৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭ , ৩:২১ অপরাহ্ণ

তোলারাম কলেজে চিকুনগুনিয়া আতংক


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০৯ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৭ শনিবার


তোলারাম কলেজে চিকুনগুনিয়া আতংক

সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও মশা দ্বারা প্রবাহিত চিকুনগুনিয়া রোগের আতঙ্কে ভুগছে নগরবাসী। রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও আতঙ্ক রয়েছে সকল মানুষের মধ্যে যার প্রভাব পড়েছে সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। শরীরে তাপমাত্রা বেশি হলে এবং শরীরের ব্যাথা অনুভব করলেই চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত বলে মনে করেন অনেকেই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিন হায়াৎ আইভী সহ বিভিন্ন ডাক্তাদের দাবি দেশের বিভিন্ন জেলার নারায়ণগঞ্জে এর প্রকট অনেকাংশে কম।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম বিদ্যাপীঠ সরকারি তোলারাম কলেজে যেখানে ১৮হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। এছাড়াও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি ছাত্রীনিবাসও। তবে ছাত্রী নিবাসের শিক্ষার্থীরা প্রায়শই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এজন্য মশাকেই দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রী নিবাসে থাকা অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রোকসানা আক্তার বলেন, ‘গত কয়েকদিনে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যাদের বেশির ভাগই জ্বর ও শরীরে ব্যাথা ছিল। অনেকেই চিকুনগুনিয়ার ভয়ে দিনের বেলায় মশারি ব্যবহার করছে।’

শুধু তাই নয় কলেজের দ্বাদশ শ্রেণী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কলেজের বিভিন্ন অন্ধকার ভবনে মশার প্রকট বেশি। মশার কামড়ে ঠিকভাবে ক্লাস করা যায় না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘সরকারি তোলারাম কলেজের চারদিকে জলাশয় রয়েছে। যা নোংরা ও ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে। এছাড়াও কলেজের জায়গার বাইরে অংশে প্রচুর গাছপালা জঙ্গল হয়ে আছে। আর এসব জায়গা থেকে প্রচুর মশার উৎপত্তি হচ্ছে। শুধু তায় নয় দীর্ঘদিন ধরে ওইসব এলাকায় মশার ওষুধ না ব্যবহার করায় মশার প্রকট বেড়েই চলেছে।’
 
নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ মধুমিতা চক্রবর্তী বলেন, ‘কলেজে প্রচুর মশা। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী মশার কামড়ে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। যার জন্য নিজের থেকে তাদের দিনে মশারী ব্যবহার করার জন্য বলেছি। এছাড়াও মশার ওষুধ প্রয়োগের জন্য সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরকে জানিয়েছি। তিনি আশা করি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ‘অধ্যক্ষ আমাকে ড্রেন ও মশা নিয়ে কথা বলেছিলেন। আর তার চাহিদা অনুযায়ী টিঅ্যান্ডটি কলোনীর ভিতরে ড্রেনটির কাজ চলমান আছে। এছাড়াও গত কয়েকদিন আগে মশার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও ওইসব এলাকায় প্রয়োগ করা হবে।’

১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিদিনই কোন না কোন রোগী জ্বর নিয়ে আমাদের হাসপাতালে হাজির হচ্ছেন। তাদের মধ্যে যাদের সন্দেহ হচ্ছে তাদের আমরা চিকুনগুনিয়া ক্লিনিকে চিকিৎসা দিচ্ছি। যদিও আমাদের নারায়ণগঞ্জে চিকুনগুনিয়া রোগের ভাইরাস (পিসিআর) শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। সেটি শনাক্তের জন্য আমাদের রোগীদের মহাখালীতে আইইডিসিআর এর পাঠাতে হয়। আর অন্য সিজনাল জ্বরে যারা আক্রান্ত হন তাদের আমরা স্বাভাবিক ওষুধপত্র দিয়ে দেই।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. এহসানুল হক  বলেন, নারায়ণগঞ্জে চিকুনগুনিয়া নিয়ে আতংক থাকলেও এর প্রকোপ কম। তবুও আমরা এটার প্রতিরোধে সার্বিক ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। জেলা সদর ও উপজেলায় স্বাস্থ্য কর্মীদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনগণকে সচেতন করতে প্রতিদিন মাইকিং করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে খোলা হয়েছে হেল্প ডেস্ক ও চিকুনগুনিয়া ক্লিনিক। এছাড়াও সিভিল সার্জন অফিসে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রন কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) যার নাম্বার ৭৬৪২৯৬৬।
 
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘ঢাকা ও কুমিল্লা জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জে চিকুনগুনিয়া রোগের আক্রমণের প্রভাব অনেক অংশে কম। তবে এর জন্য আরো সচেতন হতে হবে নগরবাসীকে। কারণ যেসব মশারা চিকুনগুনিয়া রোগ ছাড়াই তারা সাধারণত ময়লা পানি না স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। ফলে বাড়ি ঘরে এবং আশে পাশে কোথাও পানি জমেতে দেওয়া যাবে না। এসব কিছু পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে ও সচেতন থাকলে মানুষ সুস্থ্য থাকতে পারবে।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ