শিক্ষক লাঞ্ছিত : ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়ার প্রচেষ্টায় ছাত্র

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৩ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৯ রবিবার

শিক্ষক লাঞ্ছিত : ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়ার প্রচেষ্টায় ছাত্র

ফতুল্লার কুতুবপুর শাহীবাজার এলাকার ১০৯ নং শাহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় চারদিকে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আর এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: পলাশ নিজেকে বাঁচাতে ক্ষমা চেয়েছেন এবং একই সাথে পদত্যাগের জন্য অব্যাহতিপ্রত জমা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ বুধবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তার এক সময়কার ছাত্র মো: পলাশের হাতে শিক্ষক আয়াত আলী লাঞ্ছিত হন। কয়েকদিন ধরে বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ৯ মার্চ শনিবার সকলের কাছে জানাজানি হয়ে যায়। আর এই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ।

এদিকে এই ঘটনায় মানসিকভাবে বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন শিক্ষক আয়াত আলী। স্কুলে ক্লাস নিতে আসলেও আগের চেয়ে কথাবার্তা একটু কম বলেন। দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই তার শিক্ষকতা পেশার সমাপ্তি ঘটতে যাবে। একই সাথে বয়সও হয়ে গেছে অনেক। ফলে জীবন ও চাকরির শেষ মুহূর্তে এসে নিজ ছাত্রের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শরিফা বেগম জানান, ওই দিন প্রথম শিফট ছুটি হওয়ার পর দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস শুরু হয়। এসময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকা মো: পলাশ স্কুলে প্রবেশ করে একটি ক্লাসে যান। ওই সময় ক্লাসটির শিক্ষার্থীরা চিৎকার চেঁচামেচি করছিল। তখন আয়াত আলী স্যারের ক্লাস চলছিল এবং তিনিও ক্লাসেই ঢুকছিলেন। কিন্তু সামান্য দেরি হওয়াতেই মা: পলাশ আয়াত আলী স্যারের উপর ক্ষেপে যান।

একই সাথে মো: পলাশ স্যারের দিকে স্কচস্টেপ দিয়ে মোড়ানো স্কেল নিয়ে স্যারের দিকে তেড়ে যান এবং ডাস্টার দিয়ে স্যারের কপালে আঘাত করার চেষ্টা করতে থাকেন। এসময় অন্যান্য শিক্ষকরা ছুটে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এই ঘটনা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে এবং ইউএনও অফিসেও জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে কয়েকদিন ধরে চুপ থাকলেও এই ঘটনার বিচার চান স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও আয়াত আলী সহ অন্যান্য শিক্ষকরা। আয়াত আলী জানান, আমার জীবনে কখনও এরকম ঘটনা ঘটেনি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

অন্যদিকে এই লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় চারদিকে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকে নিজেকে বাঁচাতে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: পলাশ স্যারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের জন্য অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু এই ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে অনেকেই নাটক বলে অভিহিত করেছেন এবং নিজেকে বাঁচানোর ফন্দি হিসেবে ধরে নিয়েছেন।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও