৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, শুক্রবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

মর্গ্যানে তুলকালাম: ফেল করা ছাত্রীদের আত্মহত্যার চেষ্টায় উত্তেজনা


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১২ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৭ বুধবার | আপডেট: ১২:৫২ এএম, ৯ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার


মর্গ্যানে তুলকালাম: ফেল করা ছাত্রীদের আত্মহত্যার চেষ্টায় উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মত ৮ নভেম্বর বুধবার আন্দোলন করেছে। ওইসময় এক ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা আন্দোলন করা কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা স্কুলের শিক্ষার্থীদের কমন রুমের দরজা ও বেঞ্চ ভাঙচুর করে।

বিকাল সাড়ে ৫টায় শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর শুরু করলে ৬টায় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছাত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পুলিশ জানান, ‘৬ নভেম্বর থেকে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। জেলা প্রশাসক আশ্বাস দেন ৮ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। এ আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু দুপুর ২টা পর্যন্ত কৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের ফরমপূরণ করা হলেও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করার কোন সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে করে শিক্ষার্থীরা দুপুর থেকে স্কুলের মাঠে বিক্ষোভ মিছিল ও সামবেশ শুরু করে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ না দেওয়ায় স্কুল ভবনের ছাদ থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তখন স্কুলের কর্মকর্তা ও অভিভাবকেরা গিয়ে ছাদ থেকে ছাত্রীদেরকে নামিয়ে নিয়ে আসে। এসময় আন্দোলনরত কয়েকজ শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পরলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্কুলের ভাঙচুর শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছাত্রভঙ্গ করে দেয়।’

বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও স্কুলের ভিতরেও বাইরে প্রধান ফটকে কঠোর পুলিশের নিরাপত্তা বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসবিন জেবিন বিনতে শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ইউএনওকে চারদিক থেকে ঘিরে হাতে পায়ে জরিয়ে ধরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ দেওয়ার জন্য কান্না শুরু করে। তখন তিনিও ব্যর্থ হয়ে চলে যান।’

তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া হবে। তবে সেই জন্য আলোচনা করতে হবে। তার জন্য সময় প্রয়োজন।’

অভিভাবক মাসুম মিয়া বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর জন্য সব সময় বাধ্য করেছে। যারা কোচিংয়ে পড়ালেখা করেছে তারাই পাস করেছে। যারা তাদের কোচিংয়ে ভর্তি হয়নি তাদের ফেল করিয়ে দিয়েছে।’

অভিভাবক মো. রমজান জানান, ‘অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। তাহলে এতদিন ধরে কি পড়িয়েছে শিক্ষকেরা। প্রতিমাসে কোচিং, বিভিন্ন ফির নাম করে হাজার হাজার টাকা নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভালো ভাবে পড়ালেখা করে না ২য় সাময়িক পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করেছে এমন কোন অভিযোগ কখনও আমাদের দেয়নি। এখন তারা শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দিয়ে পরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। যদি তারা বাসায় গিয়ে আবার এমন কোন ঘটনা ঘটায় তার জন্য এ শিক্ষার্থীরাই দায়ি থাকবে।’

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন শাহ পারভেজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। যাতে তার কোন দুর্ঘটনা না ঘটাতে পারে। কয়েকজন বহিরাগত উচ্ছশৃঙ্খল ছেলে স্কুলের কমন রুম ভাঙার চেষ্টা করে তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অশোক কুমার সাহা বলেন, ‘৫৩২ জন শিক্ষার্থী মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে ৩৫৪ জন সকল বিষয়ে কৃতকার্য হয়েছে। আর ১৭৮ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। যেখানে ১ বিষয়ে ১২০ জন, ২ বিষয়ে ৩০ জন ও ২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা ৩ বিষয়ের চেয়ে বেশি।

তিনি আরো বলেন, ‘বুধবার সকালে ১ বিষয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ২ বিষয়ে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি প্রয়োজন। তাছাড়া আমার একার পক্ষে এ অনুমতি দেওয়ার কোন অধিকার নেই। সেহেতু শিক্ষার্থীদের আমরা বলেছি এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তারা তা না শোনে আন্দোলন শুরু করে।’

তিনি আরো বলেন,‘আমি মাত্র ৩ মাস আগে স্কুলের অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করি। এখনও পর্যন্ত স্কুলের অনেক বিষয়ে জানা নেই। তাছাড়া কোচিংয়ের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটাও সত্য না।’

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মো. শরফুদ্দিন বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ বিষয়ে সভা করে শিক্ষার্থীদের সমাধান দেওয়া হবে। তারপরই সকল শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়েছে এমন কোন অভিযোগ আমরা পাইনি।’

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ