২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

rabbhaban

মর্গ্যানের কড়া আন্দোলনের ইঙ্গিতে নিয়ে শহরে উত্তাপ


স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:০২ পিএম, ২৪ জুন ২০১৮ রবিবার


মর্গ্যানের কড়া আন্দোলনের ইঙ্গিতে নিয়ে শহরে উত্তাপ

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতলা ভবন ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে গুরু নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও শিষ্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান আবার একত্রিত হয়েছে। দুইজন মিললেও ফাঁটল ধরেছে সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভীর সঙ্গে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের হুংকার ও সিটি করপোরেশন অটল থাকায় নগরীরে নতুন করে উত্তাপ বাড়ছে।

শনিবার দুপুরে ক্লাস বর্জন করে শরীরে কালো ব্যাচ পড়ে ভবন ভাঙার প্রতিবাদে মাঠে নেমে আসে মর্গ্যান গালস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী। ‘মর্গ্যান স্কুল ভবন ভাঙলো কেন সিটি করপোরেশন জবাব চাই’ ‘বিলম্বে স্কুলের জায়গা ফিরিয়ে দিতে হবে’ ভেঙে ফেলা ভবনের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এসব স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে স্কুল মাঠ। ছাত্রীদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষক শিক্ষিকা ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা। এ আন্দোলন আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত চালিয়ে যাবার হুশিয়ারী দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়ার হুংকার দেয়।

সিটি করপোরেশনের জায়গায় স্কুলের ভবন ভেঙে ফেলায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক মোড় নিতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে যার মধ্যে আনোয়ার সেলিম সহ কয়েকজন মহানগর আওয়ামীলীগ নেতারা এক পক্ষ আর মেয়র আইভী ও সিটি করপোরেশন অন্য পক্ষ। বেশ কয়েকদিন ভবন ভেঙে ফেলা নিয়ে শান্ত থাকলেও গত ৮ জুন মর্গ্যান গালস স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে ‘স্কুল ভবন ভেঙে ফেলায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভার পর নতুন করতে মোড় নিতে শুরু করেছে। ওই সভায় প্রকাশে মেয়র আইভী ও সিটি করপোরেশনের বিরোধীতা করেন সিটি করপোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল। তাছাড়াও সমালোচনা করেছেন এমপি সেলিম ওসমান, চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব সহ আওয়ামীলীগের অনেক নেতা।

তবে এসব বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নতুন করে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কিংবা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষ থেকে তেমন কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং নতুন করে নির্মাণাধীন স্কুল ভবন ঘেঁষে নতুন করে সীমানা প্রাচীর করা হয়েছে। ফলে নতুন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে স্কুল ভবন তৈরিতে। এতে করে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

এ অবস্থায় আবারও মর্গ্যান স্কুল ভাঙাকে কেন্দ্র করে এক মঞ্চে বসেছেন সেলিম ওসমান ও আনোয়ার হোসেন। ৮ জুন এক মঞ্চে দেখা গেছে দুইজনকে। কথাও বলেছেন একই সুরে। মতবিনিময় সভায় আনোয়ার হোসেনকেও বেশ ক্ষুব্ধ মনোভাব দেখা গেছে। কেন স্কুল ভাঙা হলো আর সেটা কেন রাতের আঁধারে সে প্রশ্নও তুলেন আনোয়ার হোসেন ও সেলিম ওসমান। সেলিম ওসমান সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, স্কুলটির ভবনটি যদি সিটি কর্পোরেশনের জমিতে হয়েও থাকে তবুও আমি বলবো এভাবে রাতের আঁধারে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা উচিত হয়নি। ভবনটি ভাঙার আগে আলোচনা করা যেত। তাছাড়া জমিটি যদি সিটি কর্পোরেশনের হয়ে থাকে তবে সেটার মালিক কোন ব্যক্তি নন, ওই জমির মালিক জনগন। আর যদি কেউ মনে করেন আমি মেয়র আমি ক্ষমতায়। তাহলে বলবো ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। আর সিটি কর্পোরেশনের মালিকও জনগন। তাই জনগনের জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা হতেই পারে। এতে কোন বাধা নাই। তাছাড়া সরকার যদি কোন জমি অধিগ্রহণ করেন তাহলে ওই জমির স্থাপনার ক্ষতিপূরন দিয়ে থাকেন। শত বছর সময় ধরে এই স্থানে স্কুলের ভবনটি ছিলো। জমি যদি সিটি কর্পোরেশনের হয়ে থাকে তাহলে স্কুলের ভবনের ক্ষতিপূরন অবশ্যই স্কুল প্রাপ্য। আমি সকলের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো কোন ঝগড়া বিভেদ নয়। আসেন সবাই একত্রে বসে ঐতিহ্যবাহী এই মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে নারায়ণগঞ্জের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তুলি। আর এরজন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সকলের সার্বিক সহযোগীতা। তাই আমি আবারো সকলের সহযোগীতা কামনা করছি।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

শিক্ষাঙ্গন -এর সর্বশেষ