ফকির নিটওয়্যার শ্রমিকদের মামলা প্রত্যাহার দাবীতে বিক্ষোভ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৯ পিএম, ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

ফকির নিটওয়্যার শ্রমিকদের মামলা প্রত্যাহার দাবীতে বিক্ষোভ

‘আমার ছেলে সাগর কোনো দোষ করেনি। তাকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করে তার জীবনে দাগ লাগিয়ে দিল। তাকে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করিয়েছিলাম ভাল জায়গায় চাকরি করার জন্য। কিন্তু সেই চাকরি করতে গিয়ে আজ তার জীবনে দাগ লেগে গেল। ঘটনার দিন সে অফিসেই যাইনি। করোনার আতঙ্কের কারণে তাকে অফিসে যেতে দেয়নি। তারপরেও তাকে মামলার আসামী করে অসুস্থ অবস্থায় জেলে নিয়ে গেলো।’

অবস্থান কর্মসূচিতে ঠিক এভাবেই কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রপ্তানিমুখী ফকির নীটওয়্যার লিমিটেডে বিক্ষোভ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সাগরের বাবা গুফরান।

২৫ জুন বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে এই অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা দুলাল সাহা, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক দিলীপ দাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, শ্রমিক সংহতির সভাপতি অঞ্জন দাস, সাধারণ সম্পাদক কাউসার হামিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুজয় রায় চৌধুরী।

সাগরের বাবা গুফরান বলেন, আমার ছেলের কোনো দোষ ছিল না। সে অসুস্থতার কারণে ওই ঘটনার দিন অফিসেই যাইনি। কিন্তু ওই ঘটনার কারণে গত ২৩ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ২৭ মে সাগরের টাইফয়েড ধরা পড়ে। এমনতাবস্থায় গত ৯ জুন রাতে পুলিশ বাসা থেকে সাগরকে নিয়ে যায়। তাকে অসুস্থ অবস্থায় কারাবরণ করতে হয়েছে। কি দোষ ছিল আমার ছেলেটার। আমি প্রকৃত ঘটনার বিচার চাই। আশা করবো ফকির নীটওয়্যার লিমিটেডের মালিক পক্ষ প্রকৃত দোষীদের বের শাস্তির আওতায় আনবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা দুলাল সাহা বলেন, করোনার মধ্যে আমাদের এখানে অবস্থার করার কথা না। আমরা বাধ্য হয়েছি অবস্থান কর্মসূচি করতে। এই সরকার কারাখানাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। কিন্তু কারখানা মালিকপক্ষ তাদের শিল্প কারখানা বাচিয়ে রাখতে চাই না। তারা লুটপাট করতে করে বিদেশে টাকা পাচার করে। দেশ পরিচালনা করে লুটেরা।

তিনি আরও বলেন, ফকির গ্রুপ অতীতেও এরকম অত্যাচার নির্যাতন করছে। আমরা এই অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করবো না। সরকারকে ফকির গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। শ্রমিকরা যখন রাজপথে তখন কেউ ক্ষমতায় থাকবে না। ফকির গ্রুপ গড়ি টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কায়েমপুর এলাকায় ফকির নীটওয়্যার লিমিটেডের সহ¯্রাধিক শ্রমিক বকেয়া বেতন বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাংচুর করেছিল। ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও