২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ

মর্গ্যানের প্রধান শিক্ষক ‘আহাম্মক’ শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৩০ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:৫৬ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার


মর্গ্যানের প্রধান শিক্ষক ‘আহাম্মক’ শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে অবস্থিত মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭৮ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ও তাদের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেওয়া নিয়ে সম্প্রতি সময়ের ঘটে যাওয়া ঘটনায় স্কুলটি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকেরা। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষক সমাজের উপর বদনাম হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। আর এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেই জন্য হুশিয়ার করে দিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার।’

২১ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সার্কিক হাউজে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন যেখানের সভাপতি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ‘আমরা কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বাইরের মানুষকে সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। যার কারণে মানুষ আমাদেরকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে আত্মহত্যার হুমকি দেয় এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক শিক্ষকদের বলে ‘তোরা আত্মহত্যা করে মর’ এটা আসলে লজ্জার বিষয়। এটা আমরা যারা শিক্ষক তাদের জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার। ১৭৮জন শিক্ষার্থীকের আটকে রাখা এটা একটি বোকামি সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই না। এ ৪ থেকে ৫টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নারায়ণগঞ্জে বদনাম হোক তা আমরা চাই না।’

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অনৈতিক ও আর্থিক প্রত্যাশার কারণে বদনাম হতে হয়। আবার কারো বদনাম এতো বেশি লজ্জায় স্কুল থেকে বের হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে সেটার খবর আমাদের কাছে আছে। এসএসসি পরীক্ষার ব্যবসা শিক্ষার ফরমপূরণের জন্য ১৪৭০ ও বিজ্ঞান বিভাগে ১৫৬০ টাকা সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। তার পরও একটি ঘোষণা আছে জানুয়ারি থেকে তিন মাসের অতিরিক্ত টাকা নিতে পারবে। এর মধ্যে মডেল টেস্ট সহ অন্যান্য টাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কিন্তু তারপরও কিছু প্রতিষ্ঠান ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি নিয়েছে। যা শিক্ষকদের কাছে অপ্রতাশিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোচিং বিষয়টি নিয়ে ২০১২ সালের ২০ জুন এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সেখানে কোচিংয়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসন দেখবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সারা বছর কিছু না করে মাত্র তিন মাসে ভিকারুন্নেছা স্কুল বানানো চেষ্টা করা সম্পূর্ন বোকামী। ১৭৮ জন শিক্ষার্থীকের আটকে দিয়ে ভালো ফলাফল দেখানো কোন যুক্তি হতে পারে না। আর সেই ১৭৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আসতে হবে তাদের যোগ্যতা এতো বেশি না যোগত্যার ঘাটতি বুঝতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা নবম শ্রেণীতে পরীক্ষা দিয়ে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয় তারা এসএসসির জন্য সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী। মডেল টেস্টের সময় তাদের আটকে দেওয়ার কোন যুক্তি নেই। বরং এখন থেকে যারা নবম শ্রেণীতে খারাপ ফলাফল করবে আপনার যাকে বা যাদে মনে করবে পাস করতে পারবে না তাদেরকে আরো একবছর আটকে রেখে পরবর্তীতে দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করবেন। একই ব্যবস্থা হবে যার ৭ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণিতে উঠবে। তাদের বেলায়ও ৭ম শ্রেণিতে আটকে দিন। একই সঙ্গে নবম ও সপ্তম শ্রেণিতেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের লিখিত অঙ্গীকার নিবেন তাদের সন্তান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এজন্য তারা কোন প্রকার সুপারিশ করবে না। করলেও গ্রহণযোগ্য হবে না।’

তিনি আরো বলেন, অনেক শিক্ষক অভিযোগ করেন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্বল, গরীব পরিবারের সন্তানেরা ভর্তি হন। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের সব থেকে অর্থনৈতিক ভাবে ভালো নারায়ণগঞ্জ। সেখানে অনেক স্কুলই পাকা ভবন। কিন্তু অন্য অঞ্চলে দেখলে সেই ধারণা আসবে। তাই আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করবো। যেকোন সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আমার সঙ্গে শেয়ার করবেন। আমি সমাধান করবো।’

মর্গ্যান স্কুল বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া অত্যন্ত মেধার কারণে দুই বিষয় পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এতো ছোট বিষয়ে জেলা প্রশাসন পর্যন্ত কেন আসতে হবে।’

এসময় পিছনে থাকা বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহাকরী প্রধান শিক্ষককে ‘আহাম্মক’ হিসাবে আখ্যায়িত করেন।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শিরিন বেগম, নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মোস্তফা, আইইটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেশ চন্দ্র কুন্ড, নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমল কান্তি সাহা সহ অর্ধশতাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ