সুন্দর হাতের লেখা শেখার পদ্ধতি নারায়ণগঞ্জ কলেজে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মঙ্গলবার

সুন্দর হাতের লেখা শেখার পদ্ধতি নারায়ণগঞ্জ কলেজে

‘এ বি সি ডি সহ ইংরেজি বর্ণমালার বড় অক্ষর ও ছোট অক্ষরগুলো একের পর এক একটি খাতায় লাইন অনুযায়ী কাঠ পেন্সিল দিয়ে লিখে চলেছে শিক্ষার্থীরা। শুধু অক্ষর নয় কয়েকটি বাক্যও রয়েছে। তবে প্রতিটি অক্ষর ও বাক্যের লেখার ধরণ বিভিন্ন। যারা এগুলো লিখছে তারা হলো নারায়ণগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সুন্দর হাতের লেখার পদ্ধতি শিখছি।’

১২ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ২০৪ নাম্বার কক্ষে কিভাবে হাতের লেখা সুন্দর করতে হয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অর্ধশতাধিক ছাত্রীকে ওই পদ্ধতি শেখানো হয়। ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ কলেজের সার্বিক সহযোগিতায় তাদের বিনামূল্যে ওই প্রশিক্ষণ দেন ক্যালিগ্রাফি শিক্ষক অনুপ কুমার দাস। মঙ্গলবার সহ এখন পর্যন্ত ৪টি কর্মশালায় প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে ওই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম মাহুয়া মৌ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘লিখতে পারি তবে সুন্দর করে নয়। তাই স্যারের কাছ থেকে সুন্দর হাতের লেখার পদ্বতি শিখছি। দুইটি কর্মশালা করেছি একটি বাংলা আর আজ ইংরেজি। এতো সহজ পদ্বতিতে হাতের লেখা সুন্দর করা যায় তাই শিখতেও ভালো লাগছে।’’

ইমা আক্তার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘কলেজে পাঠ্যপুস্তক থেকে পড়ানো হয়। কিন্তু হাতের লেখা সুন্দর করা যে গুরুত্বপূর্ণ কখনো স্যারেরা বলেনি। এমনিতে কয়েকজন বললেও কিভাবে হাতের লেখা সুন্দর করতে হয় সেটা কখনো শিখিয়ে দেয়নি। স্যার আমাদের প্রতিটি অক্ষর করে শিখিয়ে দিচ্ছেন। এতেই শিখার জন্য আমাদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।’’

প্রশিক্ষক অনুপ কুমার দাস বলেন, হাতের লেখা সুন্দর করার পদ্ধতিটা আমার নিজের তৈরি। এ পদ্ধতিতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ৯০ দিন চেষ্টা করলে অবশ্যই একজনের লেখা সুন্দর হয়ে যাবে। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যে কেউ চাইলে এ সহজ পদ্বতিতে হাতের লেখার পরিবর্তন আনতে পারেন। বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের মতোই হাতের লেখা সুন্দর করা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের হাতের লেখাটাই যদি সুন্দর না হয়, কীভাবে হবে বলুন। হাতের লেখা একজন মানুষের বর্ণনা দেয়। তাই সুন্দর হাতের লেখা নিয়েই আমি কাজ করি।’

অনুপ দাস জানান, ১৯৭৮ সালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কলকাতায় চলে যান। কলকাতার নেতাজি নগর কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক পাস করেন।  স্নাতক পড়ার সময়ই নেতাজি ক্যালিগ্রাফি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে হাতের লেখার ওপর ছয় মাসের কোর্স করেন। আর তারপর থেকে সুন্দর হাতের লেখা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে দেশে ফিরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর পাশপাশি হাতের লেখা শেখানোর কাজ চালিয়ে যান তিনি।

তিনি বলেন, আমি সারা দেশে এ হাতের লেখার কৌশলগুলো ছড়িয়ে দিতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের হাতের লেখা সুন্দর হবে এটাই আমার স্বপ্ন। সুন্দর হাতের লেখার একটি বিপ্লব ঘটানোর জন্যই আমি বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফজলুল হক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা ওনার (অনুপ দাস) কাছে কৃতজ্ঞ। সম্পূর্ন অবৈতনিক বা কোন আর্থিক সুযোগ সুবিধা ছাড়া কলেজের শত শত শিক্ষার্থীদের এ হাতের লেখা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ওনার এ আন্দোলনে আমরা জড়িত হতে আমাদের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করেছি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুন্দর হাতের লেখা শেখার মতো ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করেছি। আর তাই ওনার প্রতিটি কর্মশালায় ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

তিনি আরো বলেন, আমার ভাষার প্রতি মমত্ববোধ তখনই প্রকাশিত হবে যদি আমার ভাষা আমি চর্চা করতে পারি, শুদ্ধভাবে বলতে পারি ও সুন্দর হাতের লেখা দেখাতে পারি। এখন কম্পিউটারের যুগে সুন্দর হাতের লেখা কমে যাচ্ছে। তাই আমরা ওনার আন্দোলনের সঙ্গে একমত। আর তাই ভাষার মাসে ভাষার প্রতি মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলার জন্য এ ক্যালগ্রাফি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছি।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও

আরো খবর