শ্রমিক সংকটে মডেল গ্রুপের উৎপাদন ব্যাহত

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:০২ পিএম, ৮ জুলাই ২০২০ বুধবার

শ্রমিক সংকটে মডেল গ্রুপের উৎপাদন ব্যাহত

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প কারখানা খুলে দেয়া হলেও শ্রমিকদের অনুপস্থিতি ও তাদের নানা অজুহাতে না আসায় শ্রমিক সংকটে উৎপাদন কাজ ব্যাহত হচ্ছে জানিয়েছে একটি শিল্প গ্রুপ।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন মডেল গ্রুপের ডিজিএম (এইচ আর, এডমিন, কমপ্লায়েন্স) অরুপ কুমার সাহা, গ্রুপ পরিচালক কানাই সরকার, হেড অব অপারেশন তুষার, জিএম (উন্নয়ন) মনির হোসেন সরদার।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার, বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ২৬ এপ্রিল থেকে কারখানা ধাপে ধাপে চালু করেছি কিন্তু কারখানা চালু করার পরে আমরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। বিশেষ করে শ্রমিক উপস্থিতির ক্ষেত্রে, অনেক শ্রমিক কারখানার আশে পাশে থাকা সত্তেও তারা নানান অজুহাতে কারখানায় প্রবেশ করছে না।

গত ৫ এপ্রিল আমার যখন কারখানা খুলেছিলাম তখনও ৯৫ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারী উপস্থিত ছিল এবং পরবর্তিতে আমাদের কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা কর্তপক্ষের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর জন্য কোম্পানীর সকল শ্রমিক কর্মচারীদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

গত ১৮ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল ত্রাণ বিতরণকালে যেখানে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় নয় হাজার পাঁচশত জনই ত্রাণ নিয়েছে অথচ কারখানা চালুর পর বেশির ভাগ শ্রমিক অনুপস্থিত রয়েছে। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশিকা মেনে আমরা কাজ করছি যেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে কিন্তু আমরা শ্রমিকদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করছি।

শ্রমিকেরা কাজ না করলেও ৬৫ ভাগ বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকার কারণে ফ্যাক্টরী খোলা থাকার পরেও শ্রমিকদের বড় একটা অংশ কাজে যোগ না দিয়ে বাসায় বসে সময় কাটাচ্ছে বা ঘুরে বেড়াচ্ছে বা শোনা যাচ্ছে এদের কেউ কেউ অন্য পেশায় বা অন্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে কাজ করছে বা করার চেষ্টা করছে। এতে করে তারা দুই প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ উপার্জন করছে, এমন কি অন্য যে শ্রমিকেরা কাজ করছে তাদেরকে উস্কানিমূলক বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। যেমন কাজ না করে যদি ৬৫ ভাগ বেতন পাওয়া যায় তাহলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে যাবার কি দরকার? যদিও সরকারের একটা মহৎ উদ্দেশ্য ৬৫ ভাগ বেতন দেওয়া, সেটা থেকে শ্রমিকেরা সুযোগ নিচ্ছে।

যে সকল শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছে তারা শতভাগ বেতন পাচ্ছে কিন্তু অন্যরা কাজ না করেও ৬৫ ভাগ পাবে এই চিন্তা করে কাজে যোগদানকারী শ্রমিকেরা কাংখিত উৎপাদন করতে আন্তরিক নয় সেক্ষেত্রেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিক অনুপস্থিতির কারণে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না, অন্য দিকে উৎপাদন না করে ব্যাংক থেকে লোন করে আমরা শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছি এতে করে কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সকল শ্রমিক কে ফোন দেওয়া হয়েছে, কারখানার গেটে নোটিশ টানানো হয়েছে কিন্তু শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করছে না ফলে উৎপাদন সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আমাদের বাধ্য হতে হবে অনুপস্থিত শ্রমিকদের পরিবর্তে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেয়ার।


বিভাগ : অর্থনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও