২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:১৪ অপরাহ্ণ

বন্দরে ছাত্রীদের আত্মহত্যার প্ররোচনায় পালালেন অধ্যক্ষ!


বন্দর করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:২৪ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০৯:৫০ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ রবিবার


বন্দরে ছাত্রীদের আত্মহত্যার প্ররোচনায় পালালেন অধ্যক্ষ!

নারায়ণগঞ্জ বন্দর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেনির টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছাত্রীদের অশালীন উক্তি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে স্কুলটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ১৯ নভেম্বর রোববার দুপুরে ছাত্রীদের ওই উক্তি অশালীন উক্তি ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার পরে বিক্ষোভের মুখে পালিয়ে গেছেন অধ্যক্ষ মোঃ বদরুজ্জামান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, স্কুলটির দশম শ্রেনির টেস্ট পরীক্ষায় ৪ শতাধিক ছাত্রী অংশ নেয়। যার মধ্যে ৯০ জন উত্তীর্ণ হয়। পরে শনিবার দেড় শতাধিক ছাত্রীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে এসএসসির ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। বাকী ছাত্রীরা এসএসসির ফরম ফিলাপের সুযোগ দেয়ার দাবিতে রোববার দুপুরে স্কুলে জড়ো হলে অধ্যক্ষ মোঃ বদরুজ্জামান ছাত্রীদেরকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ ও আত্মহত্যার প্ররোচণা দেন। এতে ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিক্ষোভের মুখে পালিয়ে যান অধ্যক্ষ বদরুজ্জামান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় স্কুল থেকে চলে যান অন্যান্য শিক্ষকরাও। এরপর থেকে তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।

স্কুলটির দশম শ্রেনির টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ছাত্রী সুমাইয়া, আশা, আখি, ফারজানা, সিথিলা, রিতুসহ অনেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, আমরা মূল্যায়ন পরীক্ষা ভাল দিয়েছি। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করায় আমাদের মূল্যায়ন পরীক্ষায় অকৃতকার্য করানো হয়েছে। আমরা স্কুলে অধ্যক্ষের কাছে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ফরম ফিলাপের জন্য গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের অশালীন ভাষায় গালমন্দ ও স্কুলের ছাদ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করতে বলেন। এ কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অধ্যক্ষ স্কুল থেকে পালিয়ে যান এবং তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে ফেলেন।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ বদরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আমি সারা দিন ঢাকায় ছিলাম। বিষয়টি জানা নেই। তবে মেয়েরা ঠিক মতো লেখাপড়া করেনা। শুধু ঘুরাফেরা করে। তারপরেও আমি প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রীকে আমার ক্ষমতা বলে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য ফরম ফিলাপের সুযোগ দিয়েছি। তবে অধ্যক্ষ এ কথা বলে থাকলে তিনি ভুল করেছেন। এ বিষয়ে স্কুলে গিয়ে ব্যবস্থা নেব।

বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ.ক.ম নুরুল আমিন বলেন, একজন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছাত্রীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা অপরাধ। যদি তিনি ছাত্রীদের আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে থাকেন তবে তদন্ত পূবর্ক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ