৭ কার্তিক ১৪২৫, মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮ , ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

UMo

বিদ্যালয়টি এখন দেশের মডেল


প্রথম আলো || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৮:০৬ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার


বিদ্যালয়টি এখন দেশের মডেল

সকাল সাড়ে আটটা। কয়েক শ শিশু স্কুলের ইউনিফর্ম পরে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ইলেকট্রনিক মেশিনে কার্ড পাঞ্চ করছে হাজিরা দেওয়ার জন্য। হাজিরা শেষে সবাই সারিবদ্ধভাবে শ্রেণিকক্ষে প্র্রবেশ করছে। এ দৃশ্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। খবর : প্রথম আলোর।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে ৫৭ নম্বর ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত। পাঁচ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাস করে পরপর তিনবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ১০ বছর ধরে এটি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়ে আসছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারগুভা ইয়াসমিন ২০১৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে গল্প লিখে প্রথম হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাত বছর ধরে সংগীত, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, রচনাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উপজেলার গন্ডি পেরিয়ে জেলা পর্যায়েও প্রথম ও দ্বিতীয় হয়ে আসছে।

স¤প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, সীমানাপ্রাচীরের চারদিক মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ছবি ও মনীষীদের বাণী দিয়ে সাজানো। বিদ্যালয়ের ভেতরে খেলার মাঠে খেলাধুলার জন্য দোলনা, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা শেখানোর জন্য সততা স্টোর, সুসজ্জিত ফুলের বাগান, শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে শিক্ষামূলক ছবি, তথ্যপ্রযুক্তি কর্নার, চলো যাই জ্ঞানের ভুবনে নামে লাইব্রেরি, ইতিহাসের পাতায় সোনালি দিন নামে কর্নার, চিরসবুজ মঞ্চ কর্নার, বিজ্ঞান কর্নার, গণিত কর্নার, সেরা উপস্থিতি কর্নার, আর্ট কর্নার, পরামর্শ বক্স, মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বি আর বিলকিস বলেন, বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন সমাবেশ হয়। এগুলোর মধ্যে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা পাঁচটি ভালো কাজের কথা নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিতে খুদে ডাক্তার কার্যক্রম, সেরা বাগান করা, সেরা পরিচ্ছন্ন পোশাকও শ্রেণিকক্ষ, সেরা উপস্থিতি পুরস্কার, সেরা হাতের লেখা, সেরা ক্লাব সংবর্ধনার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি মাসে বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ হয়। দুই মাস পরপর আই ক্যাম্প করে মেডিকেল টিম এনে শিক্ষার্থীদের চোখের পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই পড়া আদায় করা হয়।

প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়টিতে ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন, এর ১১ জনই নারী শিক্ষক। বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও নানা ক্যাটাগরিতে ইতিমধ্যে এই বিদ্যালয় জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, এই বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়। বিদ্যালয়ের গুণগত মান ভালো হওয়ার কারণে এই বিদ্যালয়ে সা¤প্রতিক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর, কানাডা, চীনের দূতাবাসের কর্মকর্তা ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সচিবেরা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন।

২০১৫ সালে গল্প লিখে সারা দেশ প্রথম হওয়া এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারগুভা ইয়াসিন বলে, ‘এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো গড়ে তোলেন। শিক্ষকদের কারণেই আমি দেশসেরা হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছি।’

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু নাঈম ইকবাল বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন, শিক্ষা উপকরণসহ সব বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করছেন। আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আ ফ ম জাহিদ ইকবাল জানান, এই বিদ্যালয়টি এখন সারা দেশের মডেল। শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সততার কারণেই এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম দেশব্যাপী।

rabbhaban

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ