পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল : অন্যায় শিক্ষার্থীদের শাস্তি শিক্ষককে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৪ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার



পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল : অন্যায় শিক্ষার্থীদের শাস্তি শিক্ষককে

জাতীয় পর্যায়ে যেকোন পরীক্ষার প্রবেশ পত্রে বিশেষ নির্দেশনায় স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকে একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার সময় কি নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন আর কি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। তার মধ্যে সব থেকে বড় উল্লেখযোগ্য সম্প্রতি সময়ে মোবাইল ফোন। কোন প্রকার মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না যেমন প্রবেশ পত্রে লেখা থাকে তারপরও পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক শিক্ষিকারা সচেতন করার লক্ষে সবাইকে মৌখিক ভাবে নিষেধও করেন। এরপরও যারা বিশেষ কৌশলে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করেন তাদেরকে পরীক্ষা শুরুর আগে জমা দেওয়ার জন্যও বলে সচেতন করে দেন। এতো কিছুরপরও যারা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে শিক্ষা বোর্ডের।

এসএসসি পরীক্ষা থেকে মাস্টার্স শেষ বর্ষ পর্যন্ত একই ভাবে পরীক্ষার কার্যক্রম চলে। এমনকি বিশেষ কোন পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা মোবাইল নিয়ে অপরাধ করে উল্টো সেটা শিক্ষকের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে শিক্ষকের নামে একের পর এক অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে শিক্ষককে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা জানান, ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ বর্ষের হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরীক্ষা ছিল। আর ওই পরীক্ষা হল পরিদর্শনের দায়িত্বে ছিলেন মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রফিকুল ইসলম। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণপর বিভিন্ন রুম ঘুরে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেন যাদের সঙ্গে মোবাইল আছে তারা শিক্ষকের টেবিলে জমা রাখা হোক। অন্যথায় পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না। পরবর্তীতে মোবাইল ফোন আনার অপরাধে কয়েকজন শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি হলে থাকা ৪০ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাপত্র (খাতা) নিয়ে নেন। আর খাতা ফেরত দেওয়ার কথা বলে পরীক্ষার্থীদের রুমে আটকে রাখা হয়। ওই ঘটনায় তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ হয়েছিল।

ওই ঘটনার রেশ ধরে ১৪ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকে আবারো বিক্ষোভ শুরু করে তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষাপত্র নিয়ে যাওয়া ও পরীক্ষার্থীদের হলে আটকে রাখার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমরা রফিকুল ইসলামকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছি। এ সমস্ত অভিযোগের নিস্পত্তি হওয়ার আগে পর্যন্ত রফিকুল ইসলাম কলেজের এবং কোনো বোর্ড পরিক্ষার দায়িত্বে থাকবেন না। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারিশ করবো যাতে শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হয়।’

তবে শিক্ষার্থীদের অন্যায় প্রতিবাদ ও দাবির বিরুদ্ধে শিক্ষকের কোন প্রকার মন্তব্য গ্রহণ করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা আছে সেখানে মোবাইল ফোন এনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ তাদের কিছুই বলেনি। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে বরং শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেন শিক্ষকেরা।

সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ মোদক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা হলে যাওয়া সম্পন্নভাবে অপরাধ। এর জন্য শিক্ষক তাদের বহিস্কার করতে পারেন। তবে শিক্ষক তাদের খাতা আটকে না রেখে সাথে সাথে বহিস্কার করে দিতে পারতেন। এভাবে তাদের অকথ্যভাষা কথা বলা কিংবা বাজে মন্তব্য করতে পারেন না।

সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ বদিউর রহমান বলেন, মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করা নিয়ম বর্হিভূত। এটা শিক্ষার্থীদের অনেক বড় অপরাধ। সেই জন্য তিনি পদক্ষেপ নিতেই পারেন।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রবেশ পত্রের পিছনে লেখা আছে পরীক্ষা হলে কেউ মোবাইল ফোন আনতে পারবে না। কিন্তু গত তিনদিন এ বিষয়ে সকল শিক্ষার্থীদের সর্তক করার পরও চতুর্থদিন বিভিন্ন রুমের ২৮জন পরীক্ষার্থী অ্যান্ডুয়েড মোবাইল নিয়ে আসে। তাদের মোবাইলে বইয়ের কপি পাওয়া গেলে ওইদিনের পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি। তবে তারা অন্য যেসব অভিযোগ তুলছে সেসবই মিথ্যা।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের অপরাধ লুকাতেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছেন। কারণ তারা নিজেরাও জানে যে অপরাধ করেছে।

এর আগে বুধবার সকালে তোলারাম কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্ররা ওই বিক্ষোভ দেখান। ওই সময়ে তারা শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বহিষ্কার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পুনরায় পরিক্ষা নেয়ার জন্য সুপারিশ ও সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে সকল ছাত্র ছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ে (গর্ভমেন্ট গার্লস স্কুল হিসেবে পরিচিত) মাস্টার্স পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষল পরিদর্শনের দায়িত্বে ছিলেন মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রফিকুল ইসলম। তখন তিনি মোবাইল ফোন আনার অপরাধে কয়েকজন শিক্ষার্থীর খাতা নিয়ে নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তিনি হলে থাকা সকল শিক্ষার্থীর ফোন নিয়ে নেন। তখন ৪০জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষাপত্র রেখে দেন পরীক্ষক নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এসময় আটকে রাখা হয়েছিল।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ হয়েছিল। ওই ঘটনার রেশ ধরে বুধবার সকাল থেকে আবারো বিক্ষোভ শুরু হয়।

মো. আব্দুল আহাদ নামের শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষককে বহিষ্কারের জন্য আমরা সকল শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সহ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও এডিসিকে চিঠি দিয়েছি। এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে জানানো হবে।’

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য প্ররোচনা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ বিষয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রুবিনা জাহান বলেন, ‘আমি অনেক কান্নাকাটি করি এবং স্যারকে বলি যে আমায় আজ পরিক্ষা দিতে না দিলে আমি মরে যাবো। তখন স্যার আমায় বলেন যে, তুই আত্মহত্যা কর তাহলে তোর সাথে আমিও ফেমাস হয়ে যাবো।’

নুসরাত জাহান নামের এক পরিক্ষার্থী নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমাদের ভালোভাবে বলা হয়েছে যে ফোন যাদের কাছে আছে তারা দিয়ে যাও, আমরা সবাই তখন ফোন দিয়ে দিয়েছি। তখন তিনি আমাদের খাতা নিয়ে নেন এবং পরে দিয়ে দিবেন বলেও আর দেননি। যখন এ বিষয়ে অন্যরা প্রতিবাদ করেন তখন পুরো ক্লাসের খাতা নিয়ে নেন তিনি। এসময় তিনি এক শিক্ষার্থীর গায়েও হাত তুলেন।’


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও