৪ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

দাপা আদর্শ স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগে বিক্ষোভ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০২ পিএম, ৭ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার


দাপা আদর্শ স্কুলে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগে বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গরীব অসহায় ও প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করলে অভিভাবকদের হুমকি ধামকি দিয়ে কথা বলেন প্রধান শিক্ষক। এতে ফুসে উঠে স্কুলের গেইটের সামনে প্রধান শিক্ষকের অপসারন দাবীতে বিক্ষোভ করেছে অভিভাবকরা। ৭ জানুয়ারী রোববার দুপুরে ও বিকেলে ফতুল্লার দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এঘটনা ঘটে।

শাহীন নামে এক রাজমিস্ত্রি জানান, তার ২ মেয়ের মধ্যে একজন সপ্তম শ্রেনী ও অপরজন দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ে। তাদের দুইজনকে ভর্তি করতে ৩৮শ টাকা দাবী করেছে প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব। গরীব অসহায় দাবী করে কিছু টাকা কমিয়ে নেয়ার জন্য বললে উল্টো প্রধান শিক্ষক আমার উপর ফুসে উঠে। টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় এখনো ভর্তি করেনি।

রহিমা বেগম নামে এক গৃহীনি জানান, তার স্বামী দিনমজুর কোন সময় কাজ করেন কোন সময় কাজ পায়না। একটি গরুর দুধ বিক্রি করে সংসার চলে। তার মেয়ে দশম শ্রেনীর ছাত্রী। তাকে ভর্তি করতে ৪ হাজার ২০০ টাকা দাবী করেছে প্রধান শিক্ষক। এর প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক আমাকে ধমক দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। টাকা সংগ্রহ করতে পারিনি তাই মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করিনি।

রওশন আরা নামে এক গৃহিনী জানান, তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ডাক বিভাগের কর্মকর্তা। তার একমাত্র প্রতিবন্ধি ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ে। তার কাছ থেকে ২২শ টাকা নিয়েছে ভর্তি ফি।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাসিনা জসিম জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ আমাদের কাছে অভিভাবকেরা করেছে।

সম্প্রতি একাধিক অভিভাবক আমার কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক মাসের অতিরিক্ত ভর্তি ফি হাতিয়ে নিয়েছে। এবিষয়ে প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে বলেছিলাম আপনি প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ার সুযোগ দিবেন। কাউকে চাপ দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করবেন না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমার কোন কথাই শুনেনি। এছাড়া স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বিষয়ে নানা ঝামেলা ছিল। তা এমপি শামীম ওসমান এসে মিমাংসা করে দিয়ে গেছে। কিন্তু এমপি’র সেই মিমাংসাও প্রধান শিক্ষক মানছেনা।

প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, স্কুলে ৮৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে ৩০৫জন শিক্ষার্থী ফ্রি পড়ে। এতে স্কুলের শিক্ষকেরা তিন মাস যাবত বেতন পাচ্ছেনা। স্কুলের ফান্ড খালি থাকায় এখন কাউকে ফ্রিতে ভর্তি করাতে পারছিনা। ম্যানেজিং কমিরি সদস্যরাও স্কুলে এসে এসব বিষয়ে কোন খোঁজ খবর নেয়না। যারা বাইরে বিক্ষোভ করেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বহিরাগত, অভিভাবক নয়।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ