যদি আপনার কারখানাটি বন্ধ করার বিষয়ে ভাবেন, তা অবশ্যই শ্রম আইন অনুযায়ী করতে হবে। তবে ফ্যাক্টরি বন্ধ করার অভিপ্রায়টি সর্বপ্রথম লিখিতভাবে বিকেএমইএ-কে জানাতে হবে। বিকেএমইএ’র থেকে শ্রম আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আপনার কারখানা বন্ধ করতে হবে অথবা কোনা ধারা আপনার কারখানার জন্য প্রযোজ্য হবে, তা জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বিকেএমইএ-কে অবহিত না করে বা বিকেএমইএ থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোনোভাবেই কারখানা বন্ধ করা যাবে না।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও