১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, শনিবার ২৬ মে ২০১৮ , ২:১৮ অপরাহ্ণ

ফজলুল হক হাই স্কুল ফান্ডের টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ


সিদ্ধিরগঞ্জ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৫:৩১ পিএম, ৬ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ১১:৩১ এএম, ৬ জানুয়ারি ২০১৮ শনিবার


ফজলুল হক হাই স্কুল ফান্ডের টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিংস্থ হাজী ফজলুল হক মডেল হাই স্কুলের সভাপতি আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে স্কুল ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন যাবত বিক্ষুদ্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী সভাপতি আব্দুল আউয়ালের নিকট হিসাব চেয়ে না পাওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে ৬ জানুয়ারী শনিবার বাকবিতান্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মৃদু সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজিজুল হকের নের্তৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, নাসিক ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হক হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় স্কুলেরর অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা জানায়, ২০০৬ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং এলাকায় হাজী ফজলুল হক মডেল হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে স্কুলটি ছোট্ট পরিসরে পরিচালিত হয়ে আসলেও গত ৫ বছর যাবত স্কুলটি বৃহতভাবে সফলতার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এতে করে এ স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বর্তমানে ৫শতাধিক। এ বছরের মধ্যে ৪ বছর স্কুলের সভাপতি ছিলেন হাজী আহসান উল্যাহ সুপার মার্কেটের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ হবুল। গত এক বছর যাবত জোরপূর্বক এ স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব নেয় সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিংয়ের সভাপতি আব্দুল আউয়াল। তিনি এ স্কুলের সভাপতি হওয়ার পর থেকে স্কুলের আয়-ব্যায়ের কোন হিসাব স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কাউকে দেখাতেন না। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন দেয়ার পর আয় তিনি আত্মসাৎ করতেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এমনকি হাউজিং এলাকার সিটি কর্পোরেশনের ময়লা পরিষ্কারের টাকাও তিনি আত্মসাৎ করতেন। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন যাবত স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসী তার উপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল।

৬ জানুয়ারী শনিবার সকালে স্কুলের কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী স্কুলে যায়। পরবর্তীতে তারা স্কুলের আয়-ব্যায়ের হিসাব সভাপতি আব্দুল আউয়ালের কাছে দাবি করলে আব্দুল আউয়াল স্কুলের আয়-ব্যায়ের হিসাব দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়।  এতে এলাকাবাসী আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় আব্দুল আউয়াল তার ক্যাডারবাহিনীকে খবর দিলে তার ক্যাডার বাহিনী এসে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের উপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মৃদ্যু সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় কামরুজ্জামান, নাজিরসহ ৪জন সামান্য আহত হয়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজিজুল হকের নের্তৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হক হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউর রহমান খান লিটন জানায়, জানুয়ারী মাস হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির জন্য আমি স্কুলের শিক্ষিকিা আয়েশা আক্তারকে দায়িত্ব দেই। স্কুলের শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার যথানিয়মে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি করিয়ে টাকাগুলো স্কুলের খাতায় জমা লিখে টাকাগুলো স্কুলের আলমারিতে রাখছিলেন। কিন্তু স্কুলের সভাপতি গত বছরের মত এবারও টাকাগুলো নেয়ার জন্য স্কুলের শিক্ষিকাকে সরিয়ে তিনি টেবিল চেয়ার নিয়ে বসে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির টাকা নিচ্ছিলেন। আজকে অভিভাবক ও এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে তিনি হিসাব দিতে অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে বাকবিতান্ড শুরু হলে আমি দৌড়ে আত্মগোপন করি।

নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল হক হাসান জানায়, শুনেছি কাউকে না জানিয়ে আব্দুল আউয়াল এ স্কুলের সভাপতি হয়ে স্কুলের আয় নিজের কাছেই রাখছেন।এর প্রতিবাদে অভিভাবক ও এলাকাবাসী তার কাছ থেকে হিসাব চাইলে তিনি হিসাব দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। খবর পেয়ে আমি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি।

স্কুলের সভাপতি আব্দুল আউয়াল জানায়, আমি স্কুলের টাকাগুলো তুলে স্কুলের  শিক্ষকদের বেতন দেয়াসহ আনুষাঙ্গিক ব্যায় করে থাকি। কিন্তু গত ৪ বছর হাবিবুল্লাহ হবুল এ স্কুল থেকে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করায় তার লোকজন এসে আমার উপর চড়াও হয়ে আমাকে, আমার ছেলে, ভাই, ছেলের বউকে মারধর করে। এতে আমরা আহত হই।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ