ছাঁটাই লে-অফ নির্যাতন হয়রানি মামলা বন্ধের দাবী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:০৭ পিএম, ১৮ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

ছাঁটাই লে-অফ নির্যাতন হয়রানি মামলা বন্ধের দাবী

প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধন করে শ্রমিকের রেশন, স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ও বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বিশেষ বরাদ্দ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, শোভন গ্রুপসহ বিভিন্ন গার্মেন্টসে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল, ফকির, অন্তিম, আহসান গার্মেন্টসে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি অঞ্জন দাস, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হুমায়ুন কবীর, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, দপ্তর সম্পাদক কামাল পারভেজ মিঠু, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল শাখার সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা দুর্যোগে সারাদেশে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে অর্ধাহার-অনাহারে, বিনা চিকিৎসায় চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিনযাপন করছে, প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে অসহায় অবস্থায় দেশে ফিরে আসছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, মালিকরা দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে মুনাফা নিশ্চিত করতে শ্রমিক ছাঁটাই করছে, সেই সময়ও একদিকে ভ্যাট থেকে প্রধান আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরে, মোবাইল ফোন ব্যবহারে বাড়তি শুল্ক আরোপ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষের পকেট কেটে টাকা নেওয়া আর প্রনোদনার নামে মালিকদের পকেটে টাকা দেওয়ার নীতিতেই প্রস্তাবিত বাজেট প্রণিত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সম্পদ লুট করে ধনী হওয়া শিল্প মালিক, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে শ্রমজীবীদের কর্মস্ংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিবর্তে ব্যক্তি পর্যায়ের কর হারের ঊর্ধ্বসীমা ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে, করপোরেট করহার ২.৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, উৎসে করের হার অর্ধেক করা হয়েছে, হাজার-হাজার কোটি টাকার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদের উপর কোন সম্পদ কর প্রস্তাব করা হয়নি। অথচ শ্রমিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ যথাক্রমে ৩৫০ কোটি এবং ৬৪১ কোটি টাকা যা ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটের মাত্র ০.১৭ শতাংশ। আর করোনা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষত মোট শ্রম শক্তির ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কর্মসংস্থান, রেশন, আবাসন, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য বীমা কিংবা করোনার কারণে কর্মহীন সময়ে সহায়তার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করা হয়নি। অর্থাৎ সরকার লুটেরা ধনীদের আরো ধনী করতে এবং দরিদ্রকে শুধুমাত্র শ্রম পুণঃউৎপাদনের যন্ত্র হিসাবে বাচিঁয়ে রাখতে চায়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই করোনা দুর্যোগে শোভন গ্রুপের ২ শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করে নাই। ফকির নীটওয়ার, অন্তিম গার্মেন্টস, আহসান গ্রুপে শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ ছাঁটাই, লে-অফ বন্ধ, অবিলম্বে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল, শ্রমিকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও