প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত

বন্দর করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৫১ পিএম, ৫ মে ২০১৯ রবিবার

প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হাজী আব্দুল মালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল গনিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে। নিজের মেয়ের পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে আবদুল গনির দিকে তেড়ে যান হারুন অর রশিদ। এক পর্যায়ে তাকে চপেটাঘাত সহ শারীরিক লাঞ্ছিত করেন। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের এমন আচরণে স্কুলে থাকা সকলেই হতভম্ব হয়ে পরেন এবং বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পরলে শিক্ষার্থীরা এসে সেখানে প্রতিবাদ শুরু করেন।

৫ মে রোববার বেলা ১১টায় ওই ঘটনার তড়িঘড়ি করে তখন কোন কারণ ছাড়াই স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও এভাবেই প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হন হারুন অর রশিদ। কিন্তু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া থাকার কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বেলা ১১টায় হারুন অর রশীদ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনির কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় তিনি তার মেয়ের এসএসসি রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে তর্কে লিপ্ত হন। অভিভাবক সদস্যের উচ্চবাচ্যে পাশের শিক্ষক সভাকক্ষ ও আশপাশে থাকা অনেকেই ছুটে আসেন। এক পর্যায়ে হারুন অর রশীদ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের দিকে তেড়ে যান এবং তাকে চপেটাঘাত করেন।

তাৎক্ষনিকভাবে গণমাধ্যম কর্মীরা প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনির মোবাইলে ফোন করলে হারুন অর রশীদ তার কক্ষে গায়ে হাত তুলেছেন বলে স্বীকার করে বলেন, এটা নিয়ে কমিটির সবাই বসেছি, দেখি কি সমাধান হয়।

এদিকে দুপুরে সরেজমিনে স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিষয়টি নিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছাড়াও স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বৈঠক বসিয়েছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মইনুল হাসান বাপ্পি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ এবং প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনি।

গণমাধ্যমকর্মীরা প্রধান শিক্ষকের সাথে একা কথা বলতে চাইলেও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনিকে চরম ভীত অবস্থায় দেখা গেছে।

তিনি তখন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান, হারুন অর রশীদ আগে থেকেই আমার উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তিনি আমার সাথে তার মেয়ের এসএসসি’র রেজিস্ট্রেশন এর বিষয়ে কথা বলতে এসে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার তুলে আমাকে মারতে উদ্যত হলে তার ছোট ভাই তাকে নিবৃত্ত করেন।

এসময় হারুন অর রশীদ প্রধান শিক্ষকের টেবিল চাপড়িয়ে উচ্চবাচ্য করেছেন বলেও প্রধান শিক্ষক জানান।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মইনুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমি স্কুলে এসেছি এবং বিষয়টি হাতাহাতির ঘটনা ছিলনা বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ জানান, উভয় পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমাধানে পৌছেছেন। তবে প্রধান শিক্ষকের সাথে বাজে ব্যবহার করে থাকলে সেটি ঠিক হয়নি।

তবে এব্যাপারে অভিযুক্ত সদস্যের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে সে ব্যাপারে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

অপরদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত হারুন অর রশীদ স্কুল কমিটির কোন সভাতেই উপস্থিত থাকেন না। এর আগেও গত বছর স্কুল কমিটির এক সদস্য একজন সিনিয়র শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছিল।

বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরাও শুনেছি কিন্তু কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিভাগ : শিক্ষাঙ্গন


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও