৪০ পরীক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখার ঘটনায় ডিসিকে স্মারকলিপি

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:০০ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার



৪০ পরীক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখার ঘটনায় ডিসিকে স্মারকলিপি

নারায়ণগঞ্জে মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষায় ৪০ পরীক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখা সহ লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তিন দফা দাবীতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা। ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে গিয়ে তারা এ স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তির জন্য অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও কেন্দ্র বাতিল করে পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবীতে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এই তিন দফা দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন পরীক্ষার্থীরা।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সমন্বয়ে শীঘ্রই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগ প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

গত ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর একটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টাসের শেষ বর্ষের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজ সহ বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা ওই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শুরুর সাথে সাথেই উপকেন্দ্র নিয়ন্ত্রক ও সরকারি মহিলা কলেজের সহকারি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন হলে প্রবেশ করে মোবাইল ফোন সাথে রাখা ৪০ পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র কেড়ে নিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন প্রায় চার ঘন্টা আটকে রাখেন। পরীক্ষার্থীরা ক্ষমা চেয়ে উত্তরপত্র ফেরত দেয়ার অনুরোধ করলে ওই কলেজ শিক্ষক দুই শিক্ষার্থীকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করা সহ কয়েকজন ছাত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেন। ওইদিন থেকে পরীক্ষার্থীরাসহ দুই সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের স্থায়ী অপসারন ও পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবীতে তিনদিন যাবত আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও